
সিরাজগঞ্জে এবার বরই ফল বাগান চাষাবাদে বাম্পার ফলন হয়েছে। এ ফলের বাজার ভালো থাকায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। এ বাগান চাষে অনেক কৃষকের সচ্ছলতা ফিরেছে। বাগানে পাখির উপদ্রব ঠেকাতে নেট ব্যবহার করা হচ্ছে। জেলার ৯টি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ২৯২ হেক্টর জমিতে এ চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কৃষকেরা এ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি চাষাবাদ করেছে। এ জেলার উল্লাপাড়া, কামারখন্দ, কাজিপুর, রায়গঞ্জ ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন স্থানে এ ফল বাগান চাষ বেশি হয়েছে। এ চাষে সেচসহ ইউরিয়া, পটাশ, কীটনাশক ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
প্রতিবছরের নভেম্বর থেকে ডিসেম্বর মাসের মধ্যে এ বরই গাছের চারা রোপণ করা হয়। তবে সারা বছরই হাইব্রিড জাতের বরই ফল চাষ করা হয়ে থাকে। বিশেষ করে উঁচু, দোআঁশ ও বালি জাতীয় জমিতে এ চাষাবাদ ভালো হয় এবং অনেক স্থান থেকে এ চারা সংগ্রহ করে জমিতে রোপণ করা হয়। এসব ফলের চারার মধ্যে রয়েছে ভারত সুন্দরী, আপেল কুল, কাশমেরি ও বাউকুল। এসব জাতের বরই গাছ বাগানে ৫-৬ বছর ফল দেয়। স্থানীয় কৃষকেরা বলেছেন, এ ফল চাষাবাদে গাছের সাথে বাঁশ ও শক্ত খুটি দিয়ে প্রায় ২ গজ পরপর বেঁধে দেওয়া হয়। প্রায় ৭ মাস পর এ বাগানে ফল গাছে ফুল ফুটে থাকে। এ ফুল থেকেই বরই ফলের উৎপন্ন হয়ে থাকে। এবার এ ফল বাগান চাষে বাম্পার ফলন হয়েছে। এ বাগানে এখন পাখির উপদ্রব ঠেকাতে নেট ব্যবহার করা হচ্ছে। খরচ কম লাভ বেশি এ ফল বাগান চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছে কৃষকেরা। এ চাষাবাদে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার যমুনা নদীর তীরবর্তী রতনকান্দি গ্রামের আদর্শ কৃষক জহুরুল ইসলাম, মোমিন, নজরুল মুন্সি, রুহুল আমিন ও আনোয়ার হোসেন ৪-৫ বছর ধরে এ চাষাবাদ করছেন। এ বিষয়ে কৃষক জহুরুল ও কলেজ ছাত্র রুহুল আমিন বলেন, ৪-৫ বছর ধরে এ বরই বাগান চাষ করছি। গত বছরের চেয়ে এবার এ চাষাবাদে ফলনও ভালো হয়েছে। এরইমধ্যে বাগান থেকে এ বরই উৎপাদন শুরু হয়েছে। স্থানীয় হাট-বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে এ বরই বিক্রি হচ্ছে। বিশেষ করে পাইকারীরা বাগান থেকেই বরই ক্রয় করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করছে। বর্তমানের হাট-বাজারে প্রতিকেজি বিভিন্ন জাতের বরই গড়ে ১৬০ টাকা থেকে ২৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। তবে বাজারে ভারত সুন্দরী, আপেল কুল ও কাশমেরির কদর বেশি। এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক একেএম মঞ্জুরে মওলা আলোকিত বাংলাদেশকে বলেন, এ ফল বাগান চাষে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ লাভজনক চাষাবাদে কৃষকেরা আগ্রহী হয়ে উঠছে। এবার এ চাষাবাদে বাম্পার ফলন হয়েছে এবং বাজার ভালো থাকায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।