ঢাকা শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

এসএসসির পুনর্নিরীক্ষার ফল প্রকাশ

পাস ৪,৫৮৫ জন
এসএসসির পুনর্নিরীক্ষার ফল প্রকাশ

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার খাতা পুনর্নিরীক্ষার ফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে একযোগে এই ফল প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, খাতা পুনর্নিরীক্ষার পর সারা দেশে নতুন করে ৪ হাজার ৫৮৫ জন শিক্ষার্থী ফেল থেকে পাস করেছেন এবং ৩ হাজার ৭৯ জন শিক্ষার্থী নতুন করে জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন। বোর্ড ও শিক্ষা সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশে মোট ৪ লাখ ২ হাজার ৫২ জন শিক্ষার্থী খাতা পুনর্নিরীক্ষার জন্য আবেদন করেছিলেন। তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মোট ১০ লাখ ৫৬ হাজার ১৫৮টি উত্তরপত্র বা স্ক্রিপ্ট পুনর্নিরীক্ষণ করা হয়। এই মূল্যায়নের ফলে মোট ২৭ হাজার ৮৩৬ জন শিক্ষার্থীর গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে এবং ৫৫ হাজার ২৫৯টি স্ক্রিপ্টের নম্বর পরিবর্তিত হয়েছে।

বোর্ডভিত্তিক পুনর্নিরীক্ষার বিস্তারিত চিত্র

ঢাকা বোর্ড: মোট ৩ লাখ ৬৪ হাজার ১৮৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৯৪ হাজার চালক বা পরীক্ষার্থী আবেদন করেন। মোট ২ লাখ ৭৭ হাজার ৬৬৫টি স্ক্রিপ্ট পুনর্নিরীক্ষণ করে ৮ হাজার ৯৯৯ জনের গ্রেড এবং ২১ হাজার ৬৯ জনের নম্বর পরিবর্তন হয়েছে। এই বোর্ডে নতুন করে ৩৩৭ জন ফেল থেকে পাস করেছেন এবং ৯০৬ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন।

রাজশাহী বোর্ড: ১ লাখ ৭৬ হাজার ৮৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩৯ হাজার ৭৬২ জন আবেদন করেন। মোট ৯৮ হাজার ৭১০টি স্ক্রিপ্ট দেখে ৬৩১ জনের গ্রেড ও ১ হাজার ৪০০ জনের নম্বর পরিবর্তন করা হয়। এ বোর্ডে ১১১ জন ফেল থেকে পাস করেছেন এবং ৭৭ জন নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন।

কুমিল্লা বোর্ড: ১ লাখ ৪৫ হাজার ৮৩৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩৫ হাজার ৯২৯ জন আবেদন করেন এবং ৯১ হাজার ৪৯৪টি স্ক্রিপ্ট দেখা হয়। এতে ২ হাজার ১৫৫ জনের গ্রেড ও ৪ হাজার ৭০ জনের নম্বর পরিবর্তিত হয়। নতুন করে ৩৩৬ জন ফেল থেকে পাস করেছেন এবং ২০৭ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন।

যশোর বোর্ড: মোট ১ লাখ ৩২ হাজার ৯৪০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৮ হাজার ৮৬২ জন আবেদন করেন। ৭৪ হাজার ৭১৭টি স্ক্রিপ্ট পুনর্নিরীক্ষণ করে ১ হাজার ৬৮৪ জনের গ্রেড এবং ১ হাজার ৭৪৪ জনের নম্বর পরিবর্তন হয়েছে। এ বোর্ডে ৩৮০ জন ফেল থেকে পাস করেছেন এবং ১৮২ জন নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন।

চট্টগ্রাম বোর্ড: ১ লাখ ৩০ হাজার ২১৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩৯ হাজার ৭৯৮ জন আবেদন করেন। মোট ১ লাখ ১৪ হাজার ৭০৬টি খাতা দেখে ১ হাজার ১৮৫ জনের গ্রেড এবং ২ হাজার ৯৭৫ জনের নম্বর পরিবর্তন করা হয়। এতে ১৯০ জন ফেল থেকে পাস করেছেন এবং ৮৩ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন।

বরিশাল বোর্ড: ৮০ হাজার ৪৫৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৭ হাজার ২৮৩ জন আবেদন করেন। ৫০ হাজার ২৯৩টি স্ক্রিপ্ট পুনর্নিরীক্ষণ করে ১ হাজার ৫ জনের গ্রেড ও ৩ হাজার ১১৮ জনের নম্বর পরিবর্তিত হয়। এ বোর্ডে ৭৯ জন ফেল থেকে পাস করেছেন এবং নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১১২ জন।

সিলেট বোর্ড: ৮৯ হাজার ৭৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২০ হাজার ৭৮৩ জন আবেদন করেন। মোট ৫০ হাজার ৭১৩টি স্ক্রিপ্ট দেখে ১ হাজার ২৮৬ জনের গ্রেড এবং ২ হাজার ৫৮৭ জনের নম্বর পরিবর্তন করা হয়। এ বোর্ডে ১৮৬ জন ফেল থেকে পাস করেছেন এবং ১২১ জন নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন।

দিনাজপুর বোর্ড: ১ লাখ ৮০ হাজার ৭৫২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩৭ হাজার ছিয়ানব্বই জন আবেদন করেন। ৮৯ হাজার ২৮৬টি খাতা পুনর্নিরীক্ষণ করে ৩ হাজার ৩৫০ জনের গ্রেড এবং ৫ হাজার ৬৩৬ জনের নম্বর পরিবর্তিত হয়। এ বোর্ডে ৮৬৭ জন ফেল থেকে পাস করেছেন এবং ২৭৫ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন।

ময়মনসিংহ বোর্ড: ১ লাখ ৫ হাজার ২৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৭ হাজার ৬৭৬ জন আবেদন করেন। ৭১ হাজার ৬৬টি স্ক্রিপ্ট পুনর্নিরীক্ষণ করে ৫ হাজার ৩২১ জনের গ্রেড এবং ৬ হাজার ৫০৮ জনের নম্বর পরিবর্তন হয়েছে। এই বোর্ডে সবচেয়ে বেশি ১ হাজার ১৮০ জন শিক্ষার্থী ফেল থেকে পাস করেছেন এবং নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৭৭৭ জন।

মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড: মোট ২ লাখ ৯৬ হাজার ৯৮২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪০ হাজার ১২০ জন আবেদন করেন। ১ লাখ ৩ হাজার ৫০৩টি স্ক্রিপ্ট পুনর্নিরীক্ষণ করে ১ হাজার ৫৪৯ জনের গ্রেড এবং ৫ হাজার ৯৪৪ জনের নম্বর পরিবর্তিত হয়। এতে ২৫৫ জন ফেল থেকে পাস করেছেন এবং ২৯৩ জন নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন।

কারিগরি শিক্ষা বোর্ড: ১ লাখ ২৭ হাজার ৯৬৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২০ হাজার ৩০৭ জন আবেদন করেন। ৩৪ হাজার ৩০৫টি স্ক্রিপ্ট পুনর্নিরীক্ষণ করে ৬৬৭ জনের গ্রেড এবং ১ হাজার ১৭২ জনের নম্বর পরিবর্তন হয়েছে। এই বোর্ডে ৬৬৪ জন ফেল থেকে পাস করেছেন এবং নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪৬ জন।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত