
কৃষ্ণ সাগরে যুদ্ধবিরতির জন্য ইউক্রেনের পাঠানো প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে রাশিয়া। কারণ হিসেবে মস্কো বলেছে, রাশিয়া ‘আংশিক’ যুদ্ধবিরতিতে বিশ্বাস করে না।
এছাড়া কৃষ্ণ সাগরে সম্প্রতি রুশ জাহাজ লক্ষ্য করে ইউক্রেনের হামলাও এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের অন্যতম কারণ বলে এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা। খবর রয়টার্সের। বিবৃতিতে কৃষ্ণ সাগরে ইউক্রেনের হামলাকে ‘নির্লজ্জ সন্ত্রাসী আক্রমণ’ উল্লেখ করে জাখারোভা বলেছেন, সম্প্রতি কৃষ্ণ সাগরে রুশ জাহাজ লক্ষ্য করে ইউক্রেন যেসব হামলা পরিচালনা করেছে, আমরা মনে করি সেসব ইউক্রেনের পূর্বপরিকল্পিত ছিল এবং হামলাগুলোর উদ্দেশ্য ছিল কৃষ্ণ সাগরে নৌচলাচলকে অস্থিতিশীল করে উত্তেজনা আরও বাড়ানো এবং সংঘাতকে দীর্ঘায়িত করা, আর এসব কিছুই ঘটছে আঞ্চলিক প্রতিবেশীদের নির্লজ্জ মৌন সম্মতিতে। একই সঙ্গে, আমরা পরিস্থিতি উন্নয়নের কোনো লক্ষণ দেখতে পাচ্ছি না। তাই এই যুদ্ধবিরতির কোনো ভিত্তি নেই এবং রাশিয়া আংশিক যুদ্ধবিরতিতে বিশ্বাস করে না। প্রসঙ্গত, ইউক্রেন বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ গম, ভুট্টা ও সূর্যমুখী তেলবীজ উৎপাদনকারী দেশ। গমণ্ডভুট্টা ও সূর্যমুখী তেলবীজ উৎপাদনে ১০টি শীর্ষস্থানীয় দেশের মধ্যে ইউক্রেনের অবস্থান ৫ নম্বরে। দেশটির বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের বৃহত্তম খাত কৃষিপণ্য রপ্তানি। ইউক্রেনে উৎপাদিত গমণ্ডভুট্টা-সূর্যমুখী তেলবীজের সবচেয়ে বড় গ্রাহক বা ক্রেতা ইউরোপের দেশগুলো। রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর আগে, ২০২২ সালে যুদ্ধ শুরুর পরও জাতিসংঘ ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় কৃষ্ণ সাগরের তীরে অবস্থিত নিজেদের সামুদ্রিক বন্দর ওডেসা থেকে ইউরোপে শস্য রপ্তানি করেছে ইউক্রেন। তবে ২০২৩ সালে রাশিয়া চুক্তির মেয়াদ বাড়াতে অস্বীকার করায় সেটি অকার্যকর অবস্থায় আছে। ওডেসা বন্দরেও অবরোধ জারি করেছে রুশ বাহিনী। চুক্তি অকার্যকর হওয়ার পর কৃষ্ণ সাগরে একটি বিকল্প পথ ব্যবহার করত ইউক্রেনীয় জাহাজগুলো। সম্প্রতি রাশিয়া সেই পথ বন্ধ করে দিয়েছে। পাশাপাশি রেল ও দানিয়ুব নদীপথেও শস্য রপ্তানির চেষ্টা করেছিল ইউক্রেন, তবে এতে ব্যয় তুলনামূলকভাবে বেশি। সম্প্রতি তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন, কৃষ্ণ সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে রাশিয়া এবং ইউক্রেন- উভয়কে প্রস্তাব পাঠিয়েছে আঙ্কারা। তবে শুক্রবারের বিবৃতিতে মারিয়া জাখারোভা বলেছেন, মস্কো এখন পর্যন্ত দাপ্তরিকভাবে কোনো প্রস্তাব পায়নি।