
জ্ঞান, বিদ্যা ও সৃজনশীলতার দেবী সরস্বতীর আরাধনায় খুলনা খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে আনন্দঘন ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে সরস্বতী পূজা উদযাপিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে স্থাপিত পূজামণ্ডপে সকালে বৈদিক মন্ত্র উচ্চারণের মাধ্যমে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো ক্যাম্পাস উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। পূজা উপলক্ষে অঞ্জলি প্রদান, প্রসাদ বিতরণ এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনার আয়োজন করা হয়। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ডেজিগনেট) প্রফেসর ড. মো. আনিসুর রহমান বলেন, সরস্বতী পূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও শিক্ষাজীবনের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব। জ্ঞান, বিদ্যা, সঙ্গীত, শিল্প ও বুদ্ধির দেবী সরস্বতীর আরাধনার মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকসমাজ জ্ঞানের আলোয় আলোকিত হয় বলে তারা বিশ্বাস করেন। এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, সহনশীলতা ও সাংস্কৃতিক চেতনাকে আরও সমৃদ্ধ করে। পূজা উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক সিএসই বিভাগের প্রধান রথীন্দ্র নাথ মহালদার বলেন, প্রতিবছর মাঘ মাসের শুক্লপক্ষের পঞ্চমী তিথিতে পালিত এই পূজা বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। ছোট শিশুদের হাতে প্রথম খড়ি দেওয়া, শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবই ও বাদ্যযন্ত্র পূজার আয়োজন- সব মিলিয়ে সরস্বতী পূজা শুধু ধর্মীয় আচার নয়, বরং জ্ঞানচর্চা ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশের এক অনন্য উপলক্ষ। পূজা আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে তিনি ধন্যবাদ জানান। পূজায় সংশ্লিষ্ট পুরোহিত ও শিক্ষার্থীরা বলেন, অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে সরস্বতী পূজা উদযাপনের মাধ্যমে অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। এ পূজা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় ‘জ্ঞানই মানুষের প্রকৃত শক্তি’। তাই ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এই উৎসব শিক্ষার প্রতি শ্রদ্ধা, সংস্কৃতির প্রতি ভালোবাসা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে।