ঢাকা শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

অপতথ্য মোকাবিলায় সচেতনতার বিকল্প নেই

বললেন জাহেদ উর রহমান
অপতথ্য মোকাবিলায় সচেতনতার বিকল্প নেই

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো অপতথ্য, ভুল তথ্য ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণা মোকাবিলায় গণমাধ্যম ও ডিজিটাল বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

তিনি বলেন, শুধু আইন করে অপতথ্য মোকাবিলা করা সম্ভব নয়; পাশাপাশি মানুষকে সচেতনও করতে হবে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও বয়স্ক ব্যক্তিদের তথ্য যাচাইয়ের বিষয়ে শিক্ষা দিতে হবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে গ্লোবাল মিডিয়া অ্যান্ড ইনফরমেশন লিটারেসি (এমআইএল) উইক ২০২৬ উপলক্ষে এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ভুল তথ্য, অপতথ্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো শুধু বাংলাদেশের সমস্যা নয়, বৈশ্বিক সমস্যা। বিশেষ করে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এসব তথ্য সারা বিশ্বেই ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। তবে বাংলাদেশে গণমাধ্যম ও ডিজিটাল বিষয়ে মানুষের সচেতনতা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম থাকায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক।

তিনি বলেন, অপতথ্য মোকাবিলায় সরকার যৌক্তিক আইনি কাঠামো তৈরির উদ্যোগ নেবে। তবে আইন প্রণয়নের পাশাপাশি মানুষকে শিক্ষিত ও সচেতন করার বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বয়স্কদের অসচেতনতার কথা তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, দেশের অনেক শিক্ষিত অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিও কোনো খবরের উৎস জানতে চাইলে বলেন, তারা ফেসবুক থেকে সেটি পেয়েছেন। প্রয়োজনীয় জ্ঞান ছাড়াই বয়স্ক ব্যক্তিরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সংস্পর্শে এসেছেন। শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, সত্য সব সময় স্বস্তিদায়ক হয় না। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'সত্য যে কঠিন, কঠিনেরে ভালোবাসিলাম' পঙক্তি উল্লেখ করে তিনি বলেন, সত্য জানতে চাইলে কখনো কখনো অস্বস্তিকর তথ্যও মেনে নিতে হবে। কিন্তু বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন অনেক জায়গা রয়েছে, যেখানে মানুষ নিজের পছন্দমতো তথ্য পেতে পারে।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) যুগে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে এ প্রযুক্তির ব্যবহার ও নিয়ন্ত্রণ নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। অ্যানথ্রোপিকের মতো প্রতিষ্ঠান এআইয়ের জন্য নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ও সুরক্ষাব্যবস্থা তৈরির পক্ষে কথা বলছে। তবে কার্যকর নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ইতোমধ্যে অনেক দেরি হয়ে গেছে বলে আলোচনা রয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে বাংলাদেশসহ সব দেশকে এ বিষয়ে কাজ করতে হবে। অপতথ্য মোকাবিলায় শুধু দেশের ভেতরে উদ্যোগ নিলেই হবে না, বৈশ্বিক পর্যায়েও যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়াতে হবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যালগরিদমের কারণেও সঠিক তথ্য ছড়ানো কঠিন উল্লেখ করে শোশানা জুবফের বইয়ের প্রসঙ্গ টেনে উপদেষ্টা বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যালগরিদম মানুষের রাগ, ক্ষোভ ও প্রতিশোধ স্পৃহাসহ নেতিবাচক আবেগকে গুরুত্ব দেয়। ফলে খারাপ খবর ও অপতথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়লেও তথ্য যাচাই এবং সঠিক তথ্য প্রচার একইভাবে মানুষের কাছে পৌঁছায় না। তিনি বলেন, অপতথ্য ছড়িয়ে পড়ার পর তা মোকাবিলার চেয়ে আগে থেকেই মানুষকে সচেতন করা বেশি জরুরি। কোনো তথ্য বিশ্বাস বা প্রচার করার আগে তার সত্যতা ও নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে গণমাধ্যম ও তথ্য বিষয়ে সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয় সময়োপযোগী উদ্যোগ নিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টি এমআইএল সপ্তাহ পালন করছে, যা প্রশংসনীয়। দেশের অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোরও এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া উচিত।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, নিজেদের পাশাপাশি মা-বাবা ও বয়স্ক আত্মীয়স্বজনকেও তথ্য যাচাইয়ের বিষয়ে সচেতন করতে হবে। কারণ, তাদের অসচেতনতা অপতথ্য ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণা ছড়িয়ে পড়ার অন্যতম সুযোগ তৈরি করে।

ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. আশিক মোসাদ্দিক, বাংলাদেশে ইউনেস্কোরের প্রধান ড. সুজান ভাইজ প্রমুখ।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত