ঢাকা শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

হরমুজে দুটি জাহাজ, বাহরাইন ও কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা

হরমুজে দুটি জাহাজ, বাহরাইন ও কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা

মার্কিন হামলার পাল্টা জবাবে হরমুজ প্রণালীতে দুটি জাহাজে হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবর বলছে, আইআরজিসি হরমুজে থাকা দুটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে আরও বলা হয়েছে, হরমুজে সব ধরনের জাহাজ চলাচল পুরোপুরি বন্ধ। এ ঘোষণার পরই তেলের দাম কিছুটা বেড়েছে।

আল-জাজিরার খবরে জানা যায়, আইআরজিসি আরও বলেছে, হরমুজ প্রণালী অবৈধভাবে পার হওয়ার চেষ্টা করার সময় দুটি তেলের ট্যাংকারে হামলা চালানো হয়েছে। বাহরাইনের শেখ ইসা বিমানঘাঁটি এবং কুয়েতের আলী আল সালেম ও আহমদ আল জাবের বিমানঘাঁটিতেও ড্রোন হামলার দাবি করেছে ইরান।

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে জোরালো হামলার হুমকি দেন। এরপর বন্দর আব্বাসসহ ইরানের কয়েকটি শহরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। রাজধানী তেহরানের পশ্চিমাঞ্চলে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত নতুন করে জোরদার হয় গত মঙ্গলবার। হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন সামরিক হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার পর মঙ্গলবার রাতে মার্কিন বাহিনী ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালায়। জবাবে জর্ডান, কুয়েত ও বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি লক্ষ্য করে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় ইরান।

পাল্টাপাল্টি হামলার পর বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, চুক্তির দর-কষাকষিতে ইরান সময় ক্ষেপণ করছে। এ জন্য দেশটিকে মূল্য দিতে হবে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র বারবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে অভিযোগ করে ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়, তারা ওয়াশিংটনের সঙ্গে ‘কূটনৈতিক যোগাযোগ’ পুনর্মূল্যায়ন করবে। নতুন করে এই উত্তেজনার মধ্যেও ওয়াশিংটন ও তেহরানকে আলোচনায় ফেরাতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তারই অংশ হিসেবে বুধবার কাতারের একটি প্রতিনিধিদল ইরানের রাজধানী তেহরানে গেছে। ট্রাম্পের হুমকির পর ইরানে মার্কিন হামলা, কয়েকটি শহরে বিস্ফোরণ, হরমুজ প্রণালী বন্ধ

ইরানে আবারও হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘কঠিন’ হামলার হুমকির পরই বন্দর আব্বাসসহ ইরানের কয়েকটি শহরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। রাজধানী তেহরানের পশ্চিমাঞ্চলে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে হরমুজ প্রণালী আবারও বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। সামরিক সূত্রের বরাতে ইরানি সংবাদ সংস্থা মেহের জানিয়েছে, দেশটির সামরিক বাহিনী হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকার, বাণিজ্যিক জাহাজসহ সব ধরনের নৌযানের চলাচল বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে। এ নির্দেশ লঙ্ঘন করলে নৌযানকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে বলেও সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানে নতুন করে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। বলা হয়েছে, ইরানের বেশ কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে একযোগে প্রতিরক্ষামূলক অভিযান শুরু করা হয়েছে। সেন্টকম আরও জানায়, ইরানের অযাচিত ও অব্যাহত আগ্রাসনের প্রতিক্রিয়ায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশনায় এসব হামলা চালানো হয়। তবে ইরানের ঠিক কোথায় হামলা চালানো হয়েছে, তা সুস্পষ্ট করে জানানো হয়নি।

ইরানের সংবাদমাধ্যমের খবর, বন্দরনগরী বন্দর আব্বাসে বড় ধরনের বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এ ছাড়া কাশেম দ্বীপ, গোরগান, সিরিক ও মিনাবের দক্ষিণের শহরে বিস্ফোরণ ঘটেছে। ইরানের সংবাদ সংস্থা মেহের জানিয়েছে, রাজধানী তেহরানের পশ্চিমাঞ্চলে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সক্রিয় করেছে কর্তৃপক্ষ। এসব হামলায় হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির খবর প্রাথমিকভাবে জানা যায়নি।

এর আগে ইরানে ‘কঠোর’ আঘাত হানার ঘোষণা দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে দুই পক্ষ পাল্টাপাল্টি হামলা চালানোর পর বুধবার এ ঘোষণা দেন তিনি।

ওয়াশিংটনের স্থানীয় সময় বুধবার ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা গতকাল তাদের ওপর কঠোর আঘাত হেনেছি এবং আজও তাদের ওপর কঠোর আঘাত হানতে যাচ্ছি।’ ইরানের প্রতি চুক্তিতে সই করারও আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। একই সুরে কথা বলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও। বুধবার তিনি বলেন, ‘ মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বেশ ব্যস্ত থাকবে। কারণ, ইরানে কঠিন হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। আমরা তা করবও।’ ট্রাম্পের এ ঘোষণার পর ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এক্সে এক পোস্টে বলেছেন, যেকোনো চাপ বা হুমকির বিরুদ্ধে ইরান কঠোরভাবে দাঁড়াবে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে বলেছে, এ অভিযান ইরানের ‘অযৌক্তিক আগ্রাসনের সমানুপাতিক জবাব’। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত নতুন করে জোরদার হয় গত মঙ্গলবার। হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন সামরিক হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার পর মঙ্গলবার রাতে মার্কিন বাহিনী ইরানের বিভিন্ন নিশানায় বিমান হামলা চালায়। জবাবে জর্ডান, কুয়েত ও বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি লক্ষ্য করে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় ইরান। পাল্টাপাল্টি হামলার পর বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, চুক্তির দর-কষাকষিতে ইরান সময় ক্ষেপণ করছে। এ জন্য দেশটিকে মূল্য দিতে হবে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র বারবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে অভিযোগ করে ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়, তারা ওয়াশিংটনের সঙ্গে ‘কূটনৈতিক যোগাযোগ’ পুনর্মূল্যায়ন করবে। নতুন করে এই উত্তেজনার মধ্যেও ওয়াশিংটন ও তেহরানকে আলোচনায় ফেরাতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তারই অংশ হিসেবে বুধবার কাতারের একটি প্রতিনিধিদল ইরানের রাজধানী তেহরানে গেছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকে চলমান হামলা বন্ধের আহ্বান তুরস্কের : ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকে চলমান পাল্টাপাল্টি হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে তুরস্ক। দেশটি সতর্ক করে বলেছে, এতে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ আরও তীব্র হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সোফিয়া সফরকালে এক সংবাদ সম্মেলনে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেন, ‘দুই দিন আগে শুরু হওয়া পাল্টাপাল্টি হামলায় পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠার আশঙ্কা সৃষ্টি করেছে।’

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত