
ইরানের ড্রোন হামলায় সৌদি আরবের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। মার্কিন সেনাদের আশ্রয় দেওয়া ও যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের ভূখণ্ডে ঘাঁটি নির্মাণ করতে দেওয়ার কারণেই সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশের বিরুদ্ধে হামলা চালাচ্ছে ইরান। এই নাজুক পরিস্থিতিতে নিজ দেশের আকাশ হামলা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে সুসংহত করার উদ্যোগ নিয়েছে রিয়াদ। সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবে কিয়েভের সঙ্গে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করেছে রিয়াদ। দুই জ্যেষ্ঠ সৌদি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে আজ শুক্রবার বার্তাসংস্থা এএফপি এই তথ্য জানিয়েছে। এ মুহূর্তে সৌদি আরব সফরে আছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে আগ্রাসন শুরু করে রাশিয়া। প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে হামলায় রাশিয়ার পছন্দের অস্ত্র ইরানে নির্মিত সাশ্রয়ী শাহেদ ড্রোন।
গত চার বছরে এ ধরনের ড্রোন ঠেকানোর ‘বিশেষ পারদর্শিতা’ অর্জন করেছে কিয়েভ। এবার সেই অভিজ্ঞতা থেকে সৌদি আরবের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে চাইছেন জেলেনস্কি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই কর্মকর্তার একজন জানান, ‘আকাশ হামলা প্রতিরোধে যেসব উপকরণ প্রয়োজন, তা উৎপাদনে রিয়াদকে সহায়তা দেবে কিয়েভ। এ মুহূর্তে এ ধরনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তাদের হাতে নেই। এই চুক্তির বিষয়বস্তু এটাই।’ অপর কর্মকর্তা জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার দুই পক্ষের মধ্যে চুক্তি সই হয়েছে।
প্রায় চার বছর ধরে প্রতিদিন রাত্রিকালীন ড্রোন হামলা ঠেকাতে ইউক্রেন সস্তা ইন্টারসেপ্টর ড্রোন, ইলেকট্রনিক জ্যামিং সরঞ্জাম ও আকাশ হামলা প্রতিরোধে সক্ষম কামান ব্যবহার করে থাকে। ইউক্রেনের দাবি, তাদের ড্রোন হামলা সুরক্ষাব্যবস্থা গোটা বিশ্বে সেরা। এক কর্মকর্তা জানান, ইউক্রেন ও সৌদি আরবের মধ্যে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বেচাকেনার চুক্তি হয়নি।
বরং চুক্তির শর্তমতে, ইউক্রেনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সৌদি আরব এমন একটি সুরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করবে, যাতে তাদের বিদ্যমান সুরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে সাশ্রয়ী উপকরণ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডেটা বিশ্লেষণ ও অন্যান্য কার্যকারিতা যোগ করা হবে। এটি ‘শাহেদ ও অন্যান্য ড্রোন’ হামলা ঠেকাতে পারদর্শিতা অর্জন করবে বলে ওই কর্মকর্তা আশাবাদ প্রকাশ করেন। জেলেনস্কি সামাজিক মাধ্যমে নিশ্চিত করেন, উভয় দেশ একে অপরকে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা দেওয়ার বিষয়ে ঐক্যমত্যে পৌঁছাতে পেরেছে। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে দেখা হয়েছে বলেও নিশ্চিত করেন তিনি। জেলেনস্কি বলেন, ‘আমরা আমাদের অভিজ্ঞতা ও সুরক্ষা ব্যবস্থা সৌদি আরবের সঙ্গে ভাগ করে নিতে প্রস্তুত।’ ‘সৌদি আরবেরও এমন সব সক্ষমতা আছে যার বিষয়ে ইউক্রেন আগ্রহী। এ বিষয়গুলো উভয় দেশের জন্যই উপকার বয়ে আনবে’, যোগ করেন তিনি। চুক্তিতে কী কী বিষয়ে দুই দেশ একমত হয়েছে, তা জানাননি জেলেনস্কি।
জেলেনস্কি বলেন, ‘এ বিষয়ে ইউক্রেনের অনন্য পারদর্শিতা আছে এবং সবাই এর স্বীকৃতি দিয়েছে। এ কারণেই সবাই আমাদের প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতার ব্যাপারে জানতে আগ্রহী।’