ঢাকা বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২ ফাল্গুন ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

‘পরীক্ষা ও মূল্যায়ন পদ্ধতিতে আসছে বড় পরিবর্তন’

‘পরীক্ষা ও মূল্যায়ন পদ্ধতিতে আসছে বড় পরিবর্তন’

শিক্ষা খাতে শৃঙ্খলার জন্য কাজের মূল্যায়ন করে পুরস্কার ও শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলসহ বিভিন্ন সময়ে শিক্ষা খাতে যারা অনিয়ম, দুর্নীতি ও বদলি বাণিজ্য করেছেন, তাদের সবকিছু খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সচিবালয়ে দায়িত্ব পালনের দ্বিতীয় দিনে গতকাল বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এবং সচিব রেহানা পারভীন উপস্থিত ছিলেন।

শিক্ষা প্রশাসনের বহুল আলোচিত বদলি বাণিজ্য বন্ধে প্রযুক্তির সহায়তা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মন্ত্রী। প্রশাসনিক দুর্নীতি ও বদলি বাণিজ্য সম্পর্কে শিক্ষা মন্ত্রী বলেন, “যখন দায়িত্বে ছিলাম না, স্যাডো মন্ত্রী হিসেবে কাজ করতাম, গবেষণা করতাম। আসলে পৃথিবী এগিয়ে গিয়েছে। আমরা এখন চাচ্ছি অটোমেশন সিস্টেম। একটা অ্যাপস খুলবো, যেখানে কার বদলির সম্ভাবনা, কার কেমন রেজাল্ট, কার বদলি কীভাবে হতে পারে, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের রেজাল্টের ভিত্তিতে তদবিরবিহীন বদলি নিশ্চিত করা হবে”।

তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, “এখন আর বদলির নামে কোনো বাণিজ্য হবে না। যদি কোথায় হয়, বা সম্ভাবনা দেখেন, জানাবেন। আমরা ব্যবস্থা নিবো”।

২০০৯ সাল থেকে ডিজিটাল ক্লাসরুমের নামে কোটি কোটি টাকা খরচ হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন না থাকা সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ??“বিগত সময়ে যারা অনিয়ম দুর্নীতি করেছেন তা আমলে নিতে নিরীক্ষণ করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে”।

এ ছাড়া নির্বাচনের সময় নির্বাচন কমিশনের অনুমতি ছাড়া যেসব বিপুল সংখ্যক বদলি করা হয়েছে, সেগুলোতে কোনো অসঙ্গতি ছিল কিনা তাও খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান তিনি।

চারদলীয় জোট সরকারের আমলে নকল বিরোধী অভিযানের সাফল্যের কথা স্মরণ করে এহসানুল হক মিলন বলেন, “আশা করছি নকল বিরোধী অভিযানের আর প্রয়োজন হবে না। শিক্ষা মন্ত্রণালয় অন্য মন্ত্রণালয়ের মতো না। সব ধরনের কার্যক্রম এখানে আলাদা”।

এনটিআরসিএ এর কার্যক্রম মনিটরিং করা হবে উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, “জোট সরকারের সময় আমরা এনটিআরসিএ করছিলাম। অযাচিত হস্তক্ষেপ বন্ধ করে শৃঙ্খলায় নিয়ে আসা। সেখানে আমরা মনিটরিং করবো। এজন্য সেল গঠন করা হবে। এখানে কেউ অন্যায় করে পার পাবার সুযোগ নাই”। এখন থেকে খতিয়ে দেখে তারপর নতুন স্কুল অনুমোদন করা হবে বলেও জানান তিনি।

পাঠ্যপুস্তক উৎসব নিয়ে তিনি বলেন, “জুলাই আগস্টেও বই দিতে পারেনি আওয়ামী লীগ সরকার। ২০০১ সালে আমরা শপথ নিয়েছিলাম, এরপর আমরা কিন্তু জানুয়ারিতেই বই দিয়েছিলাম। এরপর কিন্তু কখনো ব্যত্যয় ঘটেনি। তাই বই বিতরণে কোনো সমস্যা হবার কথা নয়। কারণ আমাদের পূর্বের অভিজ্ঞতা রয়েছে”।

পরীক্ষা ও মূল্যায়ন পদ্ধতিতে আসছে বড় পরিবর্তন:

শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা ও মূল্যায়ন পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন আনার ঘোষণা দিয়েছে নতুন সরকার। ঈদুল ফিতরের পর এ কাজের রোডম্যাপ ঘোষণা করবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। এ সময় শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে ববি হাজ্জাজ বলেন, “আমরা দিকনির্দেশনা দিলাম। বাস্তবায়নের জন্য তিন ধাপের টাইমলাইন ধরে এগোবো। প্রথম ধাপ হবে এখন থেকে ঈদুল ফিতর পর্যন্ত। এ ধাপে ‘বাজেট ও প্রকল্প বাস্তবায়নের ডায়াগনস্টিক রিভিউ’; ‘উন্নয়ন বাজেটের ৫৩ শতাংশ ফেরত যাওয়ার কারণভিত্তিক রুট-কজ অ্যানালাইসিস’ এবং ‘শিক্ষকদের ট্যাব দেওয়া, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম ও ভাষা শিক্ষার পাইলট ডিজাইন’ করা হবে।

দ্বিতীয় ঘোষণা অনুযায়ী, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দ্বিতীয় ধাপ শুরু হবে ঈদুল ফিতরের পর। ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘দ্বিতীয় ধাপে আমরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্মতি নিয়ে জাতীয় শিক্ষা রোডম্যাপ ঘোষণা করব। সেটা মন্ত্রণালয়ভিত্তিক, বিভাগভিত্তিক, পরিমাপযোগ্য সূচকসহ।’

তৃতীয় ধাপে হবে ১২ থেকে ৩৬ মাসের; অর্থাৎ এক বছর থেকে তিন বছর।

এ ধাপের কাজের বর্ণনা তুলে ধরে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, তৃতীয় ধাপে আমরা পরীক্ষা ও মূল্যায়নে বড় টেকনিক্যাল রি-ফর্ম করব। কারিগরি, সাধারণ এবং মাদরাসা শিক্ষায় ব্রিজিং (সেতুবন্ধ) করা হবে। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা ও ইনোভেশন গ্র্যান্ট স্কেল আপ করা হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ১২ দফা এজেন্ডা তুলে ধরলেন ববি হাজ্জাজ :

দেশের শিক্ষা খাতকে আর কেবল ‘খরচের খাত’ হিসেবে নয়, বরং মানবসম্পদের মূল কারখানা এবং জাতি গঠনের ‘প্রধান প্রকল্প’ হিসেবে দেখবে নবনিযুক্ত সরকার। ২০২৬ সালের নির্বাচনি অঙ্গীকার ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘ভিশন’ বাস্তবায়নে শিক্ষার মানোন্নয়ন, বাজেট বৃদ্ধি এবং কাঠামোগত সংস্কারে ১২ দফা এজেন্ডা ঘোষণা করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব এজেন্ডা তুলে ধরেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। এসময় শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন উপস্থিত ছিলেন।

দেশের শিক্ষা খাতকে আর কেবল ‘খরচের খাত’ হিসেবে নয়, বরং মানবসম্পদের মূল কারখানা এবং জাতি গঠনের ‘প্রধান প্রকল্প’ হিসেবে দেখবে নবনিযুক্ত সরকার। ২০২৬ সালের নির্বাচনি অঙ্গীকার ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘ভিশন’ বাস্তবায়নে শিক্ষার মানোন্নয়ন, বাজেট বৃদ্ধি এবং কাঠামোগত সংস্কারে ১২ দফা এজেন্ডা ঘোষণা করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব এজেন্ডা তুলে ধরেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। এসময় শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন উপস্থিত ছিলেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ১২ দফা এজেন্ডা:-

১. বাজেটের ‘এনভেলপ’ বৃদ্ধি

ববি হাজ্জাজ বলেন, “আমরা জানি শিক্ষা ব্যবস্থার প্রথম শর্ত অর্থায়ন। গত বছরগুলোতে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ মোট বাজেটের প্রায় ১২ শতাংশের আশপাশে থেকেছে এবং জিডিপির অনুপাতে তা দেড়-দুই শতাংশের কাছাকাছি ঘোরাফেরা করেছে। এটা কাঠামোগত সীমা। আমাদের সরকারের, বিশেষ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নীতিগত অবস্থান পরিষ্কার— শিক্ষা খাতে বরাদ্দ জিডিপির ৫ শতাংশে নিয়ে যাওয়া। এটা আমাদের নির্বাচনি অঙ্গীকার। আর আন্তর্জাতিক মানদণ্ডও বলে, শিক্ষা খাতে জিডিপির ৪-৬ শতাংশ এবং মোট সরকারি ব্যয়ের ১৫-২০ শতাংশ—এই লক্ষ্যগুলো অর্জন করতে হবে।”

তিনি বলেন, “আমরা কী করবো? অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে মাঝারি মেয়াদের বাজেট কাঠামো অনুযায়ী ৩ বছরের ধাপে ধাপে ‘ফিসকাল আপলিফট প্ল্যান’ দেবো।”

শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়লেও শুধু ‘মোট টাকা’ নয়, কোথায় টাকা যাবে সেটাও বদলাতে হবে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “বাজেটে সমতা ও শেখার ফলাফল দুটিই প্রধান সূচক হবে।” তিনি আবারও বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর ভিশন হলো—‘সামাজিক ন্যায় ও দক্ষতা’—দুটো একসঙ্গে।”

২) উন্নয়ন বাজেটের গুণগত বাস্তবায়ন

ববি হাজ্জাজ বলেন, “শুধু বরাদ্দ বাড়ালেই হবে না, খরচের গুণগত মান বদলাতে হবে। উন্নয়ন বাজেটের একটা বড় অংশ বছরের শেষে হঠাৎ খরচ হয়—এর ফলে বই, নির্মাণকাজ, প্রশিক্ষণ সব কিছুই ‘স্কুল ক্যালেন্ডার’ মিস করে।”

তিনি জানান, গত অর্থবছরে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষার উন্নয়ন তহবিলের প্রায় ৫৩ শতাংশ অব্যবহৃত থেকে ফেরত গেছে। একে তিনি শুধু অর্থনৈতিক ব্যর্থতা নয়, শিক্ষার্থীর সময় ও সুযোগের ক্ষতি বলে উল্লেখ করেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, “পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা কমিশনের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি অনুমোদন ও প্রকল্প গেট-কিপিং (ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রপোজাল) স্কুল বর্ষপঞ্জির সাথে রি-অ্যালাইন করা হবে। অর্থ বিভাগের ক্যাশ রিলিজ ‘সমান কিস্তি’ না করে মাইলস্টোনভিত্তিক করা হবে—টেক্সটবুক, প্রশিক্ষণ, নির্মাণ সব কিছুর আলাদা মাইলস্টোন থাকবে।”

তিনি জানান, ইলেকট্রনিক সরকারি ক্রয় ব্যবস্থা বাধ্যতামূলকভাবে আগেভাগে চালু করে প্রি-প্রকিউরমেন্ট প্ল্যানিং করা হবে, যাতে জুনে এসে দরপত্রের ভিড় না হয়। কন্ট্রোলার জেনারেল অব অ্যাকাউন্টসের লেজার পর্যন্ত হিসাব থাকবে, কিন্তু সেই হিসাবের শেষ গন্তব্য হবে ক্লাসরুমে।

৩) উন্নয়ন ব্যয়কে অগ্রাধিকার: মিড-ডে মিল, আধুনিক ল্যাব এবং নারী শিক্ষার্থীদের জন্য উন্নত স্যানিটেশন নিশ্চিত করা।

প্রতিমন্ত্রী জানান, নির্বাচনি অঙ্গীকার অনুযায়ী তারা মিড-ডে মিল, পরিষ্কার টয়লেট এবং নারী শিক্ষার্থীদের জন্য উপযুক্ত স্বাস্থ্যসেবা সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা করবেন।

৪) ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব: শিক্ষকদের জন্য ডিজিটাল পাঠ-পরিকল্পনা ও লার্নিং অ্যাভিডেন্স ট্র্যাকিং সিস্টেম চালু।

ববি হাজ্জাজ জানান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে স্কুল পর্যায়ে ডিজিটাল লিটারেসি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সচেতনতা, সাইবার সেফটি এই তিনটি বাধ্যতামূলক সক্ষমতা হিসেবে নিয়ে আসা হবে।

শিক্ষক ট্যাবের ব্যবস্থা করা হবে জানিয়ে তিনি জানান, শিক্ষক ট্যাবের ভেতর—পাঠ-পরিকল্পনা টেমপ্লেট, প্রশ্নব্যাংক, উপস্থিতি ও শিখন-প্রমাণ (লার্নিং অ্যাভিডেন্স) আপলোড করা যাবে, যাতে ‘শেখা’ ট্র্যাক করা যায়।

৫) বহুভাষিক বাংলাদেশ: বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি চাহিদা অনুযায়ী তৃতীয় ভাষা (আরবি, চীনা, জাপানি বা ফরাসি) শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা।

৬) ইনোভেশন স্পেস: প্রতিটি উপজেলায় স্কুলে ‘রোবোটিক্স ও মেকার কর্নার’ স্থাপন।

৭) খেলাধুলা বাধ্যতামূলক: মানসিক ও শারীরিক বিকাশে মাধ্যমিক স্তরের টাইমটেবিলে স্পোর্টস পিরিয়ড অন্তর্ভুক্ত করা।

৮) পরীক্ষা পদ্ধতির সংস্কার: মুখস্থ নির্ভরতা কমিয়ে আইটেম ব্যাংক ও লার্নিং ট্রাজেক্টরির মাধ্যমে দক্ষতা পরিমাপ।

৯) শিক্ষায় মানদণ্ড নির্ধারণ: সাধারণ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষার বৈচিত্র্য বজায় রেখে ‘ন্যূনতম শিখন মান’ এক করা।

ববি হাজ্জাজ বলেন, “প্লুরালিজম থাকবে— কিন্তু স্ট্যান্ডার্ড এক থাকবে। সরকারি স্কুল, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, আলিয়া মাদ্রাসা, কওমি শিক্ষা, কারিগরি সব আছে। এই বৈচিত্র্যকে আমরা সম্মান করি। কিন্তু বৈচিত্র্য মানেই অসম মান হতে পারে না। তাই, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ যৌথভাবে ন্যূনতম শিখন-মানদণ্ড (মিনিমাম লার্নিং স্ট্যান্ডার্ড) নির্ধারণ করবে।”

কওমি সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন, এবং ক্বারি ও আলেমদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি তাদের অঙ্গীকারের অংশ বলেও তিনি জানান।

১০) ব্রিজ কোর্স: এক শিক্ষা ধারা থেকে অন্য ধারায় যাওয়ার পথ (স্কিল ক্রেডিট) সুগম করা।

১১) উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা: বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ‘জ্ঞান প্রতিষ্ঠানে’ রূপান্তরের লক্ষ্যে স্টুডেন্ট লোন ও ইনোভেশন গ্র্যান্ট প্রদান।

১২) পাবলিক ড্যাশবোর্ড: মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে মাসিক ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে প্রকল্পের অগ্রগতি ও ক্লাসঘণ্টার জবাবদিহি নিশ্চিত করা।

বাস্তবায়নের সময়সীমা ও পরবর্তী পদক্ষেপ

ববি হাজ্জাজ জানান, কাজগুলো তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। আগামী ঈদুল ফিতর পর্যন্ত চলবে ‘ডায়াগনস্টিক রিভিউ’। ঈদের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্মতিতে পরিমাপযোগ্য সূচকসহ ‘জাতীয় শিক্ষা রোডম্যাপ’ ঘোষণা করা হবে। ১২ থেকে ৩৬ মাসের মধ্যে মূল্যায়ন পদ্ধতি ও কারিগরি শিক্ষার বড় সংস্কার সম্পন্ন হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, “সাংবাদিকদের সামনে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, আমরা শিক্ষা নিয়ে রাজনীতি করবো না, আমরা শিক্ষা দিয়ে রাষ্ট্র গড়বো।”

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত