ঢাকা রোববার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

কৃষিপণ্যকে প্রধান রপ্তানি পণ্যে পরিণত করার লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার

বললেন কৃষিমন্ত্রী
কৃষিপণ্যকে প্রধান রপ্তানি পণ্যে পরিণত করার লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার

তিনি বলেন, এ বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাইরে থেকে কোনো পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়নি। বাংলাদেশ একদিন পেঁয়াজসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য বিদেশে রপ্তানি করবে এমন স্বপ্নের কথা উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

গত শুক্রবার কুমিল্লা টাউনহল মাঠে কুমিল্লা জেলা কারিগরি, ভোকেশনাল শিক্ষা ও ট্রেইনিং ইনস্টিটিউশন ফোরাম (টিভিইটি) আয়োজিত তিন দিনব্যাপী কারিগরি শিক্ষা ও উদ্ভাবনী মেলার দ্বিতীয় দিনে 'টেকসই কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তার জন্য কারিগরি শিক্ষা এবং উদ্ভাবন' শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, পৃথিবীতে খাবারের অভাব না থাকলেও নিরাপদ খাবারের মারাত্মক ঘাটতি রয়েছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুস্থ রাখতে এবং মানুষের নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে কৃষিতে কীটনাশকের ব্যবহার কমিয়ে নিরাপদ ও টেকসই উৎপাদনের দিকে যেতে হবে।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ কৃষি উৎপাদনের জন্য পৃথিবীর অন্যতম উর্বর ও সম্ভাবনাময় অঞ্চল। এ দেশের মাটি, বাতাস, আলো ও বৃষ্টির মতো প্রাকৃতিক সুবিধা অন্য অনেক দেশের তুলনায় অনুকূল। একই সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষ অত্যন্ত পরিশ্রমী। এসব সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে কৃষি উৎপাদন আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, ফসলে মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের কারণে মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। বিজ্ঞানীদের গবেষণায় কৃষকদের মধ্যেও ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। তাই নিজেদের সুস্থ রাখতে এবং আগামীর প্রজন্মকে নিরাপদ রাখতে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। কৃষিকাজে কোনো লজ্জা নেই উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, মাঠে যেতে হবে এবং নিজের ফসল নিজেকেই উৎপাদন করতে হবে। আমরা গরুর দুধ খাই, মাংস খাই। তাহলে গরুর গোবর ফেলতে কিসের লজ্জা? সীমিত সম্পদ নিয়েই আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে এবং এর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, দুঃখজনক হলেও এখনও দেশে কাঁচা মরিচ, গাজর ও টমেটো আমদানি করতে হয়। তবে সেই দিন বেশি দূরে নয়, যেদিন এসব পণ্য আর আমদানি করতে হবে না, বরং বাংলাদেশই এসব কৃষিপণ্য বিদেশে রপ্তানি করবে। অনুষ্ঠানের শুরুতে মন্ত্রী মেলায় প্রদর্শিত বিভিন্ন স্টল ও শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী প্রকল্প ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন উদ্ভাবনী উদ্যোগের প্রশংসা করেন। কুমিল্লার জেলা প্রশাসক রোজী আক্তারের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. ইউসুফ মোল্লা টিপু। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কুমিল্লা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ভাইস প্রিন্সিপাল ইঞ্জিনিয়ার মো. সাখাওয়াত হাসান। স্বাগত বক্তব্য দেন কুমিল্লা কৃষি ও কারিগরি কলেজের অধ্যক্ষ পরমানন্দ গোস্বামী।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত