
পবিত্র হজ পালন শেষে গতকাল পর্যন্ত সৌদি আরব থেকে মোট ৭৭ হাজার ৬৯ জন বাংলাদেশি হাজী দেশে ফিরেছেন।
গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ হজ অফিসের পরিচালক মো. লোকমান হোসেন জানান, নির্ধারিত তিনটি বিমান সংস্থার মাধ্যমে মোট ২১১টি ফিরতি ফ্লাইট পরিচালনা করা হয়েছে। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ১১১টি, সৌদিয়া এয়ারলাইন্স ৭০টি এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স ৩০টি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে।
তিনি আরো জানান, ২১১টি ফ্লাইটে এ পর্যন্ত সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৪৫৯ জন এবং বেসরকারি ট্রাভেল এজেন্সির ব্যবস্থাপনায় ৭২ হাজার ৬১০ জন হাজী দেশে ফিরেছেন।
এয়ারলাইন্স-ভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ১১১টি ফ্লাইটে ৩৪ হাজার ১২২ জন, সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের ৭০টি ফ্লাইটে ২৫ হাজার ৩৭৭ জন এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্সের ৩০টি ফ্লাইটে ১১ হাজার ৪৩ জন হাজী দেশে ফিরেছেন। এছাড়া অন্যান্য বিমান সংস্থায় এসেছেন ৬ হাজার ৫২৭ জন হাজী।
বাকি হাজীগণ নির্ধারিত বিমান সংস্থার মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে দেশে ফিরবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে, হজের মৌসুমে অসুস্থতা ও অন্যান্য শারীরিক জটিলতার কারণে সৌদি আরবে এ পর্যন্ত ৫৫ জন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩৭ জন পুরুষ এবং ১৮ জন নারী।
হজ বুলেটিন অনুসারে, মক্কায় ৩৭ জন, মদিনায় ১৭ জন এবং জেদ্দায় একজন হাজী মারা গেছেন। মিনা বা মুজদালিফায় বাংলাদেশি কারো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।
হজ বুলেটিনের তথ্যমতে, সৌদি আরবের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ৪১৫ জন হাজী চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন এবং ৭ জন হাজী হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। এছাড়া সৌদি মেডিকেল সেন্টারগুলো ৬৭ হাজার ১৪০ জন হাজীকে চিকিৎসাসেবা দিয়েছে এবং মক্কা ও মদিনায় আইটি ডেস্ক থেকে ২৮ হাজার ৪৫২ জন হাজীকে বিভিন্ন সেবা প্রদান করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১৮ এপ্রিল প্রথম বহির্গামী ফ্লাইটের মাধ্যমে হজযাত্রী পরিবহন কার্যক্রম শুরু হয় এবং তা শেষ হয় ২১ মে। ২৬ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হয়। হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ফিরতি হজ ফ্লাইট শুরু হয়েছে ৩০ মে, যা আগামী ১ জুলাই পর্যন্ত চলবে।
হজ অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এবার সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৩ হাজার ৯৩৫ জনসহ সর্বমোট হজযাত্রীর কোটা ছিল ৭৮ হাজার ৫০০ জন।