
দেশের বেকার ও কর্মহীন যুবকদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে নতুন ঋণ কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ‘উদ্যোগ’ নামে প্রস্তাবিত এ কর্মসূচির আওতায় উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত তরুণদের ব্যবসা ও স্বকর্মসংস্থানমূলক কাজে অর্থায়ন করা হবে।
নতুন এ ঋণ কর্মসূচির কাঠামো ও বাস্তবায়ন নিয়ে দেশের ব্যাংকারদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (এবিবি)-এর সঙ্গে গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে বৈঠক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বৈঠকে তহবিলের আকার, ব্যাংকগুলোর অংশগ্রহণ, ঋণ বিতরণ এবং কর্মসূচি বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে ‘উদ্যোগ’ প্রকল্পের তহবিলের আকার ৫০০ থেকে ১ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণের পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী তিন মাসের মধ্যে কর্মসূচিটি চালুর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। দেশের সব ব্যাংককে এ কর্মসূচির আওতায় যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো চাকরির বাজারে প্রবেশের অপেক্ষায় থাকা বেকার যুবকদের শুধু চাকরিপ্রার্থী হিসেবে না রেখে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ব্যবসা, সেবা, উৎপাদনমুখী উদ্যোগ এবং স্ব-কর্মসংস্থানমূলক কার্যক্রমে অর্থায়নের সুযোগ তৈরি করা হবে। দেশে তরুণ জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ চাকরির ওপর নির্ভরশীল। পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ না থাকায় অনেক শিক্ষিত ও কর্মক্ষম যুবক দীর্ঘদিন বেকার থাকছেন। নতুন ব্যবসা বা স্ব-কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নিতে অর্থের সংকটও বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। নতুন এ কর্মসূচির মাধ্যমে সেই অর্থসংকট কিছুটা দূর করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে নির্বাচিত তরুণ উদ্যোক্তাদের ঋণ দেওয়া হলে নতুন ব্যবসা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি অতিরিক্ত কর্মসংস্থান তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রস্তাবিত কর্মসূচির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হবে দেশের সব ব্যাংকের অংশগ্রহণ। ফলে একটি বা কয়েকটি নির্দিষ্ট ব্যাংকের পরিবর্তে পুরো ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে যুব উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন করা হবে। এতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাংকের শাখা ও অন্যান্য বিতরণ চ্যানেলের মাধ্যমে সম্ভাবনাময় তরুণ উদ্যোক্তাদের কাছে ঋণ পৌঁছে দেওয়া সহজ হবে। একই সঙ্গে ঋণের আবেদন, যাচাই-বাছাই ও বিতরণে ব্যাংকগুলোর বিদ্যমান কাঠামো ব্যবহার করা যাবে।
তবে প্রকল্পটির চূড়ান্ত নীতিমালা এখনো প্রস্তুত হয়নি। ফলে ঋণের সর্বোচ্চ সীমা, সুদের হার, জামানতের শর্ত, কিস্তির মেয়াদ এবং কোন শ্রেণির উদ্যোক্তারা অগ্রাধিকার পাবেন—এসব বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। আগামী সপ্তাহে এ বিষয়ে সার্কুলার জারি হতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংক ও এবিবির আলোচনার পর এসব বিষয়ে বিস্তারিত কাঠামো নির্ধারণ করা হবে। সম্ভাব্য উদ্যোক্তাদের ব্যবসায়িক পরিকল্পনা, দক্ষতা, উদ্যোগের সম্ভাব্যতা এবং ঋণ পরিশোধের সক্ষমতাকে গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে।
তরুণ ও নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা রয়েছে। তবে চলতি বছরের ৯ জুন জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনে তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য কোনো সুদমুক্ত ঋণ কর্মসূচি চালু নেই। সহজ শর্তে ঋণপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা চালু রয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছিলেন।
এরই ধারাবাহিকতায় বেকার যুবকদের জন্য আলাদা ও লক্ষ্যভিত্তিক ‘উদ্যোগ’ কর্মসূচি চালু হলে তা দেশের যুব উদ্যোক্তা অর্থায়নে নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।