
সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় এক প্রবাসী বাংলাদেশির পরিবারের চারজনসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর আহত হয়েছেন প্রবাসীর মেয়ে। লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার এই বাসিন্দারা ওমরাহ শেষে সৌদি আরবের জেদ্দা থেকে বাসায় ফেরার পথে গত রোববার রাত ৩টার দিকে এ দুর্ঘটনায় পড়েন বলে জানিয়েছেন নিহত সৌদি প্রবাসীর বড় ভাই বাহারুল আলম।
নিহতরা হলেন- সৌদি প্রবাসী মিজানুর রহমান মিজান (৪০), তার স্ত্রী ফারজানা আক্তার সুমি (৩০), তাদের মেয়ে মেহের আফরোজ (১৩) ও দেড় বছর বয়সী সুবহা আক্তার এবং গাড়ির চালক মো. জিলানী বাবর (৩০)। মিজানের মেঝো মেয়ে ফাইজা আক্তার (১১) গুরুতর আহত হয়ে জেদ্দা শহরের একটি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।
মিজান লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ভাটরা ইউনিয়নের নলচরা গ্রামের ওশিম উদ্দিন বেপারী বাড়ির শহিদ উল্যার ছেলে। তার বড় মেয়ে মেহের আফরোজ স্থানীয় টিউরি উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী।
চালক জিলানী বাবর একই ইউনিয়নের বিষ্ণপুর গ্রামের পাটওয়ারী বাড়ির আবুল হোসেন পাটওয়ারী খোকার ছেলে।
গত সোমবার দুপুরে নিহত মিজানের বড় ভাই বাহারুল আলম বলেন, তার ছোট ভাই মিজান দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে আছে, সেখানে ব্যবসা করে। ওমরাহ করতে গত ৩ ফেব্রুয়ারি দেশ থেকে তার স্ত্রী ও তিন মেয়েকে সৌদি আরব নিয়ে যায় মিজান।
পাঁচ দিন আগে ওমরাহর উদ্দেশ্যে তারা সৌদির বাসা থেকে বের হয়েছিল। পরে ওমরাহ শেষে আবহা শহরের বাসায় ফেরার পথে দুর্ঘটনায় পড়ে। তাদের মৃত্যুতে গ্রামের বাড়িতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন নিহত মিজানের বাবা শহীদ উল্যা।
মিজানের মামাতো ভাই রিফাতুল ইসলাম বলেন, পাশ্ববর্তী গ্রামের সৌদি আরব প্রবাসী পারভেজ ভূঁইয়ার মাধ্যমে এ দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন।
রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারাশিদ বিন এনাম বলেন, “সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় পাঁচজন মারা গেছে শুনেছি। শোকাহত পরিবারের প্রতি আমরা সমবেদনা জানাচ্ছি। মরদেহগুলো দেশে ফিরিয়ে আনতে আমরা সব ধরনের সহযোগিতা করব।”