
ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে সমর্থকদের উন্মাদনা নতুন কিছু নয়। তবে সেই উন্মাদনা যখন পারিবারিক দায়িত্ব ও অর্থনৈতিক বাস্তবতাকে ছাপিয়ে যায়, তখন তা হয়ে ওঠে উদ্বেগের কারণ।
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ পৌর এলাকার দত্তপাড়া সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা ভ্যানচালক সুমন গৌড় (৩৫), যিনি এলাকায় ‘মেসি সুমন’ নামে পরিচিত, আর্জেন্টিনার প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করতে গিয়ে ঋণের ভারে নিজের পরিবারকে ফেলেছেন চরম সংকটে।
স্থানীয়দের দাবি, ফুটবলপ্রেমের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় আসা ও ভাইরাল হওয়ার আকাঙ্ক্ষাও তার এই ব্যয়বহুল উদ্যোগের অন্যতম কারণ।
নিজস্ব কোনো জমিজমা না থাকায় স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি ঘরে বসবাস করেন সুমন। ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করলেও সীমিত আয়ের মধ্যেই তিনি স্ত্রী আরতি রাণী ও ছোট ভাইয়ের স্ত্রীর নামে গ্রামীণ ব্যাংক থেকে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছেন। ওই অর্থ দিয়ে ১৬টি বড় পতাকা, ব্যানার ও বিভিন্ন সাজসজ্জার সামগ্রী কিনেছেন।
এছাড়া খেলা উপলক্ষে সমর্থকদের জন্য বিরিয়ানি খাওয়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে তার।
জানা গেছে, এই ঋণের জন্য প্রতি সপ্তাহে প্রায় সাড়ে চার হাজার টাকা কিস্তি পরিশোধ করতে হচ্ছে। একজন ভ্যানচালকের পক্ষে মাসে প্রায় ১৮ হাজার টাকার কিস্তি বহন করা কঠিন হয়ে পড়ায় পরিবারটি আর্থিক সংকটে পড়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, অভাব-অনটনের কারণে সুমন তার নিজের ছেলেকে অন্যের বাড়িতে পাঠিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন। পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতে হিমশিম খেলেও ফুটবল আয়োজনের ব্যয় কমাতে রাজি নন তিনি।
এ বিষয়ে সুমনের স্ত্রী আরতি রাণী বলেন, সংসারে অভাব, সপ্তাহে সাড়ে চার হাজার টাকা কিস্তি দিতে হয়। অভাবের কারণে ছেলেকে অন্যের বাড়িতে পাঠিয়ে দিতে হয়েছে। তারপরও উনি মানুষের খাওয়াদাওয়ার আয়োজন বন্ধ করেননি। অনেক বুঝাইছি, কিন্তু খেলা আইলে উনি আমাগো মানুষই মনে করেন না।
তবে নিজের সিদ্ধান্তকে ভুল মনে করছেন না সুমন গৌড়। তিনি বলেন, আর্জেন্টিনা আর মেসি আমার আবেগ। এখন সবাই আমাকে ‘মেসি সুমন’ নামেই চেনে। দলকে ভালোবাসি বলেই ঋণ করে হলেও এসব আয়োজন করি। যারা খেলা দেখতে আসবে, তাদের খাওয়াদাওয়ার ব্যবস্থা করার ইচ্ছা আছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, ভিনদেশি দলের প্রতি ভালোবাসা কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিতি পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা কখনোই পারিবারিক দায়িত্ববোধকে আড়াল করতে পারে না।
তাদের মতে, অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় এমন ব্যয়বহুল আয়োজন পরিবারটির জন্য আরও বড় সংকট ডেকে আনতে পারে।