ঢাকা সোমবার, ০৯ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

প্রথম ধাপে ভোট ১০৫০ ইউপিতে

প্রথম ধাপে ভোট ১০৫০ ইউপিতে

দেশের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রথম ধাপে দেশের ১ হাজার ৫০টি ইউনিয়ন পরিষদে ভোটগ্রহণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ ধাপে উপজেলা সদরের ইউনিয়নগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য ইউনিয়নেও নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে কোনো নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। অন্যদিকে নাগরিকদের তথ্যভাণ্ডার আরও বিস্তৃত করতে ৬ বছর বয়স থেকেই ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের পরিকল্পনা করছে ইসি। গতকাল রোববার নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব তথ্য জানান ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে। প্রথম ধাপে ১ হাজার ৫০টি ইউনিয়নে ভোটগ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে উপজেলা সদরের ইউনিয়নগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

ইসির এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় সরকার কাঠামোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও তৃণমূল পর্যায়ের প্রতিষ্ঠান ইউনিয়ন পরিষদে নতুন করে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি পাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে। দেশের গ্রামীণ জনপদে নাগরিকসেবা, স্থানীয় উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রমে ইউনিয়ন পরিষদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানে নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি স্থানীয় সরকারব্যবস্থার জন্য তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে প্রথম ধাপে ১ হাজার ৫০টি ইউনিয়নে ভোটগ্রহণের পরিকল্পনা জানানো হলেও নির্বাচনের নির্দিষ্ট তারিখ, তফসিল ঘোষণা কিংবা পরবর্তী ধাপের ইউনিয়নগুলোর বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি ইসির সিনিয়র সচিব। কোন কোন জেলার ইউনিয়ন প্রথম ধাপে নির্বাচনের আওতায় আসবে, সে বিষয়েও এখনও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে নির্বাচন আয়োজনের সময়সূচি ও সার্বিক প্রস্তুতি সম্পর্কে কমিশনের পরবর্তী ঘোষণা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সদর উপজেলার ইউনিয়নগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরিকল্পনার পেছনে প্রশাসনিক ও নির্বাচন ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। সাধারণত একটি বড় নির্বাচনী আয়োজন পরিচালনার ক্ষেত্রে ভোটার তালিকা, ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ, নির্বাচনী কর্মকর্তা নিয়োগ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহের মতো একাধিক বিষয় সমন্বয় করতে হয়। ধাপে ধাপে নির্বাচন আয়োজনের ফলে এসব প্রস্তুতি ব্যবস্থাপনা করা সহজ হতে পারে। তবে এ বিষয়ে কমিশনের পক্ষ থেকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

এদিকে ভবিষ্যতে আর কোনো নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএম ব্যবহার না করার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন আখতার আহমেদ। অর্থাৎ আগামীতে জাতীয় কিংবা স্থানীয় সরকার নির্বাচন— কোনোটিতেই ইভিএম ব্যবহারের পরিকল্পনা নেই কমিশনের। এর ফলে নির্বাচনে ভোটগ্রহণের ক্ষেত্রে প্রচলিত ব্যালট পদ্ধতির ওপরই নির্ভর করতে হবে। তবে অব্যবহৃত ইভিএম মেশিনগুলোর ভবিষ্যৎ কী হবে, সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি নির্বাচন কমিশন। দেশে বিভিন্ন সময়ে নির্বাচনে ব্যবহারের জন্য বিপুলসংখ্যক ইভিএম সংগ্রহ করা হয়েছিল। এসব যন্ত্র সংরক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ কিংবা অন্য কোনো কাজে ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে কি না, তা নিয়ে কমিশনের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা রয়েছে।

ইভিএম নিয়ে কমিশনের এ অবস্থান নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। প্রযুক্তিনির্ভর ভোটগ্রহণের পরিবর্তে আবারও প্রচলিত পদ্ধতিতে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে হবে নির্বাচন কমিশনকে। এতে ব্যালট পেপার ছাপানো, ভোটকেন্দ্রে সরঞ্জাম সরবরাহ, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োগ এবং ভোট গণনার মতো কার্যক্রমকে সামনে রেখে পরিকল্পনা সাজাতে হবে। বিশেষ করে একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক ইউনিয়নে নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে এসব প্রস্তুতি যথাযথভাবে সম্পন্ন করা কমিশনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।

অন্যদিকে নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে বয়সসীমা কমানোর পরিকল্পনাও করছে নির্বাচন কমিশন। বর্তমানে প্রচলিত ব্যবস্থার বাইরে ছয় বছর বয়স থেকেই নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন ইসির সিনিয়র সচিব। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের শিশুদের তথ্যও কমিশনের তথ্যভান্ডারে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি হবে। নাগরিকদের বয়সভিত্তিক তথ্য সংগ্রহের এ পরিকল্পনা ভবিষ্যতে নির্বাচন ব্যবস্থাপনা ও নাগরিক তথ্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে নতুনমাত্রা যোগ করতে পারে। বিশেষ করে ভোটার হওয়ার বয়সে পৌঁছানোর আগেই নাগরিকদের প্রাথমিক তথ্য সংরক্ষিত থাকলে পরবর্তী সময়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদের কাজে তা সহায়ক হতে পারে। তবে ছয় বছর বয়সিদের তথ্য কী প্রক্রিয়ায় সংগ্রহ করা হবে, কোন কোন তথ্য নেওয়া হবে এবং সেগুলো কীভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। এ ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা, তথ্যের নির্ভুলতা এবং তথ্য ব্যবহারের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা নির্ধারণও গুরুত্বপূর্ণ হবে। শিশুদের তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয় এবং তথ্য সংরক্ষণের কার্যকর ব্যবস্থা প্রয়োজন হবে। সব মিলিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজন, ইভিএম ব্যবহার থেকে সরে আসা এবং ছয় বছর বয়স থেকেই নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহের পরিকল্পনা— তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এনেছে নির্বাচন কমিশন। এর মধ্যে প্রথম ধাপে ১ হাজার ৫০টি ইউনিয়নে ভোট আয়োজনের প্রস্তুতি এখন কমিশনের তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার। নির্বাচনের তফসিল, ভোটগ্রহণের সময়সূচি এবং সার্বিক প্রস্তুতির বিষয়ে কমিশনের পরবর্তী সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত