
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক স্থাপনাগুলো পুনরায় নির্মাণ বা মেরামত করেছে ইরান। গত শনিবার প্রকাশিত এক এক্সক্লুসিভ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ‘ইনস্টিটিউট ফর সায়েন্স অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি’-এর সহযোগিতায় নতুন কিছু স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে- গত জুনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক কার্যকর থাকা অবস্থাতেই ইরান এই মেরামত কাজ চালিয়েছিল। এর মাধ্যমে তেহরান চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে আরও বলা হয়, রাজধানী তেহরানের ৩০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত পারচিনের সামরিক ও পরমাণু গবেষণা কমপ্লেক্সের ‘তালেঘান ২’ নামক একটি ভূগর্ভস্থ স্থাপনা মেরামত করেছে ইরানি কর্তৃপক্ষ।
পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মতে, এই ‘তালেগান-২’ নামক ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় পারমাণবিক অস্ত্রের জন্য বিস্ফোরক উপাদানের পরীক্ষা ও মজুতের কাজ চলে। গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় এই স্থাপনাটি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। জুন ও জুলাই মাসের স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, বোমার আঘাতে ভূগর্ভস্থ স্থাপনার ছাদ জুড়ে তৈরি হওয়া তিনটি বড় গর্ত প্রথমে অস্থায়ীভাবে ঢেকে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে কংক্রিট ও রিল-বার ব্যবহার করে স্থায়ীভাবে ছাদটি ঢালাই করার প্রক্রিয়া শুরু হয়।
এদিকে ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ নামক আরেকটি সন্দেহভাজন টানেল কমপ্লেক্সে ভারী যানবাহনের যাতায়াত এবং কিছু ক্ষেপণাস্ত্র সংরক্ষণাগারেও মেরামতের তৎপরতা দেখা গেছে বলে জানিয়েছে সিএনএন।
সিএনএনের প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করেছে, ইরানের প্রধান পারমাণবিক কেন্দ্র যেমন—ইসফাহান, ফোরদো বা নাতাঞ্জে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো নতুন পুনর্র্নিমাণ বা মেরামতের প্রমাণ মেলেনি। প্রসঙ্গত, গত জুন মাসে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ১৪ দফার একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছিল, যেখানে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি দেয়। তবে হরমুজ প্রণালিতে সাম্প্রতিক কিছু উত্তেজনার পর চলতি সপ্তাহের শুরুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই চুক্তি ‘শেষ’ হয়ে গেছে বলে ঘোষণা দেন। সিএনএনের দাবি, ট্রাম্পের এই ঘোষণার আগেই ইরান গোপনে চুক্তি লঙ্ঘন করে মেরামত কাজ শুরু করেছিল। এদিকে এই প্রতিবেদনের বিষয়ে এখন পর্যন্ত ইরান সরকার বা আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।