ঢাকা শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

তুরাগে মিলল বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তার লাশ

তুরাগে মিলল বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তার লাশ

তুরাগ নদ থেকে বিমান বাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। উত্তরখান থানার ডিউটি অফিসার শাহীনুর জামান বৃহস্পতিবার সকালে বলেন, বুধবার বিকালে টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ি তুরাগ নদ থেকে তাহসিফ সাউরীর লাশ উদ্ধার করে। উত্তরখান থানার এসআই অনুপম দাস বলেন, 'লাশ ভেসে ওঠার পর থানা পুলিশ সেখানে যায়। এলাকাটি আমাদের থানার শেষ সীমান্তে পড়েছে। বিষয়টি নৌ পুলিশের হওয়ায় তারা এসে লাশ উদ্ধার করে নিয়ে যায়।' নৌ-পুলিশের টঙ্গী ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন বলেন, জাতীয় জরুরিসেবা ৯৯৯-এ খবর পেয়ে বুধবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে তুরাগের রাজাবাড়ীঘাট এলাকা থেকে বিমান বাহিনীর সাবেক ওই কর্মকর্তার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। 'আমরা তার লাশ ভাসমান অবস্থায় পাই। তার কাছে একটা মোবাইল ফোন ছিল। সেটির মাধ্যমে আমরা তার পরিচয় শনাক্ত করি।'

ফিরোজ উদ্দিন বলেন, 'তার শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই। মৃত্যুর কারণ জানতে লাশ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সেখানে ময়নাতদন্ত হবে।'

নৌ-পুলিশের তাৎক্ষণিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লাশের পরনে সাদা পাজামা ও কালো জামা ছিল। হাতে ঘড়ি ও পকেটে আইফোন পাওয়া যায়। মুখে হালকা দাড়ি ছিল। তার কাছে পাওয়া ফোনের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত করা হয়।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কুর্মিটোলা বিমানবন্দর থেকে উড়োজাহাজে করে দেশত্যাগের যে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে, সেটি তাহসিফ সাউরী ধারণ করেছিলেন বলে আলোচনা রয়েছে। গত জুলাইয়ে এক পডকাস্টে তাহসিফকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, ওই ভিডিও ধারণ করায় বিমান বাহিনী থেকে তার চাকরি গেছে কি না। জবাবে তিনি বলেছিলেন, 'হতে পারে।'

ওই পডকাস্ট অনুষ্ঠানে জানতে চাওয়া হয়, 'আমার দেশ' পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই ভিডিওর বিষয়ে বিমান বাহিনী তদন্ত করতে গিয়ে বাহিনীর ভেতরে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা 'র'-এর সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পায় এবং যারা 'র'-এর সংশ্লিষ্ট ছিলেন, তাদের মধ্যে আপনার নামও আসে।

জবাবে তাহসিফ বলেন, 'আমার মনে হয়, 'আমার দেশ' যে প্রতিবেদনটা করেছে, এটা তারা আসলে কোনো প্রোপাগান্ডা সার্ভ করছে।' গত বছরের ৪ আগস্ট 'আমার দেশ'-এর প্রতিবেদনটি প্রকাশ হওয়ার পর আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক প্রতিবাদলিপিতে বলে, প্রতিবেদনে তাহসিফসহ দুই কর্মকর্তাকে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর কথা বলা হয়েছে। 'বাস্তবে' এ দুই কর্মকর্তাকে ভিন্ন প্রেক্ষাপটে বিমান বাহিনীর প্রচলিত আইন ও বিধিমালার আওতায় যথাযথ প্রক্রিয়ায় অবসরে পাঠানো হয়েছে, যার সঙ্গে ওই অভিযোগের কোনো সম্পর্ক নেই।

'বন্ধুস্থানীয় ছোটভাইয়ের' ডাকে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন তাহসিফ : ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার দেশত্যাগের 'ভিডিও ধারণকারী' হিসেবে আলোচনায় থাকা বিমান বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরী নিখোঁজ হওয়ার আগে তার এক বন্ধুস্থানীয় ছোটভাইয়ের ডাকে বাসা থেকে বেরিয়েছিলেন। প্রয়াতের বাবা এনায়েতুল করিম বলছেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দ্বীপ নামে একজন তাহসিফকে ফোন করে ডেকে নিয়েছিলেন। গত বুধবার বিকালে তুরাগের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তার ভাসমান লাশ উদ্ধার করে টঙ্গী নৌ পুলিশ ফাঁড়ি। তার বাসা উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের রাজউক অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের 'করবী' ভবনে। গত বুধবার দুপুরে ওই ভবনের সামনে তাহসিফ সাউরীর বাবা সাংবাদিকদের বলেন, বিমান বাহিনী থেকে তাহসিফের চাকরি যাওয়ার কারণ হিসেবে 'শৃঙ্খলাজনিত' বলা হয়েছিল। এরপর তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এবং নেত্র নিউজে কাজ করেছিলেন বলে জানান বাবা এনায়েতুল। তিনি বলেন, 'সে ছিল অত্যন্ত জেন্টল প্রকৃতির ও সামাজিক। সিনিয়র-জুনিয়র সবার সাথে তার ভালো সম্পর্ক ছিল।' গত মঙ্গলবার তাহসিফ দিনভর মায়ের সঙ্গে কেনাকাটা করেছিলেন বলে জানান এনায়েতুল করিম। তিনি বলেন, সারাদিন মায়ের সাথে ছিল, শপিং করেছে। আমার জন্যও কিছু শপিং করেছে। সন্ধ্যার পরে জুনিয়র বন্ধু-ছোটভাই বাসার নিচ থেকে ডাকে; বলেছে, 'কথা বলবে'। 'ওর মাকে বলে যে, 'দ্বীপ আসছে, ওর সঙ্গে কথা বলে আসি'। এটা বলে সে নিচে যায়, আর ফেরেনি। এর মধ্যে ওর মা অনেকবার চেষ্টা করেছে, কিন্তু ফেরে নাই।' রাত ১টা ৩৫ মিনিটের দিকে তাহসিফ তার মায়ের মোবাইলে একটা বার্তা পাঠিয়ে জানায়, তিনি বাসায় ফিরছেন। কিন্তু ওই বার্তায় তাকে ব্যস্ত মনে হয়েছিল বলে ভাষ্য বাবার। এনায়েতুল করিম বলেন, এরপর থেকে আমরা আর তাকে লোকেট করতে পারিনি। গতকাল দুপুরে আমি তুরাগ থানায় গিয়েছিলাম, তখন আমাকে বলা হয়েছিল— 'এরকম কোনো ব্যাড নিউজ নাই'। গত বুধবার বিকাল সোয়া ৫টার দিকে উত্তরখান থানা থেকে ফোন করে লাশ উদ্ধারের কথা জানানো হয় বলে জানান তিনি। ছেলের বিষয়ে এনায়েতুল বলেছেন, যেখান থেকে লাশ উদ্ধার হয়েছে, সেদিকে কখনো তার ছেলে যেতেন বলে তাদের ধারণায় নেই। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে সবার বড় ছিলেন তাহসিফ। তার নিজের একটি বাইক ছিল; কিন্তু মাসখানেক আগে দুর্ঘটনায় পড়ার পর তাকে বাইক চালাতে বারণ করেছিল পরিবার। তবে তাহসিফ মঙ্গলবার বাইক নিয়েই বের হন বলে জানান তার এক স্বজন। তিনি বলেন, 'বাইকটি বাসার গ্যারেজে নেই।' তাকে ডেকে নেওয়া বন্ধুস্থানীয় ছোটভাই দ্বীপের সঙ্গে পরিবারের তরফে কথা হয়েছে। দ্বীপ তাদের বলেছেন, তারা একসঙ্গে রাতে খাওয়াদাওয়া করেছেন। পরে তাহসিফকে তার বাসার এলাকাতেই রেখে দ্বীপ ফিরে গিয়েছিলেন।

তাহসিফের পরিবারের ওই স্বজন বলেন, আমরা দ্বীপের সঙ্গে কথা বলেছি। কিন্তু তাহসিফের বাইকটি মিসিং। 'পুলিশ আমাদের কাছে বাইকের ডিটেইলস, ছবি চেয়েছে। আমরা দিয়েছি, পুলিশ এটা বলতে পারবে।' লাশ উদ্ধারের ঘটনাস্থলটি উত্তরখান থানায় পড়েছে। সেখানকার ওসি হাবিবুর রহমান বলেছেন, 'তারা এখনও কোনো অভিযোগ পাননি, আর বিষয়টি দেখছে নৌ পুলিশ।' নৌ পুলিশের টঙ্গী ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন বলেন, এ ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি। আর ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবগুলো বিষয়ই তারা খতিয়ে দেখছেন। ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কুর্মিটোলা বিমানবন্দর থেকে উড়োজাহাজে করে দেশত্যাগের যে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে, সেটি তাহসিফ সাউরী ধারণ করেছিলেন বলে আলোচনা রয়েছে। গত জুলাইয়ে এক পডকাস্টে তাহসিফকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, ওই ভিডিও ধারণ করায় বিমান বাহিনী থেকে তার চাকরি গেছে কি না। জবাবে তিনি বলেছিলেন, 'হতে পারে।' ওই পডকাস্ট অনুষ্ঠানে জানতে চাওয়া হয়, 'আমার দেশ' পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই ভিডিওর বিষয়ে বিমান বাহিনী তদন্ত করতে গিয়ে বাহিনীর ভেতরে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা 'র'-এর সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পায় এবং যারা 'র'-এর সংশ্লিষ্ট ছিলেন, তাদের মধ্যে আপনার নামও আসে। জবাবে তাহসিফ বলেন, 'আমার মনে হয়, 'আমার দেশ' যে প্রতিবেদনটা করেছে, এটা তারা আসলে কোনো প্রোপাগান্ডা সার্ভ করছে।' গত বছরের ৪ অগাস্ট 'আমার দেশ'-এর প্রতিবেদনটি প্রকাশ হওয়ার পর আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক প্রতিবাদলিপিতে বলে, প্রতিবেদনে তাহসিফসহ দুই কর্মকর্তাকে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর কথা বলা হয়েছে। 'বাস্তবে' এ দুই কর্মকর্তাকে ভিন্ন প্রেক্ষাপটে বিমান বাহিনীর প্রচলিত আইন ও বিধিমালার আওতায় যথাযথ প্রক্রিয়ায় অবসরে পাঠানো হয়েছে, যার সঙ্গে ওই অভিযোগের কোনো সম্পর্ক নেই।

'তাহসিফকে হত্যা করে লাশ ফেলে দেওয়া হয়েছে', দাবি বাবার : বিমান বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরীকে হত্যা করে লাশ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন তার বাবা একেএম এনায়েতুল করিম। গতকাল বৃহস্পতিবার ময়নাতদন্তের পর ছেলের লাশ বুঝে নিয়ে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গের সামনে সাংবাদিকের তিনি এ কথা বলেন। সেখানে এক সাংবাদিকের প্রশ্নে তিনি বলেন, "আত্মহত্যার তো প্রশ্নই আসে না, সে অত্যন্ত 'প্লেজেন্ট পার্সোনালিটির' একজন মানুষ। আর একজন কমিশনড অফিসার তো অনেক কষ্ট করে তাকে এটা অর্জন করতে হয়। সে বিভিন্ন কোর্স করে তারপরে...এরকম একজন অফিসার— এরকম কোনো ব্যাপার ছিল না। "হত্যা করা হয়েছে, তাকে নিয়ে নদীতে ফেলে দিয়েছে বলে আমি সাসপেক্ট করি।" ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার দেশত্যাগের 'ভিডিও ধারণকারী' হিসেবে আলোচনায় থাকা বিমান বাহিনীর ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছিল। গত বুধবার বিকালে তুরাগের রাজাবাড়ীঘাট এলাকা থেকে তার ভাসমান লাশ উদ্ধার করে টঙ্গী নৌ পুলিশ ফাঁড়ি। তার বাসা উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের রাজউক অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের 'করবী' ভবনে।

তাহসিফের বাবা বলেন, 'আমি কিছু বুঝিয়ে বলতে পারব না। কেননা, সে তো একটা ভালো ছেলে, মায়ের সঙ্গে শপিং-টপিং করে, আমার জন্যও শপিং করে করেছে। তো সে তার আম্মুকে স্বাভাবিকভাবেই বলে নামল যে— 'আম্মু একটু বন্ধু আসছে, আমি কথা বলে আসছি'। ওখানে তো আত্মহত্যার প্রশ্ন আসছে না।' ছেলের সঙ্গে নিজের 'বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক' থাকার কথা তুলে ধরে বাবা এনায়েতুল বলেন, 'আমি বাবা হিসেবে তার সঙ্গে খুব ফ্রেন্ডলি ছিলাম। আমার সঙ্গে অনেক কিছু সে শেয়ার করত। আমাকে প্রায় বলত যে, বাবা আমি তো কোথাও কোনো অ্যাফেয়ার্সে অ্যাড হতে পারি নাই, আমার জন্য মেয়ে তোমরা দেখছ?' গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দ্বীপ নামে একজন তাহসিফকে ফোন করে বাসা থেকে ডেকে নিয়েছিলেন। এর আগে দিনভর মায়ের সঙ্গে কেনাকাটা করেছেন। সিসিটিভি ভিডিওতে সন্ধ্যায় নিজের বাইক নিয়ে বাসা থেকে বের হতে দেখা গেছে। তবে বাইকটির হদিস পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে পরিবার। সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ময়নাতদন্তের পর বিকাল ৪টার দিকে তাহসিফের লাশ তার বাসার নিচে নেওয়া হয়। এ সময় স্বজনদের অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। স্থানীয় মসজিদে জানাজা শেষে উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরের গোরস্তানে তাকে দাফনের কথা রয়েছে।

যা আছে সুরতহাল প্রতিবেদনে : ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার দেশত্যাগের 'ভিডিও ধারণকারী' হিসেবে আলোচনায় থাকা বিমান বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সুরির শরীরে আঘাতের চিহ্ন নেই বলে সুরতহাল প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। টঙ্গী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মোস্তাফিজুর রহমান এ প্রতিবেদনে নাক দিয়ে রক্ত বের হতে দেখার কথা লিখেছেন। গতকাল বুধবার বিকাল পৌনে ৬টার দিকে তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাটের পাশ থেকে ভাসমান অবস্থায় তাহসিফ সুরির লাশ উদ্ধারের কথা সুরতহাল প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। অপমৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ ঘটনাস্থলে বা মরদেহের কাছে গিয়ে মৃতদেহের বাহ্যিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে থাকে। তাহসিফের সুরতহাল প্রতিবেদনের বর্ণনা অনুযায়ী, মৃত ব্যক্তির উচ্চতা আনুমানিক ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি। মাথার চুল কালো, মুখে ছোট ছোট কালো দাড়ি ও গোঁফ ছিল। চোখ ও মুখ বন্ধ ছিল। নাক দিয়ে রক্ত বের হতে দেখা গেছে। তার দুই হাত মাথার সামনে বাঁকানো ও মুষ্টিবদ্ধ অবস্থায় ছিল। পেট ফোলা ছিল। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুক, পেট, পিঠ, দুই পা ও যৌনাঙ্গ স্বাভাবিক ছিল। শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। উদ্ধারের সময় তার পরনে কালো রঙের ফুলহাতা কাবলি শার্ট ও সাদা রঙের ট্রাউজার ছিল।

নৌ পুলিশের তাৎক্ষণিক প্রতিবেদনেও বলা হয়, মৃত ব্যক্তির হাতে একটি ঘড়ি ও পকেটে একটি আইফোন পাওয়া যায়। ফোনের মাধ্যমে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ পাঠানো হয় সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল মর্গে। ২৮ বছর বয়সি তাহসিফ উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরে থাকতেন। তার বাড়ি খুলনার সোনাডাঙ্গায়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কুর্মিটোলা বিমানবন্দর থেকে উড়োজাহাজে করে দেশত্যাগের যে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে, সেটি তাহসিফ সুরি ধারণ করেছিলেন বলে আলোচনা রয়েছে। গত জুলাইয়ে এক পডকাস্টে তাহসিফকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, ওই ভিডিও ধারণ করায় বিমান বাহিনী থেকে তার চাকরি গেছে কি না। জবাবে তিনি বলেছিলেন, 'হতে পারে।' ওই পডকাস্ট অনুষ্ঠানে জানতে চাওয়া হয়, 'আমার দেশ' পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই ভিডিওর বিষয়ে বিমান বাহিনী তদন্ত করতে গিয়ে বাহিনীর ভেতরে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা 'র'-এর সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পায় এবং যারা 'র'-এর সংশ্লিষ্ট ছিলেন, তাদের মধ্যে আপনার নামও আসে।

জবাবে তাহসিফ বলেন, 'আমার মনে হয়, 'আমার দেশ' যে প্রতিবেদনটা করেছে, এটা তারা আসলে কোনো প্রোপাগান্ডা সার্ভ করছে।' গত বছরের ৪ আগস্ট 'আমার দেশ'-এর প্রতিবেদনটি প্রকাশ হওয়ার পর আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক প্রতিবাদলিপিতে বলে, প্রতিবেদনে তাহসিফ সুরিসহ দুই কর্মকর্তাকে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর কথা বলা হয়েছে। 'বাস্তবে' এ দুই কর্মকর্তাকে ভিন্ন প্রেক্ষাপটে বিমান বাহিনীর প্রচলিত আইন ও বিধিমালার আওতায় যথাযথ প্রক্রিয়ায় অবসরে পাঠানো হয়েছে, যার সঙ্গে ওই অভিযোগের কোনো সম্পর্ক নেই।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত