ঢাকা শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৮ ফাল্গুন ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

সুসংবাদ প্রতিদিন

চন্দনাইশে ব্রকলি চাষে লাভবান কৃষক

চন্দনাইশে ব্রকলি চাষে লাভবান কৃষক

দক্ষিণ চট্টগ্রামের সবজি ভাণ্ডার শঙ্খ নদীর উভয় পাড়ে চলতি মৌসুমে ব্যাপক হারে ব্রকলি (রঙিন ফুলকপি) চাষাবাদ হয়েছে। ফলন ভালো হওয়ায় এবং দাম বেশি পাওয়ায় কৃষকরা খুশি।

এখানকার কৃষক মোজাম্মেল হক বলেছেন, চলতি বছর পরীক্ষামূলকভাবে ব্রকলি উৎপাদন শুরু করে বেশ লাভবান হয়েছেন। ফুলকপির মতো দেখতে গাঢ় সবুজ, হলুদ, লাল রঙের এই সবজিতে রয়েছে বহু পুষ্টিগুণ। এবারের শীতে দোহাজারী শঙ্খের চরে আবু বক্কর ব্রকলি চাষ করেছেন। তাদের দেখাদেখি আরও অনেকেই শঙ্খ নদীর উভয় পাড়ে এবার ব্রকলি চাষ করেছেন। আবু বক্কর বলেন, তিনি এবং মোজাম্মেল হক পরীক্ষা মূলকভাবে ১ হাজার ৬৫০ টাকা দিয়ে ১ প্যাকেট করে ৫০ গ্রামের ব্রকলি বীজ কিনেন। প্রতিটি প্যাকেটে প্রায় ১২ হাজার বিচি রয়েছে বলে জানান তারা। বীজ রোপণ করে ২ মাসের মাথায় ফলন তথা ব্রকলি বিক্রি করা যাচ্ছে। সাদা ফুলকপির দাম কমে যাওয়ায় তারা বিদেশি এ ব্রকলির চাষ শুরু করে লাভবান হয়েছে বলে জানান। তাছাড়া সাদা ফুলকপি পুষ্টিগুণ পেতে ৩ মাস সময় লাগে। অপরদিকে, ব্রকলি প্রথমবার ফলন তুলে ফেলার পর পুনরায় একইগাছে আবার ব্রকলি ফলন হয়। মানুষ যে কয়দিন থাকেন সে কয়দিন নতুন নতুন সবজির স্বাদ নিতে পছন্দ করেন। মানুষের মুখে যদি ভালো লাগে এবং পুষ্টিগুণ সম্পর্কে যদি ইতিবাচক ফলাফল পান, তাহলে ঐ সবজি সংগ্রহ করে মানুষ খেতে পছন্দ করেন। ব্রকলির ফলন ভালো হওয়ায় এখন দোহাজারী সবজি মাঠে অনেকে ব্রকলি চাষের দিকে এগিয়ে এসেছেন। যেখানে সাদা ফুলকপি ২০-৩০ টাকায় কেজি বিক্রি হয়, সেখানে ব্রকলি প্রতি পিচ ৭৫-১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্রকলি দেখতে যেমন সুন্দর, রং বেরং এর খেতেও তেমন সুস্বাদু।

আগামীতে বাণিজ্যিকভাবে দোহাজারীসহ চন্দনাইশের বিভিন্ন এলাকায় ব্রকলি চাষ করবেন কৃষকরা। শীতের সবজি চাষের সময় অন্যান্য সবজি চাষের পাশাপাশি এবারে জমিতে ব্রকলি চাষ করেছেন। বাংলাদেশে ১০ গ্রাম ব্রকলির বীজের দাম ৪০০ টাকা। কিন্তু একই পরিমাণ বীজ ভারত থেকে ৯০০ টাকায় কিনতে হয়। বীজ দুটোই জাপানের সাকাতা কোম্পানির। দেশি বীজ থেকে ৭-৮শ’ গ্রাম ওজনের ব্রকলি পাওয়া গেলেও ভারতীয় বীজ এক কেজি ২০০ গ্রাম থেকে প্রায় দুই কেজি ওজনের ব্রকলি পাওয়া যায়। তাছাড়া ওই বীজের ব্রকলির রং গাঢ় ও উজ্জ্বল হয়। পরিকল্পতিভাবে ব্রকলি চাষ করা হচ্ছে। ব্রকলি চাষে পরিমিত সার ও কীটনাশক ব্যবহার করলে ফলন ভালো হয়। নতুন নতুন জাতের সবজি চাষ হচ্ছে দোহাজারী সবজি মাঠে। সরকার যদি এই দিকে একটু নজর দেয়, তাহলে কৃষক তার ন্যায্য দাম পেতো, মানুষেরও পুষ্টি ঘাটতি মিটতো। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আজাদ হোসেন বলেছেন চন্দনাইশ দোহাজারী শঙ্খ তীরবর্তী এলাকায় চলতি মৌসুমে বেশ কিছু কৃষক তাদের জমিতে ব্রকলির চাষ করে লাভবান হয়েছেন। ব্রকলি চাষ ইদানিং বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। মানুষও দাম দিয়ে ব্রকলি কিনছে। এ কারণে কৃষকও লাভের মুখ দেখছে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত