
দেশে ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ ও ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে আরও ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে হামের উপসর্গে পাঁচজন এবং ডেঙ্গুতে চারজন প্রাণ হারিয়েছেন। গতকাল শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ৮২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হওয়ার পর মারা গেছে ১০৪ শিশু। এ নিয়ে হাম ও হামের উপসর্গে মোট শিশুমৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৮৬।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ১৬৪ জন এবং নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ৪৬ জনের।
সব মিলিয়ে এ সময়ে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ২১০ জন। গত ১৫ মার্চ থেকে ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬১৫ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ১ লাখ ৮০ হাজার ২ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে ২ লাখ ১১ হাজার ৪০ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। এ সময়ে হাম শনাক্ত হয়েছে ২২ হাজার ৯৭২ জনের।
ডেঙ্গুতে আরও ৪ মৃত্যু : দেশে গত এক দিনে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ১৮১ জন। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট ৩৩৫ জনের প্রাণ গেল। হাসপাতালে ভর্তি রোগী বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮ হাজার ৪৪০ জনে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, নতুন ভর্তি রোগীদের মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকার হাসপাতালগুলোতে ৬৬ জন ভর্তি হয়েছেন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকার হাসপাতালে ভর্তি হন ১২৫ জন। এ দুই সিটির বাইরে ঢাকা বিভাগের অন্যান্য হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ২১৯ জন।
অন্য বিভাগের মধ্যে বরিশালে ১২৭ জন, চট্টগ্রামে ২৪২ জন, খুলনায় ১৪০ জন, ময়মনসিংহে ৯২, রাজশাহী ৯৯ এবং রংপুরে ৭১ জন ভর্তি হয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর তথ্য রাখে ২০০০ সাল থেকে। এর মধ্যে ২০২৩ সালে এ রোগ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি ১ হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যুও হয় ওই বছর। গেল বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয় চার শতাধিক মানুষের, শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২ হাজারের মতো।