ঢাকা মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

লেবাননে ইসরায়েলের হামলাকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে তদন্তের আহ্বান অ্যামনেস্টির

লেবাননে ইসরায়েলের হামলাকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে তদন্তের আহ্বান অ্যামনেস্টির

মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল গতকাল বৃহস্পতিবার অভিযোগ করেছে, হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধ চলাকালে লেবাননে ইসরাইলের হামলায় পুরো পরিবার নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। সংস্থাটি এসব হামলাকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে। ইরানের সমর্থিত হিজবুল্লাহ ২ মার্চ ইসরাইলের দিকে রকেট নিক্ষেপের মাধ্যমে লেবাননকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলে। এর জবাবে ইসরাইল ব্যাপক বিমান হামলা ও স্থল অভিযান চালায়। লেবাননের কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, এতে ২৫০ জনের বেশি শিশুসহ চার হাজার ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

বৈরুত থেকে এএফপি জানায়, অ্যামনেস্টি ৬ থেকে ১৩ মার্চের মধ্যে বেসামরিক মানুষের তিনটি বাড়িতে চালানো তিনটি হামলার বিশ্লেষণ করেছে। এসব হামলায় ২৪ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন, যাদের মধ্যে ১২ জনই শিশু। লন্ডনভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থাটি অভিযোগ করেছে, এসব হামলায় ইসরায়েল ‘সম্পূর্ণ পরিবার নিশ্চিহ্ন’ করেছে এবং এগুলোকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে তদন্তের দাবি জানিয়েছে।

সংস্থাটি জানায়, তারা এ বিষয়ে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলে কর্তৃপক্ষ জানায়, কিছু হামলা ‘হিজবুল্লাহর সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে’ চালানো হয়েছিল এবং অন্য কিছু হামলা ‘পর্যালোচনার জন্য পাঠানো হয়েছে’। ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ অ্যামনেস্টিকে আরও জানায়, সামরিক অভিযান পরিচালনার সময় বেসামরিক মানুষের ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তবে অ্যামনেস্টি জানায়, পরবর্তী যোগাযোগ সত্ত্বেও ইসরাইলি সেনাবাহিনী ওই তিনটি হামলা সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেয়নি, এমনকি লক্ষ্যবস্তু কী ছিল তাও জানায়নি। প্রতিবেদনটি ১৫ জনের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তি, নিহতদের স্বজন, প্যারামেডিক, ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী সাংবাদিক এবং স্থানীয় কর্মকর্তারা ছিলেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সংগৃহীত প্রমাণের ভিত্তিতে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল যুক্তিসংগতভাবে মনে করে যে, প্রতিটি বিমান হামলায় ইসরাইলি বাহিনী আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘন করেছে। এর মধ্যে বেসামরিক মানুষ ও সামরিক লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে পার্থক্য করতে ব্যর্থ হওয়া, বেসামরিক ব্যক্তি বা স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো কিংবা বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি কমাতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সতর্কতা অবলম্বনে ব্যর্থ হওয়ার মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

অ্যামনেস্টির মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলের উপপরিচালক ক্রিস্টিন বেকারলে বলেন, ‘মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে ইসরাইলি সেনাবাহিনী লেবাননে এক ডজন শিশুসহ পুরো পরিবারগুলোকে নিশ্চিহ্ন করেছে, যা বেসামরিক মানুষের জীবনের প্রতি চরম উদাসীনতার পরিচয় বহন করে।’ তিনি আরও বলেন, ‘রাষ্ট্রগুলোর উচিত অবিলম্বে ইসরাইলের ওপর পূর্ণাঙ্গ অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা এবং সার্বজনীন ও বহির্দেশীয় বিচারিক ক্ষমতা ব্যবহার করে দায়ীদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা।’

গত মাসে লেবানন ও ইসরাইল যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় একটি কাঠামোগত চুক্তিতে পৌঁছায়, যার লক্ষ্য ছিল দুই দেশের মধ্যে স্থায়ীভাবে সংঘাতের অবসানের পথ সুগম করা। এর আগে মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তর সংঘাতের অবসানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়, যার অংশ হিসেবে লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। তবে এরপরও ইসরাইল দক্ষিণ লেবাননে মাঝে-মধ্যেই হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, যার কয়েকটি হামলায় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত