ঢাকা শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

পাল্টাপাল্টি হামলায় ইরানের সেতু ও মার্কিন বিমান ধ্বংস

পাল্টাপাল্টি হামলায় ইরানের সেতু ও মার্কিন বিমান ধ্বংস

মার্কিন হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশে হামলা চালিয়েছে ইরান। দেশটির এ হামলায় জর্ডানে থাকা একটি মার্কিন বিমানঘাঁটিকেও নিশানা করা হয়েছে। এতে ঘাঁটিতে থাকা একাধিক বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েলের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, গত রাতের মার্কিন হামলার প্রতিশোধ হিসেবে জর্ডানে মোতায়েন থাকা মার্কিন সামরিক বিমানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এসব বিমানে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানিয়েছে, বেশ কয়েকটি মার্কিন জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান ও যুদ্ধবিমান ধ্বংস করা হয়েছে। এছাড়া আরও বেশ কয়েকটি বিমানের গুরুতর ক্ষতি হয়েছে। তারা জর্ডানের জনগণকে তাদের দেশে থাকা ‘আমেরিকান স্বার্থে’ আঘাত হানার আহ্বানও জানিয়েছে।

টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, আইআরজিসির এ দাবির বিষয়ে জর্ডান বা মার্কিন সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এর আগে জর্ডান জানিয়েছে, তাদের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ছোড়া তিনটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। তবে এতে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। এদিকে বার্তাসংস্থা এএফপি জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার রাতে মার্কিন বাহিনীর হামলায় ইরানের তিনটি সেতু, একটি রেলস্টেশন এবং একটি বিমানবন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ইরানের সংবাদমাধ্যমগুলো দাবি করেছে, মার্কিন হামলায় দেশটির আরও কয়েকটি সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে ইরানের আহভাজ, কেশম, বুশেহের, দাশতি, বোস্তান, সিরিক, বন্দর-ই-লেঙ্গেহ, বন্দর-ই-খামির, বন্দর আব্বাস শহর এবং হরমুজগান প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় বড় আকারের বিমান অভিযান চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। ক্ষতিগ্রস্ত তিনটি সেতুই বন্দর-ই-খামির শহরে অবস্থিত। এছাড়া বন্দর আব্বাসের একটি রেলস্টেশন ও একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রও মার্কিন হামলার শিকার হয়েছে।

হরমুজগান প্রদেশে সড়ক, রেলপথ ও বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। ইরানের আধা সরকারি সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার হরমুজগান প্রদেশের ইরানশাহর শহরের একটি বিমানবন্দর মার্কিন হামলায় বিধ্বস্ত হয়েছে। এছাড়া কিশ দ্বীপে বিমান অভিযানের কারণে হরমুজগান প্রদেশের কিছু এলাকায় সাময়িক বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দেয়।

কুয়েতে একের পর এক হামলা, পানি শোধনাগারে ব্যাপক ক্ষতি : ইরানে প্রথমবারের মতো সামরিক স্থাপনাগুলোর পাশাপাশি সেতু, বিদ্যুৎকেন্দ্র, বিমানবন্দর ও রেলস্টেশনে হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। এর জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে একের পর এক পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরান। দেশটির এসব হামলায় কুয়েতের একটি পানি শোধনাগার ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। কুয়েতের বিদ্যুৎ, পানি ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সাম্প্রতিক হামলায় ইরান দেশটির একটি বিদ্যুৎ উৎপাদন ও পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্রকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। এতে স্থাপনাটিতে আগুন ধরে যায় এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দমকল বাহিনী আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছে। কারিগরি দলগুলো ক্ষতিগ্রস্ত ইউনিটগুলো মেরামত করে পুনরায় চালু করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ গ্রিডের স্থিতিশীলতাও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। মন্ত্রণালয় নাগরিক ও বাসিন্দাদের যৌক্তিকভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছে।

এর আগে ইরান দাবি করেছে, কুয়েতের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়ে দেশটির হাই মোবিলিটি আর্টিলারি রকেট সিস্টেম (হিমারস) প্ল্যাটফর্ম ও ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা হয়েছে। তেহরান জানিয়েছে, মার্কিন বাহিনী ও ইসরায়েল-সমর্থিত যোদ্ধারা এসব স্থাপনায় অবস্থান করছিল।

আইআরজিসি এক বিবৃতিতে বলেছে, ইরানি হামলায় ‘বিপুলসংখ্যক বিপ্লববিরোধী ও মার্কিন বিশেষ বাহিনীর সদস্য’ নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি পাল্টা অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানিয়েছে বাহিনীটি।

বার্তাসংস্থা এএফপি জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার রাতে মার্কিন বাহিনীর হামলায় ইরানের তিনটি সেতু, একটি রেলস্টেশন এবং একটি বিমানবন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ইরানের সংবাদমাধ্যমগুলো দাবি করেছে, মার্কিন হামলায় দেশটির আরও কয়েকটি সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে ইরানের আহভাজ, কেশম, বুশেহের, দাশতি, বোস্তান, সিরিক, বন্দর-ই-লেঙ্গেহ, বন্দর-ই-খামির, বন্দর আব্বাস শহর এবং হরমুজগান প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় বড় আকারের বিমান অভিযান চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী।

ক্ষতিগ্রস্ত তিনটি সেতুই বন্দর-ই-খামির শহরে অবস্থিত। এছাড়া বন্দর আব্বাসের একটি রেলস্টেশন ও একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রও মার্কিন হামলার শিকার হয়েছে।

হরমুজগান প্রদেশে সড়ক, রেলপথ ও বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। ইরানের আধা সরকারি সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার হরমুজগান প্রদেশের ইরানশাহর শহরের একটি বিমানবন্দর মার্কিন হামলায় বিধ্বস্ত হয়েছে। এছাড়া কিশ দ্বীপে বিমান অভিযানের কারণে হরমুজগান প্রদেশের কিছু এলাকায় সাময়িক বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দেয়।

এই প্রথম ইরানের সেতু, রেলস্টেশনে হামলা যুক্তরাষ্ট্রের, নিহত ৭ : গত রাতে প্রথমবারের মতো ইরানের সামরিক স্থাপনাগুলোর পাশাপাশি সেতু, বিদ্যুৎকেন্দ্র, বিমানবন্দর এবং রেলস্টেশনের মতো বেসামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে অভিযান পরিচালনা মার্কিন বাহিনী। এসব হামলায় অন্তত ৭ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ৯ জন। এক প্রতিবেদনে এএফপি জানিয়েছে, গতকাল রাতে মার্কিন বাহিনীর হামলায় ইরানের ৩টি সেতু, একটি ট্রেন স্টেশন এবং একটি বিমানবন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ইরানের সংবাদমাধ্যমগুলো দাবি করেছে মার্কিন বাহিনীর হামলায় ইরানের বেশ কয়েকটি সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এএফপির প্রতিবেদনের তথ্য অনুসারে, গত বৃহস্পতিবার রাতে ইরানের আহভাজ, কেশম, বুশেহের, দাশতি, বোস্তান, সিরিক, বন্দর-ই লেঙ্গেহ, বন্দর-ই খামির, বন্দর আব্বাস শহর এবং হরমুজগান প্রদেশের বিভিন্ন জেলায় বড় আকারে বিমান অভিযান চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। যে তিনটি সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে— সব বন্দর-ই খামির শহরের। এছাড়া বন্দর আব্বাসের একটি রেলস্টেশন এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রও মার্কিন হামলার শিকার হয়েছে।

হরমুজগান প্রদেশে শুধু সড়ক, রেলওয়ে এবং বিমানবন্দরে হামলা হয়েছে। ইরানের আধা সরকারি সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ জানিয়েছে, গত হরমুজগান প্রদেশের ইরানশাহর শহরে একটি বিমানবন্দর মার্কিন হামলায় বিধ্বস্ত হয়েছে। এছাড়া কিশ দ্বীপে বিমান অভিযানের কারণে হরমুজগান প্রদেশের কিছু এলাকা অল্পসময়ের জন্য বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল।

হামলার মাধ্যমে ইরানে মার্কিন বাহিনীর অভিযানের টানা ষষ্ঠ দিন পূর্ণ হলো। গত ১৪ জুলাই মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরে রাজি না হয়—তাহলে দেশটির সামরিক কাঠামোর পাশাপাশি বিদ্যুৎকেন্দ্র, সেতুর মত অত্যাবশ্যকীয় বেসামরিক কাঠামোগুলোকেও হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করবে মার্কিন বাহিনী। তিনি এই হুমকি প্রদানের ২ দিনের মাথায় ইরানের একাধিক বেসামরিক স্থাপনাকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করল মার্কিন বাহিনী।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনীতির সুযোগ আপাতত স্থগিত : যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে কূটনীতির পথ আপাতত স্থগিত হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন সামরিক ও কূটনৈতিক বিশ্লেষক আলেকজান্দরু হুদিস্তেনু। আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই মূল্যায়ন তুলে ধরেন। হুদিস্তেনু জানান, কূটনীতির পথটি একেবারে বন্ধ হয়ে গেছে তা নয়, বরং এটি সাময়িকভাবে স্থগিত অবস্থায় রয়েছে। তার মতে, দিনশেষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় পক্ষকেই এই যুদ্ধাবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে, কারণ এই সংঘাত কোনো পক্ষের জন্যই কল্যাণকর নয়। ফলে দুই পক্ষই শেষ পর্যন্ত একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ খুঁজবে। তবে এই বিশ্লেষক উল্লেখ করেন, এই সংকটের শুরু থেকেই ওয়াশিংটন ও তেহরানের লক্ষ্য এবং কূটনৈতিক আলোচনার ধরন নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি ছিল।

যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে আলোচনা কেমন হওয়া উচিত, তা নিয়ে শুরু থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়ার ঘাটতি ছিল।

হুদিস্তেনুর মতে, এই ভিন্নমতের কারণেই পরিস্থিতি এখন আবারও একটি ছোটখাটো সামরিক ফাঁদে রূপ নিয়েছে, যেখানে বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি আবারও উত্তেজনার মূল কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। তিনি আরও যোগ করেন, এই পরিস্থিতি সরাসরি কোনো বড় যুদ্ধে রূপ নেবে কি না সে বিষয়ে এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তবে দুই পক্ষের এই রণংদেহী মনোভাব উত্তেজনা বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। এর ফলে বিগত দুই মাসের মধ্যে বর্তমানে এই অঞ্চলটি সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত