ঢাকা শনিবার, ১০ জানুয়ারি ২০২৬, ২৬ পৌষ ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

মার্কিনরা হামলা করলে ‘আগে গুলি, পরে অন্য আলাপ’

মার্কিনরা হামলা করলে ‘আগে গুলি, পরে অন্য আলাপ’

যুক্তরাষ্ট্র যদি গ্রিনল্যান্ড আক্রমণ করে, তবে ডেনিশ সেনাবাহিনীর যুদ্ধের নিয়ম অনুযায়ী ডেনিশ সৈন্যরা আগে গুলি চালাবে এবং পরে জিজ্ঞাসাবাদসহ অন্য আলাপ করবে। গত বুধবার ডেনিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে। ডেনমার্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ১৯৫২ সালের একটি নিয়মের অস্তিত্ব নিশ্চিত করেছে। যেখানে নির্দেশ দেওয়া আছে, আক্রমণকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে কোনো আদেশের অপেক্ষা না করেই ‘অবিলম্বে’ পাল্টা আক্রমণ করতে হবে। ডেনমার্কের মধ্যডানপন্থি সংবাদপত্র বার্লিংস্কে এই নিয়মের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, নিয়মটি এখনো ‘বলবৎ রয়েছে।’

চলতি সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ন্যাটোর অন্তর্ভুক্ত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত করার অভিপ্রায় পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি গ্রিনল্যান্ডকে মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য মনে করেন এবং প্রয়োজনে সামরিক শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে এটি দখলের কথা জানিয়েছেন। তার এই মন্তব্য ডেনমার্ককে স্তম্ভিত করেছে। গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের আধা স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল এবং তারা জোর দিয়ে বলেছে, এই দ্বীপ ‘বিক্রির জন্য নয়।’ ট্রাম্পের এই বক্তব্যে গ্রিনল্যান্ড সরকার এবং বৃহত্তর ন্যাটো জোটও হতবাক হয়েছে। ডেনিশ সংবাদপত্র বার্লিংস্কের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৫২ সালের ওই নিয়মে বলা হয়েছে, আক্রমণের ক্ষেত্রে ‘আক্রান্ত বাহিনীকে আদেশের অপেক্ষা না করে বা আদেশ না খুঁজে অবিলম্বে লড়াই শুরু করতে হবে, এমনকি সংশ্লিষ্ট কমান্ডাররা যুদ্ধ ঘোষণা বা যুদ্ধাবস্থা সম্পর্কে অবগত না থাকলেও এটি করতে হবে।’

জানতে চাওয়া হলে ডেনিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সংবাদপত্রটিকে জানায়, ‘দেশের ওপর হামলা এবং যুদ্ধ চলাকালে সামরিক প্রতিরক্ষার জন্য সতর্কতামূলক ব্যবস্থার এই আদেশটি এখনো কার্যকর আছে।’

গ্রিনল্যান্ডে সম্ভাব্য মার্কিন হামলার মোকাবিলায় ইউরোপীয় মিত্ররা জরুরি আলোচনা শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন কোনো পদক্ষেপ সম্ভবত ন্যাটো জোটের সমাপ্তি ঘটাবে। আর্কটিক দ্বীপটি যুক্তরাষ্ট্রের দখল করে নেওয়ার চেষ্টার বিপরীতে ইউরোপের প্রতিক্রিয়া কেমন হওয়া উচিত, সেই আলোচনা প্রসঙ্গে ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল বরো বলেন, ‘আমরা পদক্ষেপ নিতে চাই, তবে তা আমাদের ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গেই করতে চাই।’ জার্মান সরকারের একটি সূত্র পৃথকভাবে রয়টার্সকে জানিয়েছে, জার্মানি ‘গ্রিনল্যান্ড নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে অন্যান্য ইউরোপীয় দেশ এবং ডেনমার্কের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছে।’

গত বুধবার জঁ-নোয়েল বরো আরও ইঙ্গিত দেন, তিনি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর কাছ থেকে আশ্বাস পেয়েছেন যে ওয়াশিংটন কোনো ‘আক্রমণের’ পরিকল্পনা করছে না।

ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমি নিজে গতকাল মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছি...যিনি নিশ্চিত করেছেন যে এটি (আক্রমণ) তাদের কর্মপন্থা নয়...তিনি গ্রিনল্যান্ডে আক্রমণের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন।’ ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের সূত্র অনুযায়ী, মার্কো রুবিও মার্কিন রাজনীতিবিদদেরও ব্রিফ করেছেন, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে দেওয়া হুমকিগুলো কোনো আসন্ন আক্রমণের সংকেত নয় এবং তাদের মূল লক্ষ্য হলো দ্বীপটি কিনে নেওয়া।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত