
খুলনা নগরীর একটি বাসা থেকে নারী ও তার নাতির লাশ উদ্ধারের সময় নিখোঁজ থাকা অপর নাতির লাশ ওয়ারড্রোব থেকে উদ্ধার করেছে সিআইডি পুলিশের সদস্যরা। গত শনিবার সন্ধ্যায় নগরের সোনাডাঙ্গা এলাকার কাঁচা বাজারের পাশে দারুল আমান মহল্লার সুজুকি কর্নার গলির শরিফুল ইসলামের বাড়ি থেকে লাশ তিনটি উদ্ধার করা হয় বলে সোনাডাঙ্গা থানার ওসি মো. রফিকুল ইসলাম জানান। নিহতরা হলেন- বেবী বেগম (৫৫), নাতি শামীম ব্যাপারী (১২) ও মুস্তাকিম ব্যাপারী (৪)। শিশু দুটির মায়ের নাম ফাতেমা বেগম মেরী।
এই ঘটনার পর থেকে পলাতক ফাতেমার স্বামী ও শিশু দুটির সৎ বাবা রফিকুল ইসলাম। পেশায় ট্রাকচালক রফিকুল নগরের দৌলতপুর থানার মানিকতলা এলাকার বাসিন্দা। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে ফাতেমাকে।
প্রায় চার বছর আগে ফাতেমার সঙ্গে তার প্রথম স্বামী মাসুম ব্যাপারীর বিচ্ছেদ হয়। পরে দুই সন্তান শামীম ও মুস্তাকিমকে নিয়ে মায়ের সঙ্গেই বসবাস করত ফাতেমা। সম্প্রতি রফিকুলের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে বাসার দরজা ভেঙে প্রথমে বেবী বেগম ও শামীম ব্যাপারীর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। তখন মুস্তাকিমকে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে ডিবি ও সিআইডির সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেন। এ সময় একটি কক্ষের ওয়ারড্রোবের ভেতরে চার বছর বয়সী শিশুটির মরদেহ পান তারা।
ওসি আরও বলেন, লাশগুলোর শরীরে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শ্বাসরোধ করে তাদের হত্যা করা হয়েছে। লাশ তিনটি ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে, বলেন তিনি।
মানিকগঞ্জে ভাবি-ভাতিজাকে কুপিয়ে হত্যা, গুরুতর আহত বড় ভাই : মানিকগঞ্জের দৌলতপুর হাতুড়ি-দা দিয়ে কুপিয়ে ভাবি ও ভাতিজাকে হত্যার পর বড় ভাইকেও গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। গত শনিবার রাতে ১০টার দিকে উপজেলায় বাঁচামারা ইউনিয়নের কাচারীপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন দৌলতপুর থানার ওসি স্বপন কুমার সরকার। নিহতরা হলেন, ওই এলাকার সালাম উল্লাহর স্ত্রী আমেনা আক্তার (২৯) ও তাদের দুই বছর বয়সী ছেলে আসলাম। ঘটনার পর থেকে পলাতক সালাম উল্লাহর ছোট ভাই ইউসুফ আলী (৪০)। সালাম উল্লাহ বাঁচামারা বাজারের ব্যবসায়ী আর ইউসুফ ঢাকায় থাকেন।
স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, ঈদ উপলক্ষে বাড়িতে আসার পর থেকেই বড় ভাই সালামের সঙ্গে ইউসুফের পারিবারিক বিরোধ চলছিল। গত শনিবার রাতে দোকান থেকে সালাম বাড়ি ফিরলেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে তাকে গুরুতর আহত করেন ইউসুফ। পরে তিনি পালিয়ে যান। এক প্রত্যক্ষদর্শীর বরাতে পুলিশ জানায়, রাত সাড়ে ১০টার দিকে ইউসুফকে বাড়ির সামনের রাস্তা দিয়ে অত্যন্ত তড়িঘড়ি করে চলে যেতে দেখা যায়। পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় সালামকে উদ্ধার করে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। কিন্তু এর আগেই ঘরে হত্যা করা হয়েছিল আমেনা ও তার দুই বছরের শিশুকে। সালামকে উদ্ধারের সময় ঘরে মা-ছেলের লাশ দেখতে পান স্থানীয়রা। ঘটনাস্থলে রক্তাক্ত দা ও হাতুড়ি পড়ে থাকতেও দেখেন তারা।
দৌলতপুর থানার ওসি স্বপন কুমার সরকার বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুইজনের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক কলহের জেরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পর থেকে ইউসুফ আলী পলাতক। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালানো হচ্ছে,’ বলেন ওসি।