ঢাকা শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ১৬ মাঘ ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

ভারতের জেল থেকে শতাধিক বাংলাদেশির মুক্তি

ভারতে ফিরলেন ২৩ জন
ভারতের জেল থেকে শতাধিক বাংলাদেশির মুক্তি

দীর্ঘ টালবাহানার পর অবশেষে ভারতের কারাগার থেকে মুক্তি পেল ১১৫ জন বাংলাদেশি মৎস্যজীবী। এছাড়াও ছেড়ে দেওয়া হয়েছে তাদের মাছ ধরার ৫টি ট্রলার। ভুলবশত আন্তর্জাতিক জলসীমানা পার হয়ে ভারতের জলসীমানায় প্রবেশ করার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। একইভাবে বাংলাদেশের জেল থেকে ২৩ জন ভারতীয় মৎস্যজীবীও মুক্তি পেয়েছেন।

পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার নামখানা ব্লকের অধীনে ফ্রেজারগঞ্জ বন্দর থেকে পাঁচটি টলারসহ ওই বাংলাদেশি মৎস্যজীবীদের হেমনগর নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকেই গত বুধবার ২৮ জানুয়ারি সকালে আন্তর্জাতিক সীমান্তের দুই দেশের কোস্ট গার্ডের উপস্থিতিতে মৎস্যজীবীদের হস্তান্তর প্রক্রিয়া করা হয়।

সে সময় ফ্রেজারগঞ্জ নৌবন্দরে এক সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ওই বাংলাদেশি মৎস্যজীবীদের বিদায় সংবর্ধনা জানানো হয়।

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মাধ্যমে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয় শুকনো খাবার, পরিশুদ্ধ খাবার পানি, ট্রাউজার, গরম জ্যাকেট, জ্বালানিসহ আগামী দু-তিন দিনের জীবনধারণের রসদ। ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশের উপ-দূতাবাসের দ্বিতীয় সচিব (রাজনৈতিক) ওমর ফারুক আনন্দ, সহকারী এসিস্ট্যান্ট শামসুদ্দোহা লায়েক, আব্দুস সামাদ ও চৌধুরী আতাউস সালাম। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে সে সময় উপস্থিত ছিলেন কাকদ্বীপ মহকুমা শাসক প্রীতম সাহা, নামখানা ব্লক কর্মকর্তা সুব্রত মল্লিক, ফ্রেজারগঞ্জ থানার কর্মকর্তা সুদীপ মণ্ডল ও ভারতীয় কোস্ট গার্ড এবং ইন্টেলিজেন্স এর কর্মকর্তারা।

বিভিন্ন সময়ে ২০২৫ সালের বঙ্গোপসাগরের আন্তর্জাতিক জলসীমা অতিক্রম করে ভারতীয় সীমানায় প্রবেশের অভিযোগে বাংলাদেশি মৎস্যজীবীদের আটক করে ভারতীয় কোস্ট গার্ড। সে সময় জব্দ করা হয় তাদের মাছ ধরার ট্রলারও। পরবর্তীতে তাদের স্থানীয় পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এরপর অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং ভারতীয় জলসীমায় মাছ ধরার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট ধারায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পর তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

অপরদিকে আন্তর্জাতিক জলসীমানা লঙ্ঘন করার অপরাধে বাংলাদেশে প্রবেশের অভিযোগে বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশের কোস্ট গার্ডের হাতে ২৩ জন ভারতীয় মৎস্যজীবীসহ দুটি ভারতীয় মাছ ধরার ট্রলার আটক করা হয়। এর মধ্যে একটি ট্রলার পশ্চিমবঙ্গের অন্য ট্রলারটি ভারতের অন্ধপ্রদেশের। ২৩ জন ভারতীয় মৎস্যজীবীকে ভারতের কোস্ট গার্ডের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গের সুন্দরবন শ্রমজীবী মৎস্য ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সতীনাথ পাত্র জানিয়েছেন, ভারত থেকে ১১৫ জন বাংলাদেশি মৎস্যজীবীকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। একইভাবে বাংলাদেশের জেল থেকেও ২৩ জন ভারতীয় মৎস্যজীবী মুক্তি পেয়েছেন।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত