ঢাকা শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

নিত্যপণ্যের দামে দিশাহারা সীমিত আয়ের মানুষ

নিত্যপণ্যের দামে দিশাহারা সীমিত আয়ের মানুষ

টানা বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার অজুহাতে রাজধানীর কাঁচাবাজারে বেশিরভাগ সবজির কেজি ১০০ টাকার আশপাশে। কোনো কোনো সবজি ১০০ টাকার বেশি দামেও বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া কাঁচা মরিচের দাম ৩০০ টাকা ছুঁইছুঁই। এছাড়া মাছ, মুরগি, ডিম, পেঁয়াজসহ অধিকাংশ নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে। বাজারের এ লাগামহীন উত্তাপে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন সীমিত আয়ের মানুষ। প্রয়োজনের তুলনায় কেনাকাটা ছাঁটাই করেও মাস শেষে হিসাব মেলাতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা। সাপ্তাহিক ছুটির দিন গতকাল শুক্রবার রাজধানীর একাধিক বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, টানা বৃষ্টির কারণে রাজধানীতে সবজির সরবরাহ কমে গেছে। পাশাপাশি বিভিন্ন অঞ্চলে ক্ষেতের ক্ষয়ক্ষতির প্রভাবও বাজারে পড়েছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে দাম ধীরে ধীরে কমতে পারে। রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি পেঁপে ৪০ টাকা ও পটোল ৬০ টাকা, এ দুই সবজি ছাড়া অন্য কোনো সবজি ৮০ টাকা কেজির নিচে নেই। বেশিরভাগ সবজির দাম ১০০ টাকার আশপাশে। প্রতি কেজি কচুর লতি বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়, বরবটি প্রতি কেজি ১২০ টাকা, জালি প্রতি পিস ৮০ টাকা, লাউ প্রতি পিস ১০০ টাকা, পেঁপে প্রতি কেজি ৪০ টাকা, চিচিঙ্গা প্রতি কেজি ৮০ টাকা, গাজর প্রতি কেজি ১৩০ টাকা, শসা প্রতি কেজি ১৪০ টাকা এবং পটল প্রতি কেজি ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া প্রতি কেজি কেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ২৮০ টাকায়, টমেটো প্রতি কেজি ১৬০ টাকা, করলা প্রতি কেজি ১২০ টাকা, উচ্ছে প্রতি কেজি ১৪০ টাকা, শসা প্রতি কেজি ১৬০ টাকা, বেগুন (লম্বা) প্রতি কেজি ১২০ টাকা, গোল বেগুন প্রতি কেজি ১৬০ টাকা, ঢেঁড়স প্রতি কেজি ৮০ টাকা এবং কাঁকরোল প্রতি কেজি ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে কাঁচা মরিচ। বাজারে এখন ২৪০ থেকে ২৮০ টাকা কেজিতে কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে। সব মিলিয়ে কাঁচা মরিচের দাম ৩০০ টাকা ছুঁইছুঁই। দুদিন আগে যা ছিল ২০০ টাকা। আর বন্যা-বৃষ্টির আগে ছিল ১০০ থেকে ১২০ টাকা। অর্থাৎ দাম কেজিপ্রতি প্রায় ২০০ টাকা বেড়েছে। বাজারে আসা ক্রেতা জাহাঙ্গীর আলম জানান, গত কিছুদিন তাও ৮০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে সবজিগুলো ছিল। আজকের বাজারে বেশিরভাগ সবজি ১০০ থেকে ১৬০ টাকা। সবজিই যদি এত বেশি দামে কিনে খেতে হয়, তাহলে মাছ, মাংস আর মুরগি কীভাবে কিনব? সেগুলোর তো আরও বেশি দাম। বিশেষ করে কাঁচা মরিচের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

মানভেদে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকায়। পাড়া-মহল্লার ভ্যানে তিন কেজি পাওয়া গেছে ১০০ টাকায়। এখন বৃষ্টি ও বন্যার জেরে দাম বেড়েছে এক লাফে ২৫ টাকা পর্যন্ত। প্রতি কেজি ভালো মানের বাছাই করা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়। একটু মাঝারি মানের বা তুলনায় ছোট আকারের পেঁয়াজের জন্য গুনতে হচ্ছে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা।

বাজারে মাছের দাম বেশ চড়া দেখা গেছে। মানভেদে চিংড়ির কেজি ৮০০ থেকে ৯০০, পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০, বড় আকারের রুই ৪০০ থেকে ৪৫০ ও ট্যাংরা ৬০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, তেলাপিয়া প্রতি কেজি ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা, পাঙাশ ২০০ থেকে ২২০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইন ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, চাষের কই ৩০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা এবং শোল ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে কিছুটা বেড়েছে চাষের কই, তেলাপিয়া, পাঙাশ ও মাঝারি আকারের রুই মাছের দাম। আকারভেদে চাষের শিং মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা দরে। মাঝারি আকারের রুই কেনা যাচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা দরে। এ ছাড়া, রূপচাঁদা, শোল ও নদীর বেলে মাছ কিনতে গেলে হাজারের বেশি টাকা গুনতে হবে।

মাছ বিক্রেতা বাধন খান বলেন, ‘আড়তে সরবরাহ কম, জলাবদ্ধতার কারণে মাছ ধরা সম্ভব হচ্ছে না। আড়ত থেকে আগের চেয়ে বেশি দামে মাছ কিনতে হচ্ছে। তাই বাধ্য হয়েই বেশি দামে বিক্রি করছি। সরবরাহ বাড়লে দামও কমবে।’ মাছের দামে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারাও। রয়াসাহেব বাজারের ক্রেতা মো. তুহিন মিয়া বলেন, ‘মাছের দাম ক্রমাগত বাড়ছে। সীমিত আয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে গেছে। আগে যে টাকায় কয়েক দিনের বাজার হতো, এখন তা দিয়ে এক দিনের প্রয়োজনও মেটানো যাচ্ছে না।’

একই বাজারের ক্রেতা জুলেখা বেগম বলেন, ‘মাংসের দাম অন্তত স্থির আছে, কিন্তু মাছের বাজারে এলেই নতুন দাম শুনতে হয়। বাধ্য হয়ে প্রয়োজনের তুলনায় কম মাছ কিনে ফিরতে হচ্ছে।’ বাজারে ফার্মের মুরগির ডিম ১৪০ টাকা ডজন বিক্রি হচ্ছে, যা কয়েকদিন আগে ১৩০ টাকা ছিল। আর দেড় থেকে দুই সপ্তাহ আগে ১২০ টাকাতে পাওয়া যেত। এছাড়া ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিপ্রতি ২০ টাকা বেড়ে ১৯০ থেকে ২১০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। সোনালি মুরগির কেজি ৩৫০ থেকে ৩৮০ টাকা। প্রতি কেজি গরুর মাংসের কেজি ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। খাসির মাংস কিনতে গেলে কেজিতে খরচ করতে হবে ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত