ঢাকা বুধবার, ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

জাতি দিশাহারা হলে পথ দেখাবে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর

বললেন প্রধান উপদেষ্টা
জাতি দিশাহারা হলে পথ দেখাবে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর

জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের চূড়ান্ত পর্যায়ের কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। এই জাদুঘর ভবিষ্যতে জাতিকে পথ দেখাবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধান উপদেষ্টা। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে গণভবনে নির্মাণাধীন জাদুঘর পরিদর্শন করেন। এ সময় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

জাদুঘরে থাকা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পেছনের ইতিহাস এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ১৬ বছরের দুঃশাসনের বিভিন্ন চিত্র ঘুরে দেখেন। পরিদর্শনকালে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘এই জাদুঘর জুলাই শহীদদের রক্ত তাজা থাকতেই করা সম্ভব হয়েছে, এটা গোটা পৃথিবীর এক নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত। আমরা চাই না ভবিষ্যতে কোথাও আর এমন জাদুঘর তৈরির প্রয়োজন হোক। যদি আমাদের জাতি কখনো কোনো কারণে দিশাহারা হয়, তবে এই জাদুঘরে পথ খুঁজে পাবে।’

দেশের প্রত্যেক নাগরিককে জাদুঘর পরিদর্শনের আহ্বান জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘দেশের প্রত্যেক নাগরিকের উচিত হবে এখানে এসে একটি দিন কাটানো, শিক্ষার্থীরা দল বেঁধে এই জাদুঘরে আসবেন। এই জাদুঘরে একটা দিন কাটালে মানুষ জানতে পারবে কী নৃশংসতার মধ্য দিয়ে এ জাতিকে যেতে হয়েছে। এখানে যে আয়নাঘরগুলো তৈরি হয়েছে, সেখানে কিছু সময়, কয়েক ঘণ্টা অথবা একটা দিন কেউ যদি থাকতে চায়, সে যেন থাকতে পারে।’

ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, আয়নাঘরে বসে পরিদর্শনকারীরা উপলব্ধি করতে পারে কী নৃশংসতার মধ্যে বন্দিরা ছিল! এ ধরনের নৃশংস ঘটনা না হওয়ার পক্ষে কীভাবে আমরা সবাই এক থাকতে পারি সেটা মনের মধ্যে আনতে হবে। এই একটা বিষয়ে আমরা সবাই এক থাকবো যে এ ধরনের নৃশংস দিনগুলোতে এ জাতি আর ফিরে যাবে না। তিনি আরও বলেন, নৃশংস একটা কাণ্ড হচ্ছিল। তরুণরা, ছাত্ররা এটার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে, প্রতিহত করেছে। তাদের কোনো অস্ত্রশস্ত্র ছিল না, কিছু ছিল না। সাধারণ মানুষও যে এমন নির্ভয়ে, সাহসিকতার সঙ্গে অস্ত্রের মুখে দাঁড়াতে পারে- এটাই আমাদের শিক্ষা।

সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর নেতৃত্বে জাদুঘরের কিউরেটর তানজীম ওয়াহাব, মেরিনা তাবাশ্যুম খান, জুলাই জাদুঘরের গবেষকসহ দায়িত্বশীল অন্যরা আগত ব্যক্তিদের পুরো জাদুঘর ঘুরিয়ে দেখান। জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে অভ্যুত্থানের ছবি, বিভিন্ন স্মৃতিচিহ্ন, শহীদদের পোশাক, চিঠিপত্র, গুরুত্বপূর্ণ দলিল, সে সময়কার পত্রিকার কাটিং, অডিও-ভিডিওসহ নানা উপকরণ সংরক্ষণ করা হয়েছে।

তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পালিয়ে যাওয়ার দৃশ্যও সংরক্ষিত রয়েছে জাদুঘরে। পরিদর্শনকালে প্রধান উপদেষ্টা ১৫ মিনিটের একটি প্রামাণ্যচিত্র দেখেন। এতে বিগত সরকারের শাসনামলে গুম, রাষ্ট্রীয়ভাবে পরিচালিত দমন-পীড়ন, বিরোধীদের ওপর হামলা এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত গণহত্যার চিত্র তুলে ধরা হয়।

উপদেষ্টাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম, স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান, প্রধান উপদেষ্টার এসডিজি সমন্বয়ক লামিয়া মোর্শেদ, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম। এ সময় গুমের শিকার পরিবারগুলোর সংগঠন মায়ের ডাকের সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম তুলি, গুম থেকে ফেরত আসা মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সম্মুখসারিতে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রনেতা ও সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া ও হাসনাত আবদুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত