ঢাকা রোববার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

গ্রাম পুলিশের বেতন-ভাতা ও অবসরকালীন সুবিধা বৃদ্ধির ঘোষণা

গ্রাম পুলিশের বেতন-ভাতা ও অবসরকালীন সুবিধা বৃদ্ধির ঘোষণা

গ্রাম পুলিশ সদস্যদের মাসিক বেতন, অবসরকালীন আনুতোষিক, মুঠোফোন ভাতা ও সাপ্তাহিক হাজিরা ভাতাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে দুজন করে নারী গ্রাম পুলিশ নিয়োগ এবং নারী সদস্যদের ছয় মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটি দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথাও জানিয়েছেন তিনি।

গতকাল শনিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে গ্রাম পুলিশ সদস্যদের জাতীয় সমাবেশে এসব ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। তারেক রহমান জানান, গ্রাম পুলিশ সদস্যদের মাসিক বেতন ৭ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার ৫০০ টাকা করা হয়েছে। অন্যদিকে গ্রাম পুলিশ প্রধানের বেতন ৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

অবসরকালীন আনুতোষিকও বাড়ানো হয়েছে। এখন থেকে একজন গ্রাম পুলিশ সদস্য অবসরে গেলে ৭০ হাজার টাকার পরিবর্তে ৮০ হাজার টাকা এবং গ্রাম পুলিশ প্রধান এক লাখ টাকা পাবেন। আগে এ অর্থের পরিমাণ ছিল ৮০ হাজার টাকা। এ ছাড়া প্রত্যেক গ্রাম পুলিশ সদস্য মাসিক ১৫০ টাকা মুঠোফোন ভাতা পাবেন। স্থানীয় থানায় সাপ্তাহিক হাজিরা ভাতা সাধারণ সদস্যদের জন্য ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০০ টাকা এবং গ্রাম পুলিশ প্রধানের জন্য ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬০০ টাকা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জানান, গ্রাম পুলিশের পদবিতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগের 'দফাদার' পদটির নাম পরিবর্তন করে 'গ্রাম পুলিশ প্রধান' এবং 'মহল্লাদার' পদটির নাম পরিবর্তন করে 'গ্রাম পুলিশ' করা হয়েছে। গ্রাম পুলিশ সদস্যদের জীবনমান উন্নয়ন, তাদের পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা এবং তৃণমূল পর্যায়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কাজে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবেই এসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে সড়কের নাম 'গ্রাম পুলিশ সড়ক' রাখার ঘোষণাও দেন প্রধানমন্ত্রী। এসব সড়কের পাশে গাছ লাগানো হবে। গাছের নিচে জন্মানো ঘাস বিক্রির উপযোগী হলে তা বিক্রি করে পাওয়া অর্থ সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ সদস্যদের মধ্যে বিতরণ করা হবে।

গ্রাম পুলিশ সদস্যদের সাইকেল সরবরাহের সময়সীমা পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে তিন থেকে সাড়ে তিন বছর করার বিষয়টি বিবেচনা করতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দিয়েছেন তারেক রহমান।

সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী নিজ নিজ ইউনিয়নে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গ্রাম পুলিশ সদস্যদের আরও দায়িত্বশীল ও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। স্থানীয় মানুষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ থাকায় অপরাধ, অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা কিংবা সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি সম্পর্কে তারা আগেভাগেই তথ্য পেতে পারেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে যেকোনো পরিস্থিতির তথ্য দ্রুত পৌঁছে দিলে গ্রাম পুলিশ সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, 'দেশের প্রতিটি গ্রাম ও প্রতিটি ইউনিয়ন নিরাপদ থাকলে বাংলাদেশও নিরাপদ থাকবে।'

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও অর্থনীতির সঙ্গে গ্রামীণ জনপদের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। দেশের অধিকাংশ মানুষের শিকড় গ্রামে। তাই উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে গ্রামাঞ্চলে শান্তি, নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সামাজিক মূল্যবোধ, সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহমর্মিতা ফিরিয়ে আনার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। গ্রাম পুলিশ সদস্যদের নিরপেক্ষ ও জনবান্ধবভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে স্থানীয় প্রশাসন, দায়িত্বশীল গ্রাম পুলিশ ও সচেতন নাগরিকদের মধ্যে সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, অগ্নিকাণ্ডসহ জরুরি পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে গ্রাম পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালনের প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী।

পাশাপাশি বাড়িঘর, বাজার, সড়ক ও খালের পাড়সহ আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও বর্জ্যমুক্ত রাখতে সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবুজ পরিবেশ নিশ্চিত করতে নিজেরা গাছ লাগানোর পাশাপাশি অন্যদেরও বৃক্ষরোপণে উৎসাহিত করার পরামর্শ দেন।

অনুষ্ঠানে দেশের আট বিভাগের একজন করে মোট আটজন কৃতি গ্রাম পুলিশ সদস্যের হাতে সম্মাননা স্মারক ও পুরস্কারের অর্থ তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. শহিদুল হাসান।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী ও জিয়া রহমান ফাউন্ডেশনের সহ-সভাপতি জুবাইদা রহমান, মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, সেনাপ্রধান, বিমানবাহিনীর প্রধান এবং সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে আসা প্রায় ৪১ হাজার গ্রাম পুলিশ সদস্য এ জাতীয় সমাবেশে অংশ নেন। তাদের উপস্থিতিতে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে বড় ধরনের সমাবেশের সৃষ্টি হয়।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত