ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২০ মাঘ ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

জামায়াত দেশকে আফগানিস্তান বানাতে চায়

বললেন মির্জা ফখরুল
জামায়াত দেশকে আফগানিস্তান বানাতে চায়

বিএনপির মহাসচিব ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনে দলটির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী দেশকে আফগানিস্তানে পরিণত করতে চায়, জাতিকে পেছনের দিকে নিয়ে যেতে চায়। গতকাল সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ঢোলারহাট এলাকায় নির্বাচনি সভায় তিনি এ কথা বলেন। এ ছাড়া মির্জা ফখরুল ওই ইউনিয়নের ঝলঝলিপুকুর, শিমুলতলী, ব্যারিস্টার বাজার ও আখানগর ইউনিয়নের শুকানীপাড়া, দলুয়াপাড়া, কালিতলা বাজারসহ কয়েকটি এলাকায় গণসংযোগের পাশাপাশি নির্বাচনি সভায় অংশ নেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘জামায়াতের আমির সাহেব নাকি মহিলাদের বিরুদ্ধে কথা বলছেন, বাজে কথা বলছেন। আমি ডিটেইল জানি না- সত্য নাকি মিথ্যা। তবে তিনি যদি এ কথা বলে থাকেন, তবে অন্যায় করেছেন। মহিলারা কখনোই এটা মেনে নিতে পারবে না।’ একই প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামীর ব্যাপারটাই এ রকম। ওরা তো নারীদের কাজ করতে দিতে চায় না। তারা বলে মেয়েরা ঘরে থাকবে, কাজ করবে কী? যেসব নারী গার্মেন্টসে কাজ করেন, তাদের বলে দিয়েছেন ৫ ঘণ্টার বেশি কাজ করতে পারেন না। কাজ না করলে, তারা খাবে কী? জামায়াতে ইসলামী এ দেশটাকে আফগানিস্তানে পরিণত করতে চায়, পেছন দিকে নিয়ে যেতে চায়।

জামায়াতের সমালোচনা করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী ১৯৭১ সালের যুদ্ধে বাধা দিয়েছিল। দলটি মুক্তিযুদ্ধে আমাদের সহযোগিতা করে নাই, উল্টো পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে সহযোগিতা করেছিল- তাদের কাছে কি দেশটাকে নিরাপদ মনে করতে পারি?’

দেশে একটা নতুন সুযোগ দেখা দিয়েছে এমন বার্তা জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সুশাসন, ন্যায়বিচার, ইনসাফ, হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের দেশ হিসেবে আমরা এ দেশকে গড়ে তুলতে চাই। এ কারণে এবারে নির্বাচনকে আমরা অনেক গুরুত্ব দিচ্ছি।’

১৯৭১ সালে জামায়াতের ভূমিকা তুলে ধরে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘একাত্তরে আমরা যুদ্ধ করেছিলাম। সেই যুদ্ধে লাখ লাখ মানুষ শহিদ হয়েছে। এক কোটির ওপরে মানুষ ভারতে চলে গিয়েছিল। সেই সময়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সঙ্গে যোগসাজশ করেছিল একটি রাজনৈতিক দল, সেটি হলো জামায়াতে ইসলামী। এটা বলতে কি আপনারা ভয় পাচ্ছেন, ভয় পাবেন না।’

ভোটারদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমি আপনাদের কাছে ভোট চাইতে এসেছি, খালি হাতে আসি নাই। আমরা ঠাকুরগাঁওয়ে মেডিক্যাল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় গড়ব। বিমানবন্দর চালু করব। আমাদের ভাইবোনদের চাকরির জন্য কলকারখানা গড়ে তুলব। একটি ইপিজেড গড়ে তুলব। সনাতন আর মুসলিম ভাইবোনদের মধ্যে সম্প্রীতি তৈরি করে ঠাকুরগাঁওকে একটি মডেল অঞ্চলে তৈরি করব।’

গণসংযোগে জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি সুলতানুল ফেরদৌস, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনসারুল হক ও রুহিয়া থানা বিএনপির সভাপতি উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত