
দেশে আবারও ষড়যন্ত্র হচ্ছে মন্তব্য করে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের মতো শক্ত জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, "একাত্তরের মতো, নব্বইয়ের মতো, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের মতো আবারও দাঁতভাঙা জবাব আমরা দিতে চাই। আজকের এই র্যালি হোক বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে অর্জিত গণতন্ত্রকে পাহারা দেওয়ার দিন।"
গতকাল শনিবার জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপি আয়োজিত 'সার্বভৌমত্ব শোভাযাত্রা'র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কাকরাইল মোড় থেকে ফকিরাপুল পর্যন্ত বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের হাজার হাজার নেতা-কর্মী-সমর্থকদের উপচে পড়া ভিড়ে পুরো এলাকা জনসমুদ্রে রূপ নেয়।
নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, "আসুন, বাংলাদেশের সকল স্বাধীনতাকামী মানুষকে নিয়ে আমরা যেকোনো চক্রান্তের এক হয়ে জবাব দিই। দেশি-বিদেশি কোনো চক্রান্ত দিয়ে বাংলাদেশের মানুষকে দাবিয়ে রাখা যাবে না।"
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে তিনি বলেন, "৭ নভেম্বর হচ্ছে জাতীয় ঐক্যের দিন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার দিন এবং মানুষের বাকস্বাধীনতা ফিরিয়ে আনার দিন। যেভাবে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর অপশক্তি পরাজিত হয়েছিল, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টও একইভাবে রাজপথের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সেই অপশক্তি পরাজিত হয়েছে।"
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান সতর্ক করে বলেন, "অতীতের পরাজিত শক্তি আবারও চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছে। তারা আবারও দেশের সার্বভৌমত্বকে ক্ষুণ্ণ করতে চায় এবং 'আমি-ডামি' নির্বাচনের সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনতে চায়। কিন্তু যে দেশের মানুষ ১৯৭১, ১৯৭৫ এবং ২০২৪ সালে ইতিহাস গড়েছে, সেই দেশের মানুষকে কোনো চক্রান্ত দিয়ে দমিয়ে রাখা সম্ভব নয়।" বক্তব্যকালে তিনি স্লোগান দেন, "দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ; সবার আগে বাংলাদেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ।"
বিকেল সোয়া ৩টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের অস্থায়ী মঞ্চ থেকে শোভাযাত্রাটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। শোভাযাত্রাটি কাকরাইল, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, বাংলামোটর ও ফার্মগেট হয়ে বিকেল সাড়ে ৪টায় মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে গিয়ে শেষ হয়।
এর আগে দুপুর ১২টা থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে রঙিন ক্যাপ, গেঞ্জি এবং দলীয় ও জাতীয় পতাকা হাতে ছোট ছোট মিছিল নিয়ে নয়াপল্টনে জড়ো হতে থাকেন নেতা-কর্মীরা। তাদের হাতে ছিল বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছবি সংবলিত ব্যানার-প্ল্যাকার্ড।
অনুষ্ঠানে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমেদ, এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ শীর্ষ নেতারা।
যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, প্রাসঙ্গিক থাকবে ৭ নভেম্বর: সাত নভেম্বরকে 'বাংলাদেশের ম্যাগনা কাটা' বলে বর্ণনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি বলেছেন, "সাতই নভেম্বর হলো স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসের ম্যাগনা কাটা। দলমত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান কিংবা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী—যারা এই বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে জন্মগ্রহণ করেছেন, নাগরিক হিসেবে সবার একটাই পরিচয়— আমরা বাংলাদেশি। এই পরিচয়ে আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ জাতিতে পরিণত করেছিল।
"ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর আমরা বাংলাদেশি পরিচয় নির্ধারণের জন্য ভিত্তিভূমিও রচনা করেছিল। সুতরাং যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার ঐক্যবদ্ধ বিপ্লবের গুরুত্ব এবং তাৎপর্য ততদিন প্রাসঙ্গিক থাকবে।"
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে শনিবার বিএনসিসি, ক্যাডেট ও স্কাউটদের উদ্দেশে বক্তব্য দিচ্ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি বলেন, "৭ নভেম্বরের নায়ক দেশপ্রেমিক সিপাহী-জনতা। ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যেভাবে দেশের সার্বভৌমত্বের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন, ১৯৭১ সালেও একইভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের জন্য রণাঙ্গনে সম্মুখ সমরে লড়াই করেছেন।
তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "একটি জাতির ইতিহাস কেবল অতীতের স্মৃতিচারণ নয়, সত্য ইতিহাস একটি জাতির আত্মপরিচয়, আত্মমর্যাদা এবং সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ নির্মাণের প্রেরণা।
"আজকের এই আয়োজনের বিশেষত্ব হল— আমাদের হাজার হাজার কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণী যারা এই স্টেডিয়ামে ৭ নভেম্বরকে ঘিরে যেভাবে নির্মোহভাবে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ডিসপ্লে করেছেন; আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, ইতিহাস সচেতন এই প্রজন্ম ৭ নভেম্বরের প্রেরণায় উজ্জীবিত এবং ঐক্যবদ্ধ থাকলে বাংলাদেশ আর পথ হারাবে না।"
সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে ঢাকা সেনানিবাসের আর্মি স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর, রোভার স্কাউট ও স্কাউটরা ডিসপ্লে প্রদর্শন করে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান গ্যালারি থেকে এ মনোমুগ্ধকর আয়োজন দেখেন।
মুক্তিযুদ্ধ, সিপাহী-জনতার বিপ্লব, সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামল, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান প্রভৃতি ঘটনা স্কাউট-শিশু-কিশোররা উপস্থাপন করে। পরে গ্যালারি থেকে মঞ্চে এসে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে দেশের তরুণরা জাতীয়তাবোধে অনুপ্রাণিত নয়, সেই দেশের জনগণের ঐক্য সুদৃঢ় হতে পারে না। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ, ৭৫ সালের ৭ নভেম্বর তাঁবেদার অপশক্তির বিরুদ্ধে সিপাহী-জনতার বিপ্লব, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন কিংবা ২০২৪-এর ফ্যাসিবাদবিরোধী গণঅভ্যুত্থান— প্রতিটি ঐতিহাসিক ঘটনায় আমাদের তারুণ্য প্রমাণ করেছে, বাংলাদেশের স্বার্থের প্রশ্নে তারা কখনই আপস করেনি।
"ভবিষ্যতে আর যাতে কেউ দেশ এবং জনগণের অধিকার হরণ করতে না পারে, দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারে; এটি হোক এবারের ৭ নভেম্বরের প্রধান অঙ্গীকার। এই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের প্রয়োজন জাতীয় ঐক্য। বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক, ভৌগোলিক, রাজনৈতিক বাস্তবতায় জাতীয় ঐক্য সমুন্নত রাখতে হলে আমাদেরকে ৭ নভেম্বরের মতো সিপাহী-জনতার বিপ্লবের চেতনা মনে-প্রাণে ধারণ করতে হবে।"
তারেক রহমান বলেন, "স্বাধীনতা অর্জন একটি ঐতিহাসিক গৌরব; তবে সেই গৌরবের পতাকাকে সমুন্নত রেখে স্বাধীনতাকে অর্থবহ করে রাখা প্রতিটি প্রজন্মের দায়িত্ব। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের দায়িত্ব হলো স্বাধীনতার মূল মন্ত্রকে ধারণ করে একটি নিরাপদ, সমৃদ্ধ, মানবিক এবং মর্যাদাপূর্ণ বাংলাদেশ বিনির্মাণে আত্মনিয়োগ করা।
"অভিভাবক হিসেবে আমাদের দায়িত্ব হলো, তারুণ্যের সকল সম্ভাবনাকে বিকশিত করার প্রয়োজনীয় এবং উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা। বর্তমান সরকার একটি সমৃদ্ধ আগামী বিনির্মাণে বদ্ধপরিকর।"
তারেক রহমান বলেন, "দেশপ্রেমিক, স্বাধীনতাপ্রিয়, গণতন্ত্রপ্রিয় জনগণের কাছে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর তাৎপর্যপূর্ণ এবং গৌরবের দিন। ১৯৭৫ সালের এই দিনে দেশপ্রেমিক সিপাহী-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে সকল চক্রান্ত রুখে দিয়েছিল। দেশের ইতিহাসে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর ছিল বাংলাদেশের শত্রু-মিত্র চিহ্নিত করার দিন।
"১৯৭৫ সালের নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এবং চক্রান্ত চরম আকার ধারণ করেছিল।
এই চক্রান্তের পথ ধরেই দোসরা নভেম্বর দিবাগত মধ্যরাতে তৎকালীন সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমানকে সপরিবারে গৃহবন্দি করা হয়েছিল।
"স্বাধীনতার ঘোষককে কারাবন্দি রেখে দেশের স্বার্থবিরোধী যে চক্রান্ত শুরু হয়েছিল, সিপাহী-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে সেই চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র রুখে দিয়েছিল। এ কারণেই দেশপ্রেমিক জাতীয়তাবাদী, গণতন্ত্রকামী মানুষের কাছে ৭ নভেম্বর জাতীয় ঐক্যের চেতনার বাতিঘর।"
তিনি বলেন, "যারা বাংলাদেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করে রাখতে চেয়েছিল, যারা জনগণের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার হরণ করে দেশে একদলীয় শাসন কায়েম করতে চেয়েছিল, যে অপশক্তি দেশের শৌর্য বীর্য সাহস এবং সম্মানের প্রতীক সশস্ত্রবাহিনীর গৌরবকে ভুলুণ্ঠিত করতে চেয়েছিল ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর দেশপ্রেমিক সিপাহী-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের মাধ্যমে তাদের পরাজয় ঘটেছে। অপশক্তি পরাভূত হয়েছে।"
১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হওয়ার পর সেনাপ্রধানের দায়িত্বে আসেন জিয়াউর রহমান। এরপর মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে সেনাবাহিনীতে অভ্যুত্থান হয়। জিয়া হন গৃহবন্দি।
৭ নভেম্বর জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সঙ্গে যুক্ত মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার কর্নেল তাহেরের নেতৃত্বে পাল্টা অভ্যুত্থানে আটকাবস্থা থেকে মুক্ত হন জিয়া। এর মধ্য দিয়ে তিনি ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন। বিএনপি এই দিনকে 'জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস' হিসেবে পালন করে।
আওয়ামী লীগ সরকারের সময় জাতীয় দিবসের তালিকায় রাখা হয়নি 'জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস'। গত ১৬ এপ্রিল মন্ত্রিসভার বৈঠকে দিবসটিকে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, "৭ নভেম্বরের পরাজিত অপশক্তির ষড়যন্ত্র কখনোই থেমে থাকেনি। ষড়যন্ত্রের পথ ধরে তারা মহাজোটের নামে একজোট হয়ে দেশকে পুনরায় তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল। বিডিআর পিলখানায় পরিকল্পিত সেনা হত্যাযজ্ঞ ঘটিয়ে সেনাবাহিনীর গৌরব এবং মর্যাদাকে ভুলুণ্ঠিত করেছিল। জনগণের সকল গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নিয়ে দেশে ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম করেছিল।
"হাজারো শহীদের প্রাণের বিনিময়ে বীর ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ২০২৪ সালে পুনরায় ৭ নভেম্বরের সেই পরাজিত অপশক্তির পরাজয় ঘটেছে। দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়েছে।
"ফ্যাসিবাদবিরোধী দীর্ঘ আন্দোলনে যারা হতাহত হয়েছেন, ২০২৪ সালের বীর ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানে যারা শহীদ হয়েছেন, আহত হয়েছেন, আজকের এই দিনে আমি তাদের অবদানকেও গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি।"
প্রধানমন্ত্রী বলেন, "১৯৭১ সালের যুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের। ২০২৪ ছিল দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার। দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট যেভাবে সর্বস্তরের মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিল, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরও প্রায় একইভাবে সিপাহী-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে নেমে এসে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ববিরোধী সকল ষড়যন্ত্র রুখে দিয়েছিল।
"সময়ের সাথে সাথে প্রমাণিত হয়েছে, দেশের ইতিহাসে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর ছিল বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পথরেখা নির্ণয়ের দিন। যতবার বাংলাদেশ ৭ নভেম্বরের পথরেখা থেকে বিচ্যুত হয়েছে, ততবার দেশ এবং জনগণের সার্বভৌমত্ব হুমকির সম্মুখীন হয়েছে।"
প্রধানমন্ত্রী বক্তব্যের শেষে বলেন, "৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার বিপ্লবের ঐতিহাসিক এই দিনে দেশপ্রেমিক গণতন্ত্রকামী জনগণের দীপ্ত উচ্চারণ হোক, 'দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।'"
বক্তব্য শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার সহধর্মিণীকে নিয়ে মাঠ ঘুরে গ্যালারিতে বসে থাকা শিক্ষার্থীসহ অতিথিদের হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম শামছুল ইসলাম, সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন, নৌ-বাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল খোন্দকার মেজবাহউল আজীমসহ তিন বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা তারেক রহমানের : জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ৮টায় শেরে বাংলা নগরে জিয়া দম্পতির সমাধিস্থলে যান তাদের জ্যেষ্ঠ ছেলে। প্রধানমন্ত্রী ফুল দিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন এবং ফাতেহা পাঠ করেন। পরে তারেক রহমান বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের নিয়ে দলের তরফে শ্রদ্ধা জানান। তাদের মধ্যে ছিলেন ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আমান উল্লাহ আমান, ফরহাদ হালিম ডোনার, ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আজম খান ও নুরুল ইসলাম মনি।
অন্যদের মধ্যে ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা নাজিম উদ্দিন আলম, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, আশরাফ উদ্দিন উজ্জ্বল, মীর সরফত আলী সপু, নুরুল ইসলাম, হাবিবুর রশিদ হাবিব, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম, উত্তরের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন, মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব এস এম জাহাঙ্গীর, মহিলা দলের আফরোজা আব্বাস, মুক্তিযোদ্ধা দলের ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, যুবদলের এম মোনায়েম মুন্না, স্বেচ্ছাসেবক দলের এস এম জিলানী, কৃষক দলের হাসান জাফির তুহিন ও শহিদুল ইসলাম বাবুল, ছাত্রদলের রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও নাসির উদ্দীন নাছির, উলামা দলের কাজী মো. সেলিম রেজা ও কাজী মোহাম্মদ আবুল হোসেন, তাঁতী দলের আবদুল কালাম আজাদ এবং জাসাসের জাকির হোসেন রোকন। প্রয়াত দুই নেতার আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রীসহ নেতারা।
প্রধানমন্ত্রী সমাধিস্থল ত্যাগ করলে নেতাকর্মীদের ঢল নামে। একে একে বিএনপি মহানগর উত্তর, দক্ষিণ, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, কৃষক দল, মুক্তিযোদ্ধা দল, মহিলা দল, ছাত্রদল, মৎস্যজীবী দল, তাঁতী দল, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব), অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স (অ্যাব), সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ নেতাকর্মীদের নিয়ে আলাদা আলাদাভাবে সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা জানান।
বিকাল ৩টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হবে। দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ শোভাযাত্রা উদ্বোধন করবেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হওয়ার পর সেনাপ্রধানের দায়িত্বে আসেন জিয়াউর রহমান। এরপর মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে সেনাবাহিনীতে অভ্যুত্থান হয়। জিয়া হন গৃহবন্দি। ৭ নভেম্বর পাল্টা অভ্যুত্থানে আটকাবস্থা থেকে মুক্ত হন জিয়া। এর মধ্য দিয়ে তিনি ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন। ১৮ বছর বাদে এবারই প্রথম সরকারিভাবে 'জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস' পালিত হচ্ছে। দিবসটি স্মরণে ভোরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশে দলের কার্যালয়ে দলীয় ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। প্রকাশ করা হয়েছে জিয়াউর রহমানের আলোকচিত্র দিয়ে বানানো রঙিন পোস্টার।