ঢাকা বুধবার, ০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ২৩ পৌষ ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

মাদুরোর স্ত্রীকেও কেন ধরে নিয়ে গেল যুক্তরাষ্ট্র

মাদুরোর স্ত্রীকেও কেন ধরে নিয়ে গেল যুক্তরাষ্ট্র

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সঙ্গে তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকেও ধরে নিয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্র। গত শুক্রবার রাতে চালানো মার্কিন অভিযানে ক্ষমতাধর এই দম্পতিকে তাদের বাসভবন থেকেই বন্দি করে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী। পরে দুজনকেই যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাদের বিরুদ্ধে মাদক পাচারসংক্রান্ত মামলায় বিচার চলবে বলে জানিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।

মাদুরোর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস ভেনেজুয়েলার রাজনীতিতে কেবল ‘ফার্স্ট লেডি’ নন; বরং তিন দশকের বেশি সময় ধরে তিনি মাদুরোর রাজনৈতিক সঙ্গী ও পরামর্শক। চাভিসমো নামে পরিচিত সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের ভাষায় তাকে ‘ফার্স্ট কমব্যাট্যান্ট’ বলা হয়। বিশ্লেষকদের মতে, এই দীর্ঘ রাজনৈতিক ভূমিকা ও প্রভাবই তাকে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানের অন্যতম লক্ষ্যবস্তু করেছে।

১৯৫৬ সালে জন্ম নেওয়া সিলিয়া ফ্লোরেস একজন শ্রম ও ফৌজদারি আইনে দক্ষ আইনজীবী। ১৯৯২ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট কার্লোস আন্দ্রেস পেরেজের বিরুদ্ধে ব্যর্থ অভ্যুত্থানের পর হুগো শ্যাভেজ ও তার সহযোগীদের আইনি সহায়তা দেন তিনি। তখন থেকেই মাদুরোর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে।

পরবর্তীসময়ে তিনি জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন, পার্লামেন্টের স্পিকার হন এবং প্রেসিডেন্টের দফতরের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। শ্যাভেজ সরকারের সময় তিনি ছিলেন ক্ষমতাসীন সমাজতান্ত্রিক দলের দ্বিতীয় ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং পরে রাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেলও হন। ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রকাশ্যে খুব বেশি না থাকলেও সিলিয়া ফ্লোরেস ছিলেন ‘ক্ষমতার নেপথ্য কারিগর’। সিমন বলিভার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কারমেন আর্তেয়াগা বলেন, ‘অনেকে তাকে সিংহাসনের পেছনের শক্তি হিসেবে দেখেন। মাদুরোর সিদ্ধান্ত গ্রহণে তার ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।’

যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে, মাদুরো সরকার মাদক পাচার ও সংগঠিত অপরাধচক্রের সঙ্গে যুক্ত। এই অভিযোগের সূত্রে সিলিয়া ফ্লোরেসের নামও একাধিকবার উঠে এসেছে। ২০১৫ সালে তার দুই ভাগনেকে যুক্তরাষ্ট্রের ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন হাইতিতে গ্রেফতার করে। পরে নিউইয়র্কে তাদের বিচার হয় এবং কোকেন পাচারের ষড়যন্ত্রে দোষী সাব্যস্ত করে সাজা দেওয়া হয়। যদিও ২০২২ সালে বন্দি বিনিময়ের মাধ্যমে তারা মুক্তি পান।

২০১৮ সালে কানাডা এবং পরে যুক্তরাষ্ট্র সিলিয়া ফ্লোরেসের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। মার্কিন রাজস্ব বিভাগ তখন বলেছিল, ক্ষমতায় টিকে থাকতে মাদুরো তার ঘনিষ্ঠ বৃত্তের ওপর নির্ভর করেন। সিলিয়া ফ্লোরেস সেই বৃত্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।

এই প্রেক্ষাপটেই যুক্তরাষ্ট্রের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর দাবি, শুধু মাদুরো নয়, তার স্ত্রীও ‘নার্কো-নেটওয়ার্কের’ অংশ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত