ঢাকা শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

সুসংবাদ প্রতিদিন

করলা চাষে দক্ষিণাঞ্চলের কৃষকরা লাভবান

করলা চাষে দক্ষিণাঞ্চলের কৃষকরা লাভবান

উপজেলা কৃষি অফিসের এসএসিপি প্রকল্পের সহায়তা নিয়ে করলা চাষ করে বাজিমাত করেছেন চর মাদ্রাজ ইউনিয়নের কৃষক মো: হাসান। মাত্র ৭০ হাজার টাকা খরচ করে ৩ লাখ টাকার করলা বিক্রি করেছেন তিনি। এতে তিনিসহ তার পরিবার রয়েছেন পুরপুরে খোশমেজাজে। করলা বিক্রির লাভের টাকায় জমিও ক্রয় করেছেন তিনি। হাসান একজন খামারি। বিগত ৭-৮ বছর ধরে শশা, টমেটো, ধুন্দল, চিচিঙ্গা ও কাঁচামরিচসহ বিভিন্ন জাতের সবজি চাষ করে আসছেন। কিন্তু কোন মৌসুমের সবজি চাষে এবারের করলা চাষের মতো লাভবান হননি।

স্মলহোল্ডার এগ্রিকালচারাল কম্পিটিটিভনেস প্রজেক্ট (এসএসপি) প্রকল্পের আওতায় চরফ্যাশন উপজেলা কৃষি অফিস থেকে হাইব্রিড করলা বীজ, জৈব ও রাসায়নিক সার, জৈব বালাইনাইশক, মাচা তৈরির নেট, নগদ অর্থসহ বিভিন্ন উপকরণ বিনামূল্যে পেয়েছেন মো: হাসান। এসব কিছুর যথাযথ ব্যবহারে করলা চাষে ব্যাপকভাবে লাভবান হন তিনি। উৎপাদিত ফলনের ক্ষতিকারক পোকামাকড়ের আক্রমণ দমনে ব্যবহার করেন সেক্স ফেরোমন ফাঁদ। এতে তার কীটনাশক খরচ বহুলাংশে কমে যায়। ফলে আর্থিকভাবে বিপুল পরিমাণ লাভবান হন তিনি।

হাসান জানান, সর্জান পদ্ধতিতে নিচু জমিতে বেড করে করলা চাষ করেছেন। মাত্র ৫০ শতাংশ জমিতে পালি প্লাশ জাতের করলা চাষ করেন, এতটুকু জমিতেই করলার বাম্পার ফলনে তাক লাগিয়ে দেন। মার্চ মাসের শেষের দিক থেকে উচ্চ মূল্যে করলা বাজারে বিক্রি করা শুরু করেন। প্রতি কেজি করলা ৬০-৭০ টাকা ধরে পাইকারি বিক্রি করেন। এতে ৩ লাখ টাকার বেশি করলা বিক্রি হয় তার। এরইমধ্যে অনেক সবজি খামারি হাসানের সাথে যোগাযোগ করছেন করলা চাষের পরামর্শের ব্যাপারে। এছাড়াও কৃষিপ্রেমী অনেকেই তার কাছ থেকে শুনছেন করলা চাষের সফলতার গল্প। হাসানের বাড়ি উপজেলার ৩ নং চর মাদ্রাজ ইউনিয়নের মিয়াজানপুর এলাকায়। প্রতি বছর সবজি চাষ করে মোটামুটি লাভবান হলেও এবার কৃষি অফিসের সহায়তায় করলা চাষে বাজিমাত করায় হাসান উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বিশেষ করে উপজেলা কৃষি কর্মকতা কৃষিবিদ নাজমুল হুদার প্রতি বাড়তি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। প্রতিনিয়ত মোবাইল ফোনে কল করে এবং স্বশারীরে খামারে উপস্থিত হয়ে নানা পরামর্শ প্রদানসহ দেখভাল করার জন্য।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ নাজমুল হুদা বলেন, হাসান চরফ্যাশন উপজেলার একজন আদর্শ কৃষক এবং তিনি এসএসিপি প্রকল্পের একজন বেনিফিসিয়ারি। তিনি জৈব সার, জৈব বালাইনাশক, পোকা দমনে সেক্স ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহারের ফলে তার উৎপাদিত করলা নিরাপদ এবং বাজারে চাহিদাও বেশি। তিনি এই প্রকল্পের আওতায় করলা প্রদর্শনী পেয়ে করলার বাম্পার ফলন পেয়েছেন এবং ভালো দামে বিক্রি করে আর্থিকভাবে বিপুল পরিমাণ লাভবান হয়েছেন। নাজমুল হুদা আরো বলেন, এসএসিপি প্রকল্পের আওতায় করলাসহ বিভিন্ন উচ্চমূল্যের সবজি ও ফল চাষ কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং কৃষকের জীবনযাত্রার মান বাড়ছে। এভাবেই উচ্চ মূল্যের ফসলের আবাদ সম্প্রসারণে কৃষি বিভাগ কাজ করছে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত