
উৎপাদন বন্ধ থাকা ২৫টি পাটকলের মধ্যে ২০টি মিল ভাড়া দেওয়ার জন্য নির্বাচন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। গতকাল বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, এরই মধ্যে ১৪টি মিলের লিজ চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে এবং নয়টি মিলে উৎপাদন শুরু হয়েছে। এসব মিলে প্রায় ৯ হাজার ৫০০ জনের কর্মসংস্থান হয়েছে এবং দৈনিক প্রায় ১৬০ মেট্রিক টন পাটজাত পণ্য উৎপাদিত হচ্ছে বলেও তথ্য দিয়েছেন মন্ত্রী। এদিন সচিবালয়ে বাংলাদেশ জুট মিলস লিমিটেডের নরসিংদী ইউনিটের অতিরিক্ত ১৪ দশমিক ৮০ একর জমি জুট অ্যালায়েন্স লিমিটেডের কাছে লিজ দেওয়ার চুক্তি স্বাক্ষর হয়। পরে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এসে আব্দুল মুক্তাদির বলেন, নতুন এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রায় ১ হাজার ৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ আসবে। বছরে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার পণ্য উৎপাদন করা সম্ভব হবে। নতুন করে ৩ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে। তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন অলস শিল্পসম্পদকে উৎপাদনমুখী ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী সম্পদে রূপান্তরের লক্ষ্যেই সরকার ধারাবাহিকভাবে বন্ধ শিল্পকারখানায় বেসরকারি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করছে’। ‘রাষ্ট্রীয় সম্পদ দীর্ঘদিন অলস পড়ে থাকলে তা সম্পদ নয়, বরং দায়ে পরিণত হয়। তাই বন্ধ মিলগুলোকে আধুনিক প্রযুক্তি ও নতুন বিনিয়োগের মাধ্যমে পুনরুজ্জীবিত করে উৎপাদন, কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করাই বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার।’
সরকার নিজে ব্যবসা পরিচালনার পরিবর্তে দক্ষ বেসরকারি খাতকে বিনিয়োগে উৎসাহিত করছে মন্তব্য করে মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘমেয়াদি লিজ, রাজস্ব ভাগাভাগি কিংবা যৌথ মালিকানাভিত্তিক বিভিন্ন পিপিপি মডেলে রাষ্ট্রীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনরুজ্জীবনের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। অধিকাংশ বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোতে আগামী দুই বছরের মধ্যে উৎপাদন কার্যক্রম দৃশ্যমান হবে বলেও আশাবাদী মন্ত্রী। তিনি বলেন, নরসিংদীর বাংলাদেশ জুট মিলস লিমিটেডের ৭৭ দশমিক ০২ একর জমির মধ্যে সাড়ে ৩৪ একর জমি আগে জুট অ্যালায়েন্স লিমিটেডকে লিজ দেওয়া হয়েছিল। ‘সেখানে বর্তমানে দৈনিক প্রায় ৪০ মেট্রিক টন পাটজাত পণ্য উৎপাদিত হচ্ছে এবং প্রায় ৩ হাজার ২০০ জনের কর্মসংস্থান হয়েছে। নতুন জমি যুক্ত হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন ও বিনিয়োগ সক্ষমতা আরও বাড়বে।’
রপ্তানি আয় প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি, ইউরোপীয় বাজারে চাহিদা হ্রাস এবং নতুন শুল্কনীতির প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে ভোক্তা ব্যয় কমেছে। তবে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত ধীরে ধীরে উচ্চমূল্যের ম্যানমেড ফাইবার ও ভ্যালু-অ্যাডেড পণ্যে রূপান্তরিত হচ্ছে।’ এ রূপান্তর সম্পন্ন হলে একই পরিমাণ পণ্য রপ্তানি করেও বেশি বিদেশি মুদ্রা অর্জন সম্ভব হবে বলে আশা করছেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। সংবাদ সম্মেলনে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বলেন, বন্ধ শিল্পকারখানা পুনরায় চালু করা বর্তমান সরকারের অন্যতম নির্বাচনী অঙ্গীকার। পর্যায়ক্রমে বিজেএমসি, বিটিএমসি ও অন্যান্য বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠানেও বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে উৎপাদন কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।