ঢাকা শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

সিঙ্গাপুরে কয়েক মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না প্রায় ২০০ বাংলাদেশি

দুই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্ত
সিঙ্গাপুরে কয়েক মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না প্রায় ২০০ বাংলাদেশি

সিঙ্গাপুরে দুটি প্রতিষ্ঠানে প্রায় ২৪০ অভিবাসী কর্মী গত ২-৩ মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না। তাদের বেশিরভাগই বাংলাদেশি। এর মধ্যে গত কয়েক সপ্তাহে অনেকের কাজের অনুমতিও বাতিল করা হয়েছে। বেতন না পেয়ে এবং কাজ হারিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের প্রবাসীকর্মীরা। দেশটির সংবাদমাধ্যম দ্য স্ট্রেইটস টাইমস জানায়, প্রতিষ্ঠান দুটির নাম প্রসেস মেইনটেন্যান্স সলিউশনস এবং জুরং টেকনিক্যাল অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন। সিঙ্গাপুরের জনশক্তি মন্ত্রণালয় গত ২৪ অক্টোবর এক বিবৃতিতে জানায়, প্রতিষ্ঠান দুটির বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। শ্রম আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মন্ত্রণালয় ও অভিবাসী শ্রমিকদের সহায়তাকারী সংস্থা মাইগ্র্যান্ট ওয়ার্কার্স সেন্টার (এমডব্লিউসি) কর্মীদের সহায়তা করছে। বকেয়া বেতন আদায়ে ইতোমধ্যে ত্রিপারটাইট অ্যালায়েন্স ফর ডিসপিউট ম্যানেজমেন্টের কাছে অভিযোগও জমা দেওয়া হয়েছে।

পাবনার হোসাইন মিদুল (২৪) বলেন, ২০২৫ সালের জুলাইয়ে সিঙ্গাপুরে যাওয়ার পর থেকে তিনি মাসে ৬০০ ডলার বেতন পেতেন। এর প্রায় পুরোটাই দেশে পরিবারের কাছে পাঠিয়ে দিতেন। কিন্তু গত দুই মাস ধরে পরিবারকে কোনো টাকা পাঠাতে পারেননি। মিদুলের ভাষ্য, তার কাজের অনুমতির মেয়াদ ২০২৭ সালের জুলাই পর্যন্ত। কিন্তু অক্টোবরের শুরুর দিকে কোনো কারণ না জানিয়েই নিয়োগকর্তা সেটা বাতিল করে দেন।

সিঙ্গাপুরে কাজ পেতে এজেন্টকে টাকা দিতে তিনি ৯ হাজার ডলারের ব্যাংক ঋণ নিয়েছিলেন। তার আয়ের প্রায় অর্ধেকই ঋণের কিস্তি পরিশোধে ব্যয় হতো। বাকি টাকা দিয়ে ছয় সদস্যের পরিবারের খরচ চালাতেন। মিদুল বলেন, 'আমার পরিবারের আর্থিক অবস্থা খুব খারাপ। তাদের সহায়তা করতেই বাড়ি ছেড়ে এসেছি। কিন্তু এখন আমার কাজও নেই, বেতনও নেই। ভয় হচ্ছে, আমার পরিবারকে অনেক কষ্ট করতে হবে।' প্রসেস মেইনটেন্যান্স সলিউশনসের কাছে তার ১ হাজার ৮০০ ডলার বেতন বকেয়া রয়েছে। একই প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের পাশাপাশি বিপাকে পড়েছেন জুরং টেকনিক্যাল অ্যান্ড কনস্ট্রাকশনে কাজ করা ২১ বছর বয়সী সাইমন ইসলামও। তার প্রায় ১ হাজার ৮০০ ডলার বেতন বকেয়া। তবে এই টাকার পুরোটা ফেরত পাবেন কি না, তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন তিনি। দুই প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা জানিয়েছেন, গত আগস্ট থেকে তাদের বেতন দেওয়া বন্ধ হয়ে যায়। সেপ্টেম্বরের শেষ দিক থেকে দফায় দফায় কর্মীদের কাজের অনুমতি বাতিল করা হয়েছে।

দ্য স্ট্রেইটস টাইমস প্রসেস মেইনটেন্যান্স সলিউশনসের ১৫ কর্মীর সঙ্গে কথা বলেছে। তাদের ৫ জন জানান, অক্টোবরে তারা বকেয়া বেতন পেয়েছেন। অন্যদিকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত জুরং টেকনিক্যাল অ্যান্ড কনস্ট্রাকশনের চার কর্মী জানিয়েছেন, তারা এ পর্যন্ত বেতনই বেতন পাননি।

কর্মীরা জানিয়েছেন, সিঙ্গাপুরে কাজ পেতে বাংলাদেশের এজেন্টদের কাউকে কাউকে ১২ হাজার ডলারেরও বেশি দিতে হয়েছে। তারা মূলত শিল্পকারখানায় বিশেষায়িত কাজ, যন্ত্রপাতির রক্ষণাবেক্ষণ ও সংশ্লিষ্ট কাজে নিয়োজিত ছিলেন। এ ধরনের কাজ সাধারণত জুরং আইল্যান্ডের মতো শিল্পাঞ্চলে হয়ে থাকে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত