
একদিকে গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট, অন্যদিকে জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি এক লাফে ২০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এতে নিত্যপণ্যের বাজার, গণপরিবহন ও ব্যক্তিগত যাতায়াত থেকে শুরু করে কৃষি ও ব্যবসা-বাণিজ্যে বাড়তি খরচের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। রাজধানীর বাজারে গতকাল পর্যন্ত এর তাৎক্ষণিক বড় প্রভাব দেখা না গেলেও ব্যবসায়ী ও বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, কয়েক দিনের মধ্যে পরিবহন ব্যয় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিত্যপণ্যের দামেও এর প্রভাব পড়তে পারে। ফলে এমনিতেই চাপে থাকা মানুষের সংসার খরচ আরও বাড়ার শঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। হঠাৎ জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ঘটনায় সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের আশঙ্কা, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সরাসরি বা পরোক্ষভাবে প্রায় সব পণ্য ও সেবার ওপর পড়বে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় মূল্য সমন্বয় করা ছাড়া কোনো বিকল্প ছিল না।
রাজধানীর বনশ্রীর বাসিন্দা হাফিজুর রহমান গুলশানের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, 'তেলের দাম বৃদ্ধি মানে সবজি থেকে শুরু করে সব ধরনের পণ্যের দাম বাড়বে। খাবারের দাম বাড়বে, চালের দাম বাড়বে, মাছের দাম বাড়বে। বাসা থেকে বের হলেই যাতায়াতের খরচও বাড়বে।' তিনি বলেন, কিছুদিন আগেও তেলের দাম বাড়ানো হয়েছিল। তখন তেল পেতে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। এখন আবার গ্যাসের সংকট চলছে। সিএনজি স্টেশনে যেমন গ্যাস নেই, তেমনি বাসাবাড়িতেও সংকট রয়েছে। এর মধ্যে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় মানুষের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হলো। হাফিজুর রহমানের মতে, সামনে বোরো মৌসুম। সেচের খরচ বাড়লে ধানের উৎপাদন ব্যয়ও বাড়বে। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত চালের বাজারেও পড়তে পারে। ইঞ্জিনিয়ার ফজলুর রহমান বলেন, 'এই প্রভাব বড়লোক থেকে শুরু করে সব শ্রেণির মানুষের ওপর পড়বে। এমনিতেই মানুষের ত্রাহি অবস্থা। গত দেড়-দুই বছর মানুষ অনেক ভোগান্তির মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে তেলের দাম বাড়লে সেই ভোগান্তি আরও বাড়বে।' তিনি আশঙ্কা করেন, ঢাকায় পরিবার নিয়ে বসবাস করা কিছুটা সচ্ছল মানুষও ব্যয় সামলাতে হিমশিম খাবেন। তাদের কেউ কেউ পরিবারকে গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে নিজে ঢাকায় মেসে থাকার মতো সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হতে পারেন।
বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব নেই, শঙ্কা বাড়ছে : জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে গতকাল দেখা গেছে, চাল, ডাল, আটা, ময়দা, চিনি, ভোজ্যতেল, সবজি, মাছ ও মাংসসহ অধিকাংশ পণ্যের দামে তাৎক্ষণিক বড় কোনো পরিবর্তন হয়নি।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে গতকাল যে পণ্য বিক্রি হয়েছে, তার বড় অংশ আগেই পরিবহন করে আনা হয়েছে। ফলে নতুন জ্বালানি দরের পরিবহন খরচ এখনও পুরোপুরি হিসাবের মধ্যে আসেনি। আগামী কয়েক দিনে নতুন চালানে বাড়তি পরিবহন ব্যয় যুক্ত হলে পণ্যের দামে তার প্রভাব পড়তে পারে। মালিবাগ বাজারের সবজি বিক্রেতা আবু হোসেন বলেন, 'আজ আলাদা করে দাম বাড়ানোর মতো পরিস্থিতি হয়নি। তবে পাইকারি বাজার থেকে আগামী দু-এক দিনে বেশি দামে পণ্য কিনতে হলে খুচরা দামও বাড়াতে হবে।' রামপুরার এক মুদি দোকানি বলেন, পরিবহন খরচ শুধু একবার পণ্য আনার সময় বাড়বে না। পাইকার থেকে খুচরা বিক্রেতা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে ব্যয় বাড়তে পারে। শেষ পর্যন্ত সেই বাড়তি খরচ পণ্যের দামে যুক্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রথম ও সরাসরি প্রভাব পড়বে পরিবহন খাতে। কৃষিপণ্য উৎপাদনের পর তা জেলা বা মোকামে নেওয়া, সেখান থেকে রাজধানীর পাইকারি বাজারে আনা এবং পরে খুচরা দোকানে পৌঁছানো— প্রতিটি ধাপেই পরিবহনের প্রয়োজন হয়। ফলে ডিজেলের বাড়তি দাম কয়েকটি ধাপে ছড়িয়ে গিয়ে বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ঘোষণার পর মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। কারণ জ্বালানির দামের সঙ্গে মানুষের জীবন-জীবিকার প্রায় সব বিষয়ই আন্তঃসম্পর্কিত। তার ভাষ্য, শিল্প-কলকারখানা, অফিস-আদালত, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বাসাবাড়িসহ সব ক্ষেত্রেই খরচ বাড়বে। বাড়তি সেই ব্যয় শেষ পর্যন্ত ভোক্তার পকেট থেকেই যাবে। এর ফলে মানুষের সামগ্রিক খরচ বাড়বে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও আরেক দফা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পরিবহন ব্যয় বাড়বে : জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরে। এখান থেকে অভ্যন্তরীণ পণ্য পরিবহনে গুনতে হচ্ছে বাড়তি ভাড়া। স্থানভেদে ট্রাকপ্রতি ভাড়া পাঁচ থেকে আট হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে বলে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা বলছেন। বেনাপোল বন্দর দিয়ে প্রতিদিন শত শত আমদানি-রপ্তানি ট্রাক চলাচল করে। প্রতিদিন অন্তত পাঁচ শতাধিক ট্রাক বন্দর থেকে আমদানি পণ্য নিয়ে দেশের অভ্যন্তরে যায়। পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়েছেন। গতকাল সোমবার সকাল থেকেই ভাড়া নিয়ে ট্রাক চালকদের সঙ্গে আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের বাকবিতণ্ডা চলছে। বেনাপোল ল্যান্ড পোর্ট ইমপোর্টার অ্যান্ড এক্সপোর্টার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মতিয়ার রহমান বলেন, 'দেশের সবচেয়ে বড় স্থলবন্দর হল বেনাপোল। প্রতিদিন এই বন্দর দিয়ে সাড়ে ৩০০ থেকে ৪০০ ট্রাক পণ্য আমদানি এবং এক থেকে দেড়শ ট্রাক পণ্য রপ্তানি হয়ে থাকে। তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে আমদানি-রপ্তানি পণ্য আমরা দেশের বিভিন্ন জেলা ও দেশের বাইরে পাঠাতে পারছি না। 'তেলের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ট্রাক মালিকরাও ভাড়া বাড়িয়েছেন পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকা। এতে করে ব্যবসায়ীরা চরম বিপাকে পড়েছেন।'
রাইড শেয়ারিংয়েও বাড়বে খরচ : জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় উবার-পাঠাও চালকরাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের ভাষ্য, আগের দফায় তেলের দাম বাড়লেও রাইড শেয়ারিংয়ের ভাড়া সেই অনুপাতে বাড়েনি। ফলে বাড়তি ব্যয় নিজেদের আয় থেকেই সামলাতে হয়েছে। এবার তেলের দাম আরও বাড়ায় ভাড়া সমন্বয় না করলে টিকে থাকা কঠিন হবে।
সাদেক হোসেন নামের এক পাঠাও-উবার বাইকচালক বলেন, বনশ্রী থেকে গুলশান-১ বা ২ এলাকায় যেতে আগে দেড়শ' থেকে ২০০ টাকা ভাড়া পাওয়া যেত। এখন ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা না হলে চালানো কঠিন হবে।
তিনি বলেন, তার মোটরসাইকেল এক লিটার অকটেন বা পেট্রোলে সর্বোচ্চ প্রায় ৪০ কিলোমিটার চলে। এখন প্রতি লিটার জ্বালানির দাম ১৬৫ টাকা। 'ভাড়া না বাড়িয়ে রাইড শেয়ারিং করলে আমি চলব কীভাবে?'— প্রশ্ন তার।
আরেক চালক সাইফুল ইসলাম বলেন, 'এবারের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো আমাদের ওপর পেরেক ঠুকে মারার মতো। এমনিতেই আয়-ব্যয়ের হিসাব মেলাতে কষ্ট হয়। দাম বাড়লে কীভাবে রাইড শেয়ারিং করব, বুঝতে পারছি না।' তবে ভাড়া বাড়লে যাত্রীদেরও ব্যয় বাড়বে বলে মনে করছেন চালকরা। এতে আগে নিয়মিত রাইড শেয়ারিং ব্যবহার করতেন— এমন অনেক মানুষও খরচ কমানোর জন্য বিকল্প যাতায়াত বেছে নিতে পারেন।
রেন্ট-এ-কারেও বাড়তি চাপ
গ্যাস সংকটের কারণে রেন্ট-এ-কার চালকদের অনেক সময় জ্বালানি তেলের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। ফলে তেলের দাম বৃদ্ধিতে তারাও বাড়তি ব্যয়ের মুখে পড়েছেন। রেন্ট-এ-কার চালক সোহেল রানা বলেন, 'এখন গ্যাস সংকট চলছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে দুই-তিনশ' টাকার গ্যাস পাই। অনেক সময় তেলের ওপর নির্ভর করতে হয়। এখন তেলের দাম যেভাবে বাড়ল, তাতে আমরাও কীভাবে চলব, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।' তার মতে, ভাড়া বেড়ে গেলে সাধারণ মানুষও বেড়াতে যাওয়ার ক্ষেত্রে খরচের বিষয়টি নতুন করে বিবেচনা করবে। ফলে রেন্ট-এ-কার ব্যবসাতেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
কেন বাড়ল তেলের দাম : আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) বড় অঙ্কের লোকসানের কথা উল্লেখ করে সরকার নতুন করে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে।
রোববার রাতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, নতুন দাম সোমবার রাত ১২টা থেকে কার্যকর হবে। প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১১৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ থেকে ১৫৫ টাকা, পেট্রল ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৪৫ থেকে ১৬৫ টাকা করা হয়েছে। জ্বালানি বিভাগের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে মার্চ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য এবং ফ্রেইট বা জাহাজভাড়া উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এ পরিস্থিতি এখনও অব্যাহত রয়েছে।
এর আগে গত ১৮ এপ্রিল ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১৫ টাকা বাড়িয়ে ১১৫ টাকা করা হয়েছিল। আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা সত্ত্বেও এরপর প্রায় পাঁচ মাস দেশে জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়।
জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম দ্বিগুণের বেশি বাড়লেও জনস্বার্থে এতদিন দেশে দাম বাড়ানো হয়নি। এতে মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত বিপিসির প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে। একই সঙ্গে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম এখনও কম বলেও দাবি করা হয়েছে।
জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় ছাড়া কোনো বিকল্প ছিল না
মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম অব্যাহতভাবে বৃদ্ধির কারণেই দেশে দাম বাড়াতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্য সংকট প্রতিদিন নতুন মাত্রায় আবির্ভূত হচ্ছে। তেলের দাম বাড়ছে, জাহাজভাড়া বাড়ছে। এই মুহূর্তে জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় করা ছাড়া কোনো বিকল্প ছিল না। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি নিয়ে গতকাল সোমবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। এ সময় তিনি বলেন, উপায়হীন না হলে এই অজনপ্রিয় সিদ্ধান্তটি সরকার নিতে চাইবে না কিংবা নেবে না।
জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি টাকা লোকসান দিতে হয়েছে। বিশ্ববাজারের সঙ্গে মিল রেখে দাম সমন্বয় না করায় প্রতি মাসে ৩ হাজার ৮১৩ কোটি টাকা লোকসান করতে হয়েছে। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের যে কষ্ট হবে, রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে তা উপলব্ধি করতে পারেন তিনি। তাই জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী। অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানান, বছরে প্রায় ৭০ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করতে হয়, যার মধ্যে ৪৫ লাখ টন ডিজেল। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি লিটার ডিজেলের মূল্য গড়ে ২০৫ টাকা। এ দফায় সমন্বয়ের আগে ডিজেল বিক্রি হয়েছে ১১৫ টাকায়। দাম সমন্বয়ের পরও প্রতি লিটারে লোকসান করতে হচ্ছে ৭০ টাকা। আগে এ লোকসান ছিল ৯০ টাকা। দাম সমন্বয় না হলে শুধু ডিজেলে বছরে ৪০ হাজার কোটি টাকা লোকসান দিতে হতো। সব তেল মিলে এটি হতো ৫০ হাজার কোটি টাকা। জ্বালানি তেলে ভর্তুকি অব্যাহত রাখলে সামাজিক নিরাপত্তার কার্যক্রম ভীষণভাবে বিঘ্নিত হতে পারে উল্লেখ করে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বলেন, অসচ্ছল পরিবারগুলোকে পারিবারিক কার্ডের আওতায় আনতে চায় সরকার। আসলে কোনো বিকল্প সামনে না থাকায় তেলের দাম বাড়ানোর মতো এ রকম একটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হয়েছে। দেশবাসী সেটি উপলব্ধি করবেন বলে আশা করেন তিনি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতিবেশী দেশ ভারতের কলকাতায় ডিজেলের মূল্য ১৩৪ টাকা। মিয়ানমারে ১৬৪ টাকা, নেপালে ১৬১ টাকা, শ্রীলঙ্কায় ১৭৯ টাকা, থাইল্যান্ডে ১৫১ টাকা, ভিয়েতনামে ১৩৭ টাকা। বাংলাদেশেই জ্বালানি তেলের মূল্য সর্বনিম্ন পর্যায়ে ছিল। জ্বালানি তেল প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোতে পাচার হওয়ার একটা বড় ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোতে যাতে তেল পাচার না হয়, তাই সরকারকে এই জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় করতে হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, জনগণ এটি বুঝতে সক্ষম হবে। তবে দাম বাড়ানোর অভিঘাত সহনীয় পর্যায়ে রাখতে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়কে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান তিনি।