
পাবনা শহরে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, ইজিবাইক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার কারণে তীব্র যানজট দেখা দিয়েছে। যানজটে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। অপরদিকে পবিত্র ঈদুল ফিতর সামনে রেখে কেনাকাটার জন্য বিপণিবিতানগুলোতে ভিড় বাড়ছে। জেলার নয়টি উপজেলা ছাড়াও পাশের সিরাজগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলার মানুষ পাবনা শহরে কেনাকাটা করতে আসেন।
ফলে স্বাভাবিকভাবেই অন্য সময়ের তুলনায় যানজট বেড়েছে। অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে যানবাহন বাদ দিয়ে শহরে হেঁটে চলাও সম্ভব হচ্ছে না। কোথাও পা ফেলার জায়গা নেই। এ অবস্থা চলে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত।
প্রতিদিন শহরের এডওয়ার্ড কলেজ মোড়, আলিয়া মাদ্রাসার সম্মুখ, ট্রাফিক মোড়, ইন্দিরা মোড়, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড ও পোস্ট অফিস মোড়ে যানজটের অবস্থা দেখলে মনে হবে এগুলো দেখার যেন কেউ নেই। সড়কের ওপর পার্কিং ও ইউটার্ন যানজট আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
পাবনা শহরের জেলাপাড়া মহল্লার বাসিন্দা কৃষি অফিসের কর্মকর্তা শাজাহান আলি জানান, প্রতি বছর রমজান এলেই তীব্র যানজটের সমস্যায় পড়তে হয়। অফিস শেষে বাড়িতে গিয়ে ইফতারের ব্যবস্থা করাটা অনেক কঠিন হয়ে যায়। অফিস শেষে বাড়িতে গিয়ে ইফতার করা যাবে কি না, সেটা নিয়ে সন্দেহ তার মতো অনেকের। কারণ এই শহরে আগের চেয়ে ইজিবাইক ও অটোরিকশার সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। যানজটের কারণে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে সময় লাগছে বেশি।
পাবনা পৌরসভার ট্রেড লাইসেন্স ইনস্পেক্টর মির্জা মো. রইচ উদ্দিন জানান, শহরে এখন অটোবাইক-রিকশার সংখ্যা ৯ হাজারেরও বেশি। এর মধ্যে পাবনা পৌরসভা থেকে অটোবাইকের ট্রেড লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে ৩ হাজার ৫শত। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার লাইসেন্স আছে ৪ হাজার ২৩৪টি। অথচ শহরে চলাচল করে এর অনেক বেশি। তিনি বলেন, লাইসেন্সবিহীন অটোবাইক ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার বিরুদ্ধে মাঝেমধ্যে অভিযান চালানো হচ্ছে। কিন্তু একেবারে বন্ধ করা যাচ্ছে না।
পাবনা ট্রাফিক ইন্সপেক্টর সাদাকাতুল বারী জানান, পাবনা পৌরসভা ও জেলা পুলিশের যৌথ উদ্যোগে শহরে যানজট নিরসনে কাজ করা হচ্ছে। যানজটের মূল কারণ হচ্ছে অধিক পরিমাণ অবৈধ ইজিবাইক ও অটোরিকশা বেড়ে যাওয়া।
পাবনা পৌরসভার প্রশাসক দুলাল উদ্দিন বলেন, ‘আশপাশের বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলাগুলোর পৌরসভা থেকে নিবন্ধন নেওয়া ইজিবাইক শহরে ঢুকে পড়ছে। মানবিক কারণে এসব অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।’
শহরের যানজট সমস্যা নিরসনে পাবনা সদর (পাবনা-৫) আসনের সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস বলেন, ‘যানজট সমস্যা নিরসনে শহরের ভেতর দিয়ে যাওয়া প্রধান সড়কটিকে ফোর লেন করা আমার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল। সেই লক্ষ্যে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পরপরই আমি পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করেছি। স্থানীয় সড়ক বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করেছি।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পাবনা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মনসুরুল আজিজ বলেন, ‘পাবনা শহরের প্রধান সড়কটি ফোর লেন করতে সরকারের কাছে একটি প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো আছে। আশা করছি, আগামী অর্থবছরেই পাবনা শহরের ফোর লেন প্রকল্পটি পাস হবে।’