ঢাকা রোববার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

সুসংবাদ প্রতিদিন

নবীনগরে ঢ্যাঁড়শ চাষে লাভবান কৃষক

নবীনগরে ঢ্যাঁড়শ চাষে লাভবান কৃষক

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে ঢ্যাঁড়শ চাষ করে বেকারত্ব ঘুঁচিয়েছেন শিবপুর ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের যুবক সুজন মিয়া। বেকারত্বের অভিশাপ থেকে তিনি এখন পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে এনেছেন। তাঁর সাফল্যে এলাকার আরও অনেকেই স্বল্প সময় ও অল্প খরচে বেশি লাভ হওয়ায় ঢ্যাঁড়শ চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে। সরেজমিনে দেখা যায়, সুজন মিয়া নিজেই জমি থেকে ঢ্যাঁড়শ উত্তোলন করছেন। আলাপ কালে তিনি জানান, একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করতেন। বাবা অসুস্থ হওয়ায় চাকরি ছেড়ে চলে আসেন বাড়িতে। এরপর আর কোন ভাল চাকরি না পাওয়ায় বাড়ির পাশে এক বিঘা জমি লিজ নিয়ে শুরু করেন ঢ্যাঁড়শের (সবজি) চাষ। স্বল্প সময়ে এই ঢ্যাঁড়শ চাষ করে বেশ লাভবানও হয়েছেন তিনি। সুজন মিয়া বলেন- মাটি বেশ উর্বর থাকায় উৎপাদন খরচ অনেক কম হয়েছে। তার এক বিঘা জমিতে ঢ্যাঁড়শ চাষ করতে ৬/৭ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এর মধ্যেই ৫০ হাজার টাকার ঢ্যাঁড়শ বিক্রি করি। একদিন পরপর জমি থেকে ঢ্যাঁড়শ উত্তোলন করতে হয়। এতে তেমন কোন শ্রমিকের (লেবার) প্রয়োজন হয় না। জমি থেকেই পাইকারি ব্যবসায়ীরা কিনে নিয়ে যায়। তিনি আরও বলেন- আমি উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরামর্শক্রমে বারি উদ্ভাবিত জাত ‘বারি ঢ্যাঁড়শ-১’ চাষ করেছি। বাজারে ঢ্যাঁড়শের দাম ভালো থাকায় বেশ লাভবানও হচ্ছি। এ বছর ঢ্যাঁড়শের পোকাণ্ডমাকড়ের আক্রমণ কম থাকার ফলে খরচও কম হয়েছে।

উল্লেখ্য বারি ঢ্যাঁড়শ-১ হলো- সারা বছর চাষ উপযোগী সবজি। যা বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) কর্তৃক উদ্ভাবিত একটি উচ্চ ফলনশীল ও ভাইরাস প্রতিরোধী জাত। এটি আকর্ষণীয় গাঢ় সবুজ রঙের, আলবিহীন এবং একর প্রতি ৭-১০ টন ফলন দেয়। চারা রোপণের মাত্র ৪০-৪৫ দিনের মধ্যে ফসল সংগ্রহ করা যায়। প্রতি ১০০ গ্রাম ঢেঁড়সে প্রায় ৩৩ কিলোক্যালরি খাদ্যশক্তি ও ১.৭ গ্রাম আঁশ থাকে।

এ ব্যাপারে নবীনগর উপজেলা কৃষি অফিসার জাহাঙ্গীর আলম লিটন বলেন- ‘এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ঢ্যাঁড়শে পোকাণ্ডমাকড়ের আক্রমণ কম হয়েছে। আর ঢ্যাঁড়শের বিভিন্ন জাতের মধ্যে ‘বারি ঢ্যাঁড়শ-১’ এর ফলন ভালো। এটা চাষ করা লাভজনক। তবে বর্তমানে তার মতো শিক্ষিত অনেক যুবকরাই এগিয়ে আসছে। আমরা কৃষি অফিস তাদের বিভিন্ন পরামর্শ ও সহযোগিতা করব।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত