
গ্রিনকার্ডের জন্য আবেদন প্রক্রিয়ায় ফের পরিবর্তন এনেছে যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (ডিএইচএস)। মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বলেছেন, সব আবেদনকারীকে নিজ দেশে ফিরে গিয়ে আবেদন করার প্রয়োজন নেই। গত ২২ মে ডিএইচএসের অধীন সংস্থা মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা কেন্দ্রের পক্ষ তেকে (ইউএসসিআইএস) পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি অথবা গ্রিনকার্ডের আবেদনের জন্য অস্থায়ী ভিসাধারীদের আর দেশটিতে অবস্থান করার প্রয়োজন নেই। নিজ দেশে ফিরে গিয়ে মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে তারা আবেদন করতে পারবেন। বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইনের সঙ্গে সঙ্গতি রেখেই নতুন এই নিয়ম চালু করা হয়েছে। তবে গতকাল শুনিবার মার্কিন দৈনিক নিউইয়র্ক টাইমসকে ডিএইচএসের এক মুখপাত্র এ প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘২২ মের বিজ্ঞপ্তির মূল উদ্দেশ্য ছিল কর্মকর্তাদের তাদের বিবেচনামূলক ক্ষমতার কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া, যা সবসময়েই ক্ষেত্রবিশেষে প্রযোজ্য।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই মুখপাত্র ব্যাখ্যা করেন যে, যারা ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্রে থেকে যান অথবা এমন সব দেশ থেকে আসেন- যেসব দেশের নাগরিকরা ব্যাপকভাবে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল, তারা গত ২২ মের নির্দেশনা দ্বারা প্রভাবিত হতে পারেন।
গ্রিন কার্ড হলো কোনো বিদেশি নাগরিকের যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের সরকারি পরিচয়পত্র। এর মাধ্যমে কোনো বিদেশি নাগরিক যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পান না ঠিকই; তবে তাকে স্থায়ীভাবে দেশটিতে থাকতে এবং কাজ করতে দেওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব প্রাপ্তির পথে প্রথম ধাপ হলো গ্রিনকার্ড।
২০২৫ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর অভিবাসনপ্রত্যাশী এবং নথিবিহীন অভিবাসীদের ব্যাপারে নজিরবিহীন কঠোর নীতি নিয়েছেন। গত প্রায় দেড় বছরে লাখ লাখ নথিবিহীন অভিবাসী এবং ভিসার মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়া অভিবাসনপ্রত্যাশীকে গ্রেপ্তার করে নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন প্রশাসন।
গ্রিনকার্ড পেতে ইচ্ছুকদের নিজ দেশে ফিরে গিয়ে দূতাবাসের মাধ্যমে আবেদন করার যে নিয়ম চালু করা হয়েছিল গত ২২ মে; মার্কিন অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে এ নিয়মের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্র থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ ভিসাধারীদের সংখ্যা কমানো।
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে ডিএইচএসের এই নতুন সিদ্ধান্তকে ট্রাম্প প্রশাসনের একটি ‘ইউটার্ন’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
গত ২২ মে মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা কেন্দ্রের বিজ্ঞপ্তির পর পরই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক পার্টির আইনপ্রণেতা এবং ডেমোক্র্যাটপন্থি অভিবাসন আইনজীবীরা। তাদের দাবি, এই পদক্ষেপের ফলে পরিবারগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে এবং খরচ বেড়ে যাবে, যা শেষ পর্যন্ত এক চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি করবে।
নিউইয়র্ক টাইমসকে ডিএইচএসের ওই মুখপাত্র বলেছেন, গত ২২ মে জারি করা ইউএসসিআইএসের সিদ্ধান্তটি কোনো ঢালাও পরিবর্তন ছিল না। কাউকে গ্রিন কার্ড পাওয়ার জন্য দেশে ফিরে যেতে বাধ্য করা হবে কি না, তা সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট অভিবাসন কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।
কয়েক জন অভিবাসন আইনজীবীর বরাত দিয়ে নিউ ইয়র্ক টাইমস বলছে, এরইমধ্যে ইউএসসিআইএস কর্মকর্তারা আবেদনকারীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা শুরু করেছেন। তারা আবেদনকারীদের কাছে জানতে চাইছেন, কেন তারা যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে থেকেই গ্রিন কার্ডের আবেদন করছেন এবং নিজ দেশ থেকে আবেদনের ক্ষেত্রে তাদের কোনো বাধা আছে কি না।
মার্কিন শিল্প খাতের নেতাদের বরাতে প্রতিবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়, নতুন নীতিটি প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় তৈরি হতে পারে। কারণ এই কোম্পানিগুলো অস্থায়ী ভিসায় আসা বিদেশি পেশাদারদের ওপর বহুলাংশে নির্ভরশীল, যাদের অনেকেই স্থায়ীভাবে বসবাস এবং পরে মার্কিন নাগরিক হওয়ার স্বপ্ন দেখেন।