ঢাকা সোমবার, ০১ জুন ২০২৬, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

কত দিন পর স্মার্টফোন বদল

কত দিন পর স্মার্টফোন বদল

নতুন একটি স্মার্টফোন কেনার কিছুদিনের মধ্যেই বাজারে চলে আসে তার পরবর্তী সংস্করণ। নিত্যনতুন ফিচার আর আকর্ষণীয় ডিজাইনের মোহে অনেকেই বছর না ঘুরতেই সাধের ফোনটি বদলে ফেলেন। তবে বিশ্ববাজারে যেভাবে ফোনের দাম ক্রমাগত বাড়ছে, তাতে ঘন ঘন ফোন বদলানো মোটেও বুদ্ধিমানের কাজ নয়। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, টাকার অপচয় এড়াতে এবং খরচের সঠিক মূল্যায়ন পেতে একটি স্মার্টফোন অন্তত তিন বছর ব্যবহার করা উচিত। তিন বছরের এই সময়সীমাকেই বর্তমানে ফোন আপগ্রেড করার জন্য সবচেয়ে যুক্তিসঙ্গত সময় বলে বিবেচনা করা হচ্ছে।

একটা সময় ছিল যখন ব্যবহারকারীরা প্রতি ১ থেকে ২ বছর পর পরই ফোন বদলে ফেলতেন। কিন্তু বর্তমান বাজারে অ্যাপল, স্যামসাং বা অন্যান্য নামী ব্র্যান্ডের প্রিমিয়াম ফ্ল্যাগশিপ ফোনগুলোর দাম সহজেই ১,০০০ ডলার বা তার চেয়ে বেশি ছাড়িয়ে যাচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই, সাধারণ ক্রেতাদের পক্ষে প্রতি বছর এত বিপুল টাকা খরচ করে ফোন আপগ্রেড করা আর বাস্তবসম্মত নয়। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ফোন রিভিউ করার অভিজ্ঞতা থেকে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩ বছর পর ফোন বদলালেই শুধু এর পারফরম্যান্স, ক্যামেরা ও ব্যাটারির প্রকৃত পরিবর্তন ও পার্থক্যগুলো ব্যবহারকারীরা স্পষ্টভাবে টের পান।

আজকাল প্রতি বছর বাজারে আসা নতুন ফোনের পারফরম্যান্সে আগের মডেলের চেয়ে খুব বেশি পার্থক্য থাকে না। সাধারণত নতুন ফ্ল্যাগশিপ মডেলগুলো প্রতি বছর মাত্র ১৫-২০% প্রসেসিং ক্ষমতা বাড়ায়, যা দৈনন্দিন ব্যবহারে খুব একটা আলাদা করা যায় না। কিন্তু আপনি যদি তিন বছর পর ফোন আপগ্রেড করেন, তবে আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্স কিংবা স্যামসাং গ্যালাক্সি এস২৬ আল্ট্রার মতো হাই-এন্ড মডেলগুলোতে আগের চেয়ে ২০০%-এরও বেশি পারফরম্যান্সের গতি বা উল্লম্ফন পাবেন।

ক্যামেরার গুণগত মান এবং ব্যাটারির স্থায়িত্ব, এই দুটি কারণেই মানুষ মূলত ফোন পরিবর্তন করেন। নতুন প্রজন্মের আইফোনগুলোতে এখন ৩এক্স জুমের ১২ মেগাপিক্সেল সেন্সর থেকে উন্নত হয়ে ৫ এক্স অপটিক্যাল জুমসহ ৫০ মেগাপিক্সেল সেন্সর ব্যবহার করা হচ্ছে, যা অপটিক্যাল জুম, ভিডিও রেকর্ডিং এবং এআই প্রসেসিংয়ের ক্ষেত্রে ছবির মানকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। অন্যদিকে, ফোনের সবচেয়ে দ্রুত নষ্ট হওয়া যন্ত্রাংশ হলো এর লিথিয়ামণ্ডআয়ন ব্যাটারি। প্রায় ৩ বছর একটানা ব্যবহারের পর ব্যাটারির আয়ু দ্রুত কমতে শুরু করে, ফোন অতিরিক্ত গরম হয় এবং দিনে বারবার চার্জ দিতে হয়। ফলে ৩ বছর পর ফোন বদলালে ক্যামেরা ও ব্যাটারি উভয় ক্ষেত্রেই দুর্দান্ত আপগ্রেড পাওয়া যায়।

বর্তমানে প্রযুক্তি সংস্থাগুলো স্মার্টফোনের আয়ু আরও বাড়ানোর জন্য কাজ করছে। যেমন, ওয়ানপ্লাস ১৫-এর মতো মডেলে ‘সিলিকন-কার্বন’ ব্যাটারি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে, যা ফোনের আকার বড় না করেই আগের চেয়ে দীর্ঘ সময় চার্জ ধরে রাখতে পারে। এর পাশাপাশি, এখন স্যামসাংয়ের মতো নির্মাতারা তাদের ফোনে ৫ থেকে ৭ বছর পর্যন্ত সফটওয়্যার সাপোর্ট দিচ্ছে। ফলে স্যামসাং গ্যালাক্সি এস২২ আলট্রার মতো পুরোনো মডেলগুলোও বছরের পর বছর ধরে নতুন এআই ফিচার, সিকিউরিটি প্যাচ ও আধুনিক ইন্টারফেসের সুবিধা পাচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদি এই সাপোর্টের কারণে ব্যবহারকারীরা এখন নিশ্চিন্তে বেশ কয়েক বছর একই ফোন ব্যবহার করতে পারছেন।

যদিও বিভিন্ন ব্র্যান্ডের কিস্তি সুবিধা বা আকর্ষণীয় অফারগুলো গ্রাহকদের দ্রুত ফোন কিনতে উৎসাহিত করে, তবুও বিশেষজ্ঞদের মত হলো, নতুন ফোন কেনার আগে নিজের প্রকৃত প্রয়োজনটা বোঝা জরুরি। অযথা টাকার অপচয় না করে নিজের খরচ, ফোনের কার্যক্ষমতা এবং নতুন প্রযুক্তির অভিজ্ঞতার মধ্যে নিখুঁত ভারসাম্য বজায় রাখতে ৩ বছরের একটি চক্র বা ‘থ্রি-ইয়ার সাইকেল’ মেনে চলাই এখন সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত