
সিরাজগঞ্জে রবি মৌসুমে সবুজের ফাঁকে মাঠজুড়ে সরিষার হলুদ ফুলের সমারোহ সৃষ্টি হয়েছে। এ সরিষার ফুল বাগানে এরইমধ্যে মৌ-চাষিরা মধু সংগ্রহের বাক্স স্থাপন করেছেন। এ মধু উৎপাদনে তারা এখন ব্যস্ত সময় পার করছে। এবার মধু সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে এবার জেলায় ৮৭ হাজার ১২৫ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। তবে কৃষকেরা এ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি চাষাবাদ করেছে। শস্যভান্ডার খ্যাত এ জেলার চলনবিল এলাকার তাড়াশ, উল্লাপাড়া, রায়গঞ্জ, শাহজাদপুর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এ চাষাবাদ বেশি হয়েছে। এ মৌসুমি সরিষা চাষাবাদের মধ্যে টরি-৭, বারি-১৪, বিনা-৯ ও বিনা-১৪ বেশি চাষাবাদ করা হয়েছে। তবে চরাঞ্চলেও এ সরিষা চাষাবাদ কম নয়। এ লাভজনক চাষাবাদে সরিষার ফুল ফোটার শুরুতেই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মৌ-চাষিরা এ জেলায় এসেছে এবং তারা এরইমধ্যে মধু সংগ্রহের জন্য এ জেলার বিভিন্ন স্থানে তাদের মৌ বাক্স স্থাপন করেছেন। প্রায় ২ সপ্তাহে শতাধিক মৌ খামারিরা এ জেলার বিভিন্ন স্থানে মধু সংগ্রহে লক্ষাধিক বাক্স স্থাপন করেছেন এবং তারা মধু সংগ্রহে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। এবার ফুলে ভরা সরিষার খেত থেকে ৪০৫ টন মধু সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরমধ্যে চলনবিল এলাকার উপজেলাসহ বিভিন্ন স্থানে এ মধু সংগ্রহ বেশি হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। মৌ খামারিরা বলছেন, ফুুলে ভরা সরিষা খেতে যথাসময়ে মৌ বাক্স স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিটি মৌ বাক্স থেকে গড়ে সপ্তাহে দেড় মন মধু সংগ্রহ করা হয়ে থাকে। তবে এই হাড়কাঁপানো শীতে মধু সংগ্রহে চরম বিঘেœর সৃষ্টি হচ্ছে। শস্যভান্ডার খ্যাত উল্লাপাড়া উপজেলার লাহিড়ী মোহনপুর বাজার এলাকায় (জাইকার অর্থায়নে) মধু প্রসেসিং প্ল্যান্ট স্থাপিত হয়েছে। এ প্ল্যান্টে প্রতিদিন প্রায় এক মেট্রিক টন মধু পরিশোধন করা যাবে। এজন্য উৎপাদিত মধু প্রক্রিয়াজাত করতে আর কোথাও যেতে হবে না। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক একেএম মনজুরে মাওলা এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি আলোকিত বাংলাদেশকে বলেন, সরিষা চাষাবাদ ও মধু সংগ্রহে দেশের অন্যতম জেলা সিরাজগঞ্জ। এ কারণে মধু উৎপাদন ক্ষেত্রে এ জেলা অন্যতম। এ চাষাবাদ ও মধু সংগ্রহে কৃষকদের সংশ্লিষ্ট কৃষি বিভাগ থেকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে মধু সংগ্রহে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।