ঢাকা শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

কলকাতা বাঁকড়া মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করতে পারেননি মুসল্লিরা

কলকাতা বাঁকড়া মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করতে পারেননি মুসল্লিরা

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার দমদম বিমানবন্দরের প্রাচীরসংলগ্ন ১৩৬ বছরের পুরোনো বাঁকড়া মসজিদে জুমার নামাজ আদায়ের ঘোষণা দিয়েও সেখানে যেতে পারেননি মুসল্লিরাসহ মসজিদ কমিটির নেতারা।

শুক্রবার সকাল থেকেই ওই এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। একই সঙ্গে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ১৬৩ ধারা জারি করায় সেখানে জমায়েত ও কর্মসূচি পালন সম্ভব হয়নি। ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা আইনের ১৬৩ ধারা আগের ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৪৪ ধারা।

আজ বাঁকড়া মসজিদে জুমার নামাজ আদায় এবং শান্তিপূর্ণ দোয়া ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনের জন্য বৃহস্পতিবার মসজিদ কমিটির সভাপতি এবং রাজ্যের সাবেক মন্ত্রী ভারতের বৃহত্তম মুসলিম সংগঠন জমিয়ত উলামায়ে হিন্দের রাজ্য সভাপতি সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবে শুক্রবার বিমানবন্দরের ৭ নম্বর গেট এলাকায় পৌঁছে সিদ্দিকুল্লাহ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে কর্মসূচি পালন করা সম্ভব হচ্ছে না।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী পরে তাঁর সমর্থকদের নিয়ে কাছের আরেকটি মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেন। এদিকে কলকাতার কয়েকটি এলাকায় কিছু মুসল্লিকে নামাজের সময় হাতে কালো কাপড় বেঁধে নীরব প্রতিবাদ জানাতেও দেখা গেছে।

শুক্রবার সকাল থেকেই বিমানবন্দরের ৭ নম্বর গেট ও আশপাশের এলাকায় ১৬৩ ধারা জারি করা হয়। পুরো এলাকায় মোতায়েন করা হয় পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ, কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী, র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (র‍্যাফ) ও জলকামান। বিধাননগর পুলিশ গোটা এলাকা ঘিরে রেখেছে।

বিমানবন্দরসংলগ্ন বাঁকড়া মসজিদ সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কয়েক দিন আগে সেখানে যাতায়াত ও নামাজ আদায় বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছে মসজিদ কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার কলকাতা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী ও মসজিদ কমিটির সদস্যরা অভিযোগ করেন, ১১ জুলাই থেকে মসজিদে যাওয়ার পথ ভেতর থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তাদের ভাষ্য, কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা জানিয়ে দিয়েছেন, বিমানবন্দরসংলগ্ন ওই মসজিদে আর নামাজ আদায় করা যাবে না।

মসজিদ কমিটির দাবি, ১৩৬ বছরের পুরোনো এ মসজিদে নামাজ বন্ধের আগে তাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করা হয়নি। এমনকি কোনো লিখিত নোটিশও দেওয়া হয়নি।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত