ঢাকা বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬, ২৬ ফাল্গুন ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

সুসংবাদ প্রতিদিন

চান্দিনায় ভুট্টা চাষে বিপ্লব

চান্দিনায় ভুট্টা চাষে বিপ্লব

কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার মাটি ও জলবায়ু যে কোনো ফসলের জন্যই উর্বর, কিন্তু এবার মেহার গ্রামে এক ভিন্নধর্মী কৃষিবিপ্লবের চিত্র ফুটে উঠেছে। এখানকার নিভৃত এক গ্রামে আধুনিক কৃষি পদ্ধতির প্রয়োগে সফলতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছেন কৃষক ইসমাইল হোসেন। মাত্র ১৪ শতাংশ জমিতে তিনি যে ভুট্টা চাষের উদ্যোগ নিয়েছেন, তা এখন শুধু তার নিজের ভাগ্য নয়, বরং এলাকার অন্য কৃষকদের কাছেও এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাঠে দোল খাওয়া সবুজ পাতা আর থরে থরে সাজানো ভুট্টার মোচা জানান দিচ্ছে এক বাম্পার ফলনের আগাম বার্তা।

ইসমাইল হোসেনের এই যাত্রার শুরুটা ছিল অত্যন্ত পরিকল্পিত। প্রথাগত চাষাবাদের বাইরে গিয়ে তিনি অল্প জমিতে অধিক লাভের আশায় ভুট্টা চাষের সিদ্ধান্ত নেন। তার এই প্রকল্পের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক ছিল সাথী ফসল হিসেবে ধনিয়ার চাষ। একই সার, একই সেচ এবং একই পরিচর্যায় মূল ফসলের পাশাপাশি বাড়তি ফসল ঘরে তোলার এই কৌশলে তিনি শুরুতেই চমক দেখিয়েছেন। ভুট্টার চারা যখন বড় হচ্ছিল, তখন সেই একই জমি থেকে তিনি আগাম ধনিয়াপাতা ও বীজ আহরণ করেন। এটি ছিল তার মূল আয়ের অতিরিক্ত একটি বড় প্রাপ্তি, যা মূলত তার চাষাবাদের প্রাথমিক খরচের অনেকটা অংশই জুগিয়ে দিয়েছে।

ইসমাইল হোসেন অত্যন্ত আশাবাদী হয়ে জানান, ভুট্টা গাছের বর্তমান ধরন, বৃদ্ধি এবং মোচার আকার দেখে তিনি নিশ্চিত যে, এবার প্রত্যাশার চেয়েও বেশি ফলন হবে। তার হিসাব অনুযায়ী, ফসল পুরোপুরি ঘরে ওঠার পর এবং বাজারজাত করার পর তার খরচ বাদে কমপক্ষে তিনগুণ লাভ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। চান্দিনার মেহার গ্রামের এই ফসলের মাঠ এখন স্থানীয়দের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। অনেক কৃষকই এখন ইসমাইলের কাছে পরামর্শ নিতে আসছেন কীভাবে অল্প জমিতে এমন লাভজনক চাষাবাদ সম্ভব। ভুট্টার চাষ শুধু দানাশস্য হিসেবেই নয়, এর ডাটা এবং অবশিষ্ট অংশ গবাদি পশুর উন্নত মানের পশুখাদ্য ও জ্বালানি হিসেবেও ব্যবহৃত হয়, যা কৃষকের জন্য বাড়তি আয়ের উৎস। ইসমাইল হোসেন মনে করেন, সরকারের কৃষি বিভাগ থেকে যদি আরও উন্নত বীজ এবং কারিগরি সহায়তা সময়মতো পাওয়া যায়, তবে মেহার গ্রামের প্রতিটি ইঞ্চি জমিতেই এমন অভাবনীয় ফলন ফলানো সম্ভব।

বর্তমানে মাঠজুড়ে থাকা ভুট্টার প্রতিটি সারিতে যেন ইসমাইলের কঠোর পরিশ্রমের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। কোনো রোগবালাইয়ের বালাই নেই, বরং সতেজ চারাগুলো রোদে ঝলমল করছে। ইসমাইলের এই সাফল্য স্থানীয় কৃষি অর্থনীতিতে এক নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে। তিনি প্রমাণ করেছেন যে, আধুনিক চিন্তা এবং কৃষি কৌশলের সঠিক সমন্বয় ঘটাতে পারলে স্বল্প জমি থেকেও জীবন বদলে দেওয়ার মতো আয় করা সম্ভব। যে ভুট্টার ওপর আজ ইসমাইল হোসেন তার উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ন বুনছেন, তা হয়তো খুব শিগগিরই মেহার গ্রাম ছাড়িয়ে পুরো চান্দিনা উপজেলার কৃষকদের জন্য এক নতুন অর্থকরী ফসলের দিকনির্দেশনা হয়ে উঠবে। তার এই সাফল্যের পেছনে থাকা পরিশ্রম এবং পরিমিত ব্যয়ের বিপরীতে উচ্চ মুনাফার গল্পটি এখন প্রতিটি চাষির মুখে মুখে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত