ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

অস্ট্রেলিয়ায় নারী এমপিকে গাড়িচাপা, দুই পা বিচ্ছিন্ন

অস্ট্রেলিয়ায় নারী এমপিকে গাড়িচাপা, দুই পা বিচ্ছিন্ন

জীবন বাঁচাতে চিকিৎসকদের লড়াই, তবু রক্ষা করা গেল না দুই পায়ের একটিও। গাড়িচাপায় গুরুতর আহত অস্ট্রেলিয়ার স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য হেলেন হেইনসকে বাঁচাতে অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে চিকিৎসকদের। শেষ পর্যন্ত দুই পা-ই কেটে ফেলতে হয়েছে ৬৫ বছর বয়সি এই নারী এমপির।

গত সোমবার অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া অঙ্গরাজ্যে নিজের নির্বাচনি কার্যালয়ের বাইরে এ ঘটনা ঘটে। উত্তর-পূর্ব মেলবোর্নের ইন্ডি নির্বাচনি এলাকার এই সংসদ সদস্যকে পরিকল্পিতভাবে গাড়িচাপা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ব্রেন্ডন নুজেন্ট নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। গত বুধবার হেলেনের স্বামী ফিল হেইনস সাংবাদিকদের জানান, চিকিৎসকরা তার স্ত্রীর ডান পা বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু, শেষ পর্যন্ত সেটিও কেটে ফেলতে হয়েছে। তবে, হেলেন বেঁচে আছেন এবং তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত নুজেন্টকে আটক করেন স্থানীয় লোকজন। পুলিশ আসার আগেই তাকে নিয়ন্ত্রণে নেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। এসময় নুজেন্টের কাছে একটি ছুরিও ছিল বলে দাবি করেন তারা। ৪৩ বছর বয়সি নুজেন্ট অস্ট্রেলিয়ার টারাউইনগি এলাকার বাসিন্দা। তিনি পরিবেশবিষয়ক কর্মী এবং মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরিবেশবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিয়েছেন। গতকাল বুধবার তাকে আদালতে হাজির করা হয়। দোষী সাব্যস্ত হলে একজন ফেডারেল সরকারি কর্মকর্তার ক্ষতিসাধনের অভিযোগে নুজেন্টের সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।

এছাড়া, বিপজ্জনকভাবে গাড়ি চালিয়ে গুরুতর আহত করা, ইচ্ছাকৃতভাবে আঘাত করা এবং গাঁজা চাষ ও রাখার অভিযোগও আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে। তিনি জামিনের আবেদন করেননি। আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি তার পরবর্তী শুনানি হবে। তবে, হেলেনকে হামলার নিশানা করার কারণ এখনও জানা যায়নি। তার ওপর হামলার কোনো আগাম গোয়েন্দা তথ্যও ছিল না বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তদন্ত চলায় এ বিষয়ে অনুমান করে কিছু বলতে রাজি হননি তারা।

হেলেন হেইনস ২০২২ ও ২০২৫ সালের নির্বাচনে ইন্ডি আসন থেকে পুনর্নির্বাচিত হন। গ্রামীণ অস্ট্রেলিয়ার স্বার্থ ও পরিবেশ রক্ষায় সোচ্চার ছিলেন তিনি। গাজায় ইসরায়েলি হামলা ও ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগের নিন্দা জানাতে অস্ট্রেলীয় সরকারের প্রতি আহ্বানও জানিয়েছিলেন এই সংসদ সদস্য। নিজের ওয়েবসাইটে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি গাজায় প্রাণহানি, নিরীহ মানুষের দুর্ভোগ, হাসপাতালসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস এবং খাদ্য ও চিকিৎসাসামগ্রী সরবরাহে বাধা দেওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। অভিযুক্ত নুজেন্টও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হেলেনের বিভিন্ন অবস্থানের প্রশংসা করেছিলেন এবং তাকে বিভিন্ন দায়িত্বে নিয়োগ দেওয়ার পক্ষে পোস্ট শেয়ার করেছিলেন। ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়েও সরব ছিলেন তিনি। গাজা যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাজ্যের ভূমিকার সমালোচনা করে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারকে উদ্দেশ্য করে তিনি লিখেছিলেন, রাফায় নিরীহ মানুষকে হত্যার ক্ষেত্রে ইসরায়েলকে কূটনৈতিক সমর্থন ও সামরিক সহায়তা দেওয়ার জন্য তার মতো ব্যক্তিরা দায়ী। তবে, হেলেনের প্রতি নুজেন্টের আগের সমর্থন ও ফিলিস্তিনপন্থি অবস্থানের সঙ্গে এ হামলার কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। পুলিশ ঘটনার উদ্দেশ্য জানতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত