
রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র থেকে বাংলাদেশ সচিবালয় সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নতুন করে গতি পেয়েছে। আবদুল গণি রোডের বর্তমান অবস্থান থেকে সচিবালয় শেরেবাংলা নগরের পুরোনো আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার মাঠে স্থানান্তরের পরিকল্পনা করছে সরকার। নতুন প্রশাসনিক কেন্দ্র ঘিরে সড়ক যোগাযোগের উন্নয়ন, যানবাহন চলাচল সহজ করা এবং দাপ্তরিক কার্যক্রমের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা নিশ্চিত করার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে সচিবালয়কেন্দ্রিক যানজট, পার্কিং সংকট ও সীমিত পরিসরে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার যে সমস্যা তৈরি হয়েছে, স্থানান্তরের মাধ্যমে তার সমাধান খুঁজছে সরকার।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, নতুন সচিবালয়ের জন্য শেরেবাংলা নগরের পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে ভবনগুলোর অবস্থান নির্ধারণ করে প্রাথমিক নকশা প্রস্তুত করেছে গণপূর্ত অধিদপ্তর। প্রস্তাবিত প্রকল্পে কয়েক হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনাও সামনে এসেছে। তবে স্থানান্তরের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত, প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়নের সময়সীমা নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া বাকি রয়েছে। গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহেরও জানিয়েছেন, বিষয়টি চূড়ান্ত হয়নি; এ নিয়ে প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় তোলার প্রস্তুতি চলছে।
সচিবালয় স্থানান্তরের সম্ভাব্যতা নিয়ে সরকারের এই উদ্যোগ এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন রাজধানীর যানজট নগরজীবনের অন্যতম বড় সংকটে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন সকালে অফিস শুরুর সময় এবং বিকেলে কর্মদিবস শেষে সচিবালয় ও আশপাশের সড়কে যানবাহনের চাপ বাড়ে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে সেবা নিতে আসা মানুষ, বিভিন্ন সংস্থার গাড়ি এবং অন্যান্য যানবাহনের চাপে সড়কে ধীরগতি তৈরি হয়। সচিবালয় সরিয়ে নেওয়া হলে এই এলাকার যানবাহনের একটি অংশের চাপ কমতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে রাজধানীর সামগ্রিক যানজট কতটা কমবে, তা নির্ভর করবে নতুন স্থানের যোগাযোগব্যবস্থা এবং বিদ্যমান এলাকার সড়ক ব্যবস্থাপনার ওপর।
যানজটের চাপে স্থবির প্রশাসনিক এলাকা : বর্তমান সচিবালয় রাজধানীর পুরান পল্টন ও আবদুল গণি রোডসংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত। এর আশপাশে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তর, বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা ও সেবাপ্রতিষ্ঠান এবং ব্যস্ত সড়ক। সচিবালয়ে প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় যানবাহনের চাপ বাড়লে আশপাশের সড়কেও তার প্রভাব পড়ে। বিশেষ করে অফিসের ব্যস্ত সময়ে চলাচলে ধীরগতি তৈরি হওয়ায় সাধারণ যাত্রীদের বাড়তি সময় ব্যয় করতে হয়। রাজধানীর এই অংশে সড়কের পরিসর সীমিত হওয়ায় অতিরিক্ত গাড়ির চাপ সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। সচিবালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত গাড়ি, সরকারি যানবাহন এবং বিভিন্ন কাজে আসা মানুষের পরিবহন একসঙ্গে চলাচল করায় পরিস্থিতি জটিল হয়। কোথাও গাড়ি থামিয়ে রাখা, রাস্তার পাশে পার্কিং এবং প্রবেশপথে যানবাহনের সারি তৈরি হলে স্বাভাবিক চলাচলও ব্যাহত হয়। শুধু যানজট নয়, বর্তমান সচিবালয়ে জায়গার স্বল্পতা এবং পুরোনো ভবনগুলোর অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতাও স্থানান্তরের আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বসার জায়গা, সভাকক্ষ, নথিপত্র সংরক্ষণ এবং গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য পর্যাপ্ত পরিসর নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বর্তমান স্থানে নতুন ভবন নির্মাণের পরিবর্তে অন্য জায়গায় সমন্বিত প্রশাসনিক কেন্দ্র গড়ে তোলার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। এতে একদিকে দাপ্তরিক কার্যক্রমের জন্য পরিকল্পিত অবকাঠামো তৈরি করা সম্ভব হবে, অন্যদিকে বর্তমান সচিবালয়কে ঘিরে তৈরি হওয়া চাপ কমানোর সুযোগ সৃষ্টি হবে।
পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে নতুন প্রশাসনিক কেন্দ্র : সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, শেরেবাংলা নগরের পুরোনো আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার মাঠকে নতুন সচিবালয়ের সম্ভাব্য স্থান হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এ জন্য গণপূর্ত অধিদপ্তর ভবনগুলোর অবস্থান নির্ধারণ করে একটি প্রাথমিক লে-আউট বা বিন্যাস পরিকল্পনা তৈরি করেছে। প্রস্তাবিত প্রকল্পের ব্যয় প্রায় ৩ হাজার ৪০০ কোটি টাকা থেকে ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকার মধ্যে ধরা হয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রাথমিক পরিকল্পনায় নতুন সচিবালয়কে একটি সমন্বিত প্রশাসনিক কমপ্লেক্স হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। ভবনগুলোর বিন্যাস, অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ, যানবাহন প্রবেশ ও বের হওয়ার ব্যবস্থা এবং পার্কিংয়ের জায়গা পরিকল্পিতভাবে নির্ধারণ করার কথা রয়েছে। বর্তমান সচিবালয়ের মতো জায়গার সংকট যেন নতুন স্থাপনাতেও তৈরি না হয়, সে বিষয়টি শুরু থেকেই বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রস্তাবিত স্থানে নতুন ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে জাতীয় সংসদ ভবন ও শেরেবাংলা নগরের সামগ্রিক স্থাপত্যিক বিন্যাসের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। তবে ভবনের চূড়ান্ত নকশা, প্রকল্পের ব্যয়, নির্মাণের সময়কাল এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন না হওয়া পর্যন্ত প্রস্তাবিত পরিকল্পনাকে চূড়ান্ত বলা যাচ্ছে না। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সচিবালয় স্থানান্তরের পাশাপাশি বর্তমান সচিবালয়ের ভবিষ্যৎ ব্যবহার নিয়েও আলোচনা রয়েছে। সেখানে পুরান ঢাকার কিছু সরকারি দপ্তর বা নিম্ন আদালত স্থানান্তরের সম্ভাবনা নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। তবে কোন দপ্তর কোথায় যাবে, কীভাবে ভবনগুলো ব্যবহার করা হবে এবং এ বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে, তা চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হওয়া প্রয়োজন।
যানজট কমাতে নতুন সড়কের পরিকল্পনা : সচিবালয় স্থানান্তরের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো নতুন প্রশাসনিক কেন্দ্রের সঙ্গে রাজধানীর অন্যান্য এলাকার যোগাযোগ নিশ্চিত করা। শুধু ভবন নির্মাণ করে সচিবালয় সরিয়ে নিলেই যানজটের সমস্যার সমাধান হবে না। নতুন স্থানে কর্মকর্তা-কর্মচারী, সরকারি যানবাহন, সেবাপ্রার্থী ও অন্যান্য মানুষের যাতায়াতের জন্য পর্যাপ্ত সড়ক এবং কার্যকর প্রবেশ ও নির্গমনব্যবস্থা থাকতে হবে। প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় নতুন সচিবালয়কে কেন্দ্র করে সড়ক যোগাযোগ উন্নয়নের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। এ ক্ষেত্রে সংযোগ সড়ক, চক্রাকার সড়ক এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য যোগাযোগ অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা আলোচনায় রয়েছে। এসব ব্যবস্থা বাস্তবায়িত হলে নতুন প্রশাসনিক এলাকার ভেতরে গাড়ির চলাচল সুশৃঙ্খল রাখা এবং প্রধান সড়কে যানবাহনের চাপ ছড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তবে শেরেবাংলা নগর ও আগারগাঁও এলাকায় এরইমধ্যে জাতীয় সংসদ ভবনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ফলে সেখানে নতুন করে সচিবালয় স্থাপন করা হলে বিদ্যমান সড়কগুলোর ওপর চাপ বাড়ার আশঙ্কাও রয়েছে। এ কারণে স্থানান্তরের পরিকল্পনার সঙ্গে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, সড়কের ধারণক্ষমতা, গণপরিবহনের সংযোগ এবং পার্কিং সুবিধার সমন্বিত মূল্যায়ন জরুরি। নগর পরিকল্পনা সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন প্রশাসনিক কেন্দ্রের অবস্থান নির্ধারণের সময় শুধু বর্তমান যানজট বিবেচনা করলে চলবে না। আগামী কয়েক দশকে ওই এলাকায় জনসংখ্যা, যানবাহন ও সরকারি-বেসরকারি স্থাপনার সংখ্যা কতটা বাড়তে পারে, সেটিও হিসাব করতে হবে। অন্যথায় এক এলাকার যানজট কমাতে গিয়ে অন্য এলাকায় নতুন করে যানজটের কেন্দ্র তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকবে।
স্থানান্তরের সিদ্ধান্তে এখনো বাকি আনুষ্ঠানিকতা : সচিবালয় স্থানান্তরের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চললেও প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ অতিক্রম করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা, প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই, ব্যয় নির্ধারণ, প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক অনুমোদন এবং উন্নয়ন প্রকল্প হিসেবে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা। এরপরই নির্মাণকাজ শুরুর সময়সীমা ও স্থানান্তরের সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ করা সম্ভব হবে। ১৩ অক্টোবর গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহেরের বক্তব্যেও বিষয়টি চূড়ান্ত না হওয়ার কথা উঠে এসেছে। তিনি জানান, সচিবালয় স্থানান্তরের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় তোলার বিষয়ে আলোচনা চলছে। ফলে বর্তমান অবস্থায় নতুন সচিবালয়ের নির্মাণকাজ শুরু বা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে স্থানান্তর সম্পন্ন হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
অন্যদিকে, নতুন সচিবালয়ের সম্ভাব্য অবস্থান নিয়ে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আপত্তির বিষয়টিও সামনে এসেছে। পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণামাঠ হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় সেখানে নতুন প্রশাসনিক কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ফলে জমির ব্যবহার, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন এবং বিকল্প ব্যবস্থার বিষয়গুলোও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে বিবেচনায় নিতে হবে।
যানজট কমাতে সমন্বিত পরিকল্পনা জরুরি : রাজধানীর যানজটের পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। সড়কের তুলনায় যানবাহনের সংখ্যা বেশি হওয়া, অপরিকল্পিত পার্কিং, গণপরিবহনের বিশৃঙ্খলা, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার কেন্দ্রীভূত অবস্থান এবং সড়ক ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতা এ সমস্যাকে জটিল করে তুলেছে। তাই সচিবালয় স্থানান্তরকে যানজট নিরসনের একটি সম্ভাব্য পদক্ষেপ হিসেবে দেখা গেলেও একে একক সমাধান হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। বিশেষ করে নতুন সচিবালয়ে যাতায়াতের জন্য গণপরিবহন সহজলভ্য করা, ব্যক্তিগত গাড়ির ওপর নির্ভরতা কমানো, পর্যাপ্ত পার্কিং নিশ্চিত করা এবং প্রবেশ ও বের হওয়ার পথে যানবাহনের চাপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা থাকতে হবে। পাশাপাশি বর্তমান সচিবালয় এলাকার সড়ক, ফুটপাত ও যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থাও নতুন করে সাজানো প্রয়োজন।
স্থানান্তরের পর পুরোনো সচিবালয় এলাকায় নতুন করে কোন ধরনের স্থাপনা গড়ে উঠবে, সেটিও যানজটের ভবিষ্যৎ পরিস্থিতিতে প্রভাব ফেলবে। সেখানে নতুন কোনো জনসমাগমকেন্দ্রিক স্থাপনা তৈরি হলে বর্তমান যানজটের চাপ অন্যভাবে ফিরে আসতে পারে। তাই বর্তমান এলাকার ভবিষ্যৎ ব্যবহার নির্ধারণ এবং নতুন প্রশাসনিক কেন্দ্রের পরিকল্পনা একই সঙ্গে করতে হবে। সব মিলিয়ে সচিবালয় স্থানান্তরের উদ্যোগ রাজধানীর যানজট কমানো, প্রশাসনিক কার্যক্রমের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা তৈরি এবং সরকারি দপ্তরগুলোর অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা দূর করার একটি সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তবে সেই সম্ভাবনা বাস্তবে রূপ দিতে হলে স্থান নির্বাচন থেকে শুরু করে সড়ক যোগাযোগ, পরিবহনব্যবস্থা, পরিবেশ, জমির ব্যবহার ও দীর্ঘমেয়াদি নগর পরিকল্পনা— সবকিছুর সমন্বয় প্রয়োজন। পরিকল্পিতভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা গেলে বর্তমান সচিবালয় এলাকাসহ রাজধানীর প্রশাসনিক ও যোগাযোগব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। অন্যথায় যানজটের চাপ এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় স্থানান্তরিত হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাবে।