
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট (বাস্থই) আয়োজন করেছে বাংলাদেশ আর্কসামিট ২০২৬; যা স্থপতি, শিক্ষাবিদ, পেশাজীবী, নীতিনির্ধারক, নগর নেতৃত্ব, শিল্পখাতের প্রতিনিধি, শিক্ষার্থী এবং নির্মিত পরিবেশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অংশীজনের অংশগ্রহণে আয়োজিত বাস্থই এর বার্ষিক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সম্মেলন। চার দিনব্যাপী এ সামিট অনুষ্ঠিত হচ্ছে ৮ থেকে ১১ অক্টোবর পর্যন্ত, বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে। সামিটের প্রতিপাদ্য— Co-Creating Cities for All।
বর্তমানে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন নগরায়ণ ও নগর প্রবৃদ্ধি, চলাচল ব্যবস্থা, আবাসন, জলবায়ু সহনশীলতা, অবকাঠামো, জনপরিসর, পরিবেশগত স্থায়িত্ব, ঐতিহ্য সংরক্ষণ, নগর সুশাসন এবং নগর সুবিধায় সমান সুযোগ নিশ্চিত করার মতো ক্রমবর্ধমান জটিল চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এ প্রেক্ষাপটে ArchSummit এমন একটি অভিন্ন প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে চায়, যেখানে স্থাপত্য, নগর শাসন ও ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা, পেশাগত চর্চা, শিল্পখাত, প্রযুক্তি এবং সমাজ একত্রিত হয়ে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, সহনশীল, সাড়া-দানে সক্ষম এবং মানুষকেন্দ্রিক নগর কীভাবে সম্মিলিতভাবে গড়ে তোলা যায়, তা নিয়ে আলোচনা করতে পারে।
বাংলাদেশ আর্কসামিটের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হবে 'Mayors' Talks', যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও বাংলাদেশের নগর নেতৃত্ব এবং জ্যেষ্ঠ নগর প্রশাসকরা স্থাপত্য ও পেশাজীবী সম্প্রদায়ের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করবেন। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শ্রীলঙ্কা, ফিলিস্তিন ও নেপাল থেকে প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করবেন এবং তাদের শহরের বিভিন্ন সামাজিক, স্থানিক, পরিবেশগত, উন্নয়নমূলক ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জের অভিজ্ঞতা তুলে ধরবেন। আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে রয়েছেন Ms. Vraie Cally Balthazaar, Mayor of Colombo Municipal Council, Sri Lanka; Mr. Majed Jamal Amin Abdulfattah, Deputy Mayor of Ramallah, Palestine; Laxmi Maharjan, Deputy Mayor of Mahalaxmi Municipality, Lalitpur, Nepal; Er. Deej Raj Bhatta of Dhangadi Sub-Metropolitan City, Nepal, Ar. Jeravei Hongsakul, Founder, IDIN Architects, Thailand, Ar. Prof. Wu Jiang, President, ARCASIA, China & Ammar Yaser Ahmad Khammash, Founder & Principal Architect, Khammash Architects, Jordan-র পাশাপাশি কলম্বো ও রামাল্লাহর নগর পরিকল্পনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিরাও এতে অংশগ্রহণ করবেন।
আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার পাশাপাশি বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ নগর প্রতিষ্ঠান ও সিটি কর্পোরেশনগুলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিগণও এই আয়োজনে অংশ নেবেন। কর্মসূচিতে থাকছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন, বরিশাল সিটি কর্পোরেশন, কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন ও খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক; চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র; এবং রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এবং কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানরা, পাশাপাশি অন্যান্য সংশ্লিষ্ট নগর কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরা।
'Mayors' Talks' নগর উন্নয়ন নিয়ে প্রচলিত আলোচনার গণ্ডি পেরিয়ে নগর নির্মাণ ও ব্যবস্থাপনার বাস্তবতার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত হওয়ার জন্য নগর নেতৃত্ব ও স্থপতিদের একটি বিরল সুযোগ তৈরি করবে। অংশগ্রহণকারী নগর নেতারা তাঁদের নিজ নিজ শহরের বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ, গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ ও হস্তক্ষেপ, এবং উন্নত নগর গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বিদ্যমান সুযোগ ও সীমাবদ্ধতা তুলে ধরবেন। এ সেশনগুলোর মাধ্যমে সিদ্ধান্তগ্রহণকারী এবং স্থাপত্য পেশাজীবীদের মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং উন্মুক্ত সংলাপের সুযোগ তৈরি হবে— যাতে নগরগুলো কীভাবে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, টেকসই, সহনশীল, সবার জন্য সহজপ্রাপ্য এবং নাগরিকদের প্রয়োজনের প্রতি আরও সাড়া-দানে সক্ষম হয়ে উঠতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা করা যায়।
সামিটে স্থাপত্য ও নগর নির্মাণের বিভিন্ন মাত্রাকে সংযুক্ত করে বিস্তৃত কর্মসূচি থাকছে। এর মধ্যে রয়েছে International Conference on Architectural Education (ICAE 2026), যার প্রতিপাদ্য "Rethinking Architectural Education for Future Practice"; Architects' Talks; "Emerging Voices of Contemporary Architecture in Bangladesh"; IAB Build-Expo; Build Talks; ACYA Talks; শিক্ষার্থী প্রতিযোগিতা এবং বিভিন্ন নেটওয়ার্কিং আয়োজন।
Co-Creating Cities for All প্রতিপাদ্যটি স্থাপত্যকে শুধু পৃথক ভবন বা পেশাগত চর্চার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে আরও বৃহত্তর একটি প্রশ্নের দিকে আলোচনাকে সম্প্রসারিত করার বাস্থই এর প্রত্যয়কে প্রতিফলিত করে— কীভাবে শহরগুলোকে সম্মিলিতভাবে কল্পনা, পরিকল্পনা, নকশা, পরিচালনা, নির্মাণ এবং অভিজ্ঞতা করা যায়।
সামিটটি স্বীকার করে যে উন্নত শহর গড়ে তোলা কেবল স্থপতিদের একক দায়িত্ব নয়। এর জন্য প্রয়োজন নগর কর্তৃপক্ষ, নীতিনির্ধারক, পরিকল্পনাবিদ, স্থপতি, প্রকৌশলী, শিক্ষাবিদ, শিল্পখাত, স্থানীয় জনগোষ্ঠী, তরুণ পেশাজীবী, শিক্ষার্থী এবং নাগরিকদের মধ্যে সহযোগিতা। বিভিন্ন পক্ষের এসব কণ্ঠকে একত্রিত করার মাধ্যমে ArchSummit অর্থবহ সংলাপ সৃষ্টি এবং সম্মিলিত উদ্যোগের সম্ভাবনাগুলো চিহ্নিত করার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন দেশের নগর নেতৃত্বের পাশাপাশি বাংলাদেশের নগর প্রশাসক ও উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ 'Mayors' Talks'-কে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। এসব সেশন নগর পরিচালনার বাস্তব অভিজ্ঞতার সঙ্গে স্থাপত্য পেশার জ্ঞান ও দক্ষতাকে যুক্ত করবে এবং শুধু ভবিষ্যতের শহর কেমন হওয়া উচিত তা নয়, বরং নাগরিক ও পেশাজীবী সম্প্রদায়ের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সেই পরিবর্তন কীভাবে বাস্তবায়ন করা যায়—তা নিয়েও আলোচনার সুযোগ তৈরি করবে। চার দিনব্যাপী এ আয়োজনের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্থপতি ইনসটিটিউট (বাস্থই) ArchSummit-কে সংলাপ, জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়, সহযোগিতা এবং সম্মিলিত নগর-ভাবনার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়। একই সঙ্গে আজ ও আগামী দিনের শহরকে প্রভাবিত করা, বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা মোকাবিলায় দেশ-বিদেশের বহুমাত্রিক অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গিকে একত্রিত করাই এ আয়োজনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।