
ইরানে সাম্প্রতিক ব্যাপক সরকারবিরোধী বিক্ষোভে সন্ত্রাস, সশস্ত্র বাহিনীর ওপর হামলা ও ধ্বংসাত্মক কাজে যারা উসকানি দিয়েছে, তাদের কোনো ছাড় দেবে না দেশটির ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকার। প্রধান বিচারপতি গোলামহোসেইন মোহসেনি এজেই এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন এ তথ্য। গত রোববার ইরানি সংবাদমাধ্যম মিজান অনলাইনকে দেওয়া সেই সাক্ষাৎকারে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘জনগণ দাবি করছে যে (সরকারবিরোধী বিক্ষোভে) যারা দাঙ্গা, সন্ত্রাসবাদ ও সহিংসতায় উসকানি দিয়েছে- তাদের যত দ্রুত সম্ভব বিচার করা হোক এবং দোষী সাব্যস্ত হলে শাস্তি দেওয়া হোক। আমরা জনগণের দাবির প্রতি শ্রদ্ধাশীল।’ জীবনযাত্রার ব্যয় ও অসহনীয় মূল্যস্ফীতির প্রতিবাদে গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে বিক্ষোভ শুরু হয় ইরানে। এরপর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে দেশটির ৩১টি প্রদেশের প্রায় সবগুলো শহর-গ্রামে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভ এবং দিনকে দিন বিক্ষোভের তীব্রতা বাড়তে থাকে। বিক্ষোভ দমন করতে দেশজুড়ে ইন্টারনেট-মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ করে ইরান, সেইসঙ্গে পুলিশ-নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি মোতায়েন করা হয় সেনাবাহিনী। ব্যাপক দমনপীড়ন চালিয়ে বর্তমানে বিক্ষোভণ্ডউত্তেজনা অনেকটাই প্রশমন করতে সক্ষম হয়েছে ইরানের সরকার। নিহতের সরকারি সংখ্যাও প্রকাশ করা হয়েছে। ইরানে ক্ষমতাসীন ইসলামি প্রজাতন্ত্র সরকারের তথ্য অনুসারে, বিক্ষোভে ৩ হাজার ১১৭ জন নিহত হয়েছেন।
সরকারি বিবৃতিতে নিহতদের মধ্যে ২ হাজার ৪২৭ জনকে ‘শহিদ’ এবং বাকি ৬৯০ জনকে ‘সন্ত্রাসী-দাঙ্গাকারী’ ঘোষণা করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, নিহতদের মধ্যে যারা বিক্ষোভে সন্ত্রাস ও দাঙ্গাবাজি করেছে, সরকারি ও সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে- তাদের ‘সন্ত্রাসী-দাঙ্গাবাজ’ হিসেবে ক্যাটাগরিভুক্ত করা হয়েছে। মিজান অনলাইনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গোলামহোসেইন মোহসেনি এজেই জানান, বিক্ষোভে যারা সন্ত্রাস-দাঙ্গায় উসকানি দিয়েছিল- তাদের শনাক্ত করতে এরইমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে। যারা অস্ত্র তুলে নিয়েছে, মানুষ হত্যা করেছে, অগ্নিসংযোগ, ধ্বংস ও গণহত্যা করেছে- তাদের প্রতি সামন্যতম নমনীয়তা প্রদর্শন না করে বিচারকাজ পরিচালনা করা হবে, বলেছেন ইরানের প্রধান বিচারপতি।