
হার্ট অ্যাটাক। বিশ্বজুড়ে অকালমৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। রোজ অসংখ্য মানুষ প্রাণ হারান হার্ট অ্যাটাকের জেরে। বেশিরভাগ মানুষের ধারণা বুকে কিংবা কাঁধ বা বাঁহাতে তীব্র ব্যথা হওয়াই বোধহয় হার্ট অ্যাটাকের একমাত্র লক্ষণ। কিন্তু বড় বিপদ ঘটার আগেই হৃদযন্ত্র অত্যন্ত গোপনে ও নিঃশব্দে কিছু সঙ্কেত পাঠায়। হৃদরোগ হওয়ার আগে শরীর অনেক ছোট ছোট সতর্কবার্তা পাঠায়। কিন্তু সচেতনতার অভাবে আমরা সেগুলোকে সাধারণ ক্লান্তি বা বয়সের কারণে হচ্ছে মনে করি। গবেষকদের মতে, এসব গোপন সঙ্কেত আগে থেকে চিনতে পারলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
পুরুষদের যৌন দুর্বলতা : চিকিৎসকদের মতে, হৃদরোগীদের মধ্যে প্রায় অর্ধেকেরও বেশি মানুষ মূল সমস্যা ধরা পড়ার আগে, এই সমস্যা দেখা দেয়। অনেক ক্ষেত্রে মূল রোগ দেখা দেওয়ার প্রায় ৫ বছর আগেই এ লক্ষণটি দেখা দেয়।
আমাদের শরীরের ছোট ধমনীগুলোতে (যেমন পেনাইল আর্টারি) রক্ত সঞ্চালন বাধা পেলে যে সমস্যা তৈরি হয়, হৃৎপিণ্ডের মূল ধমনীতেও ঠিক একই পরিস্থিতি ঘটতে থাকে। তাই কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই হঠাৎ যৌন দুর্বলতা দেখা দিলে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
সামান্য পরিশ্রমেই হাঁপিয়ে ওঠা : অল্প কয়েকটি সিঁড়ি দিয়ে ওঠা, সামান্য হাঁটাহাঁটি কিংবা ঘরের ছোটখাট কাজ করলেই দম আটকে আসে? এমন সমস্যাকে অনেকেই ‘শরীরের ফিটনেস কমে যাওয়া’ বা ‘ক্লান্তি’ ভেবে ভুল করি। চিকিৎসার ভাষায় একে ‘ডিসপনিয়া’ বলা হয়।
হৃৎপিণ্ড যে পর্যাপ্ত পরিমাণে রক্ত পাম্প করতে পারছে না অথবা ফুসফুসের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে- সেই ইঙ্গিতই দেয় এটি।
পা, গোড়ালি বা পায়ের পাতায় ফোলা ভাব : নতুন জুতা শক্ত হওয়ার কারণে বা দীর্ঘ সময় বিমানে বা বাসে বসে জার্নি করার পর পায়ে সামান্য ফোলা ভাব হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু পা, গোড়ালি বা নীচের অংশে ক্রমাগত ফ্লুইড জমতে থাকা বা ফুলে যাওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক। এর অর্থ হতে পারে আপনার হৃদযন্ত্র সঠিকভাবে রক্ত সারা শরীরে সরবরাহ করতে পারছে না, ফলে রক্ত ও পানি পায়ে গিয়ে জমছে। এটি ‘হার্ট ফেলিয়র’ বা কিডনির সমস্যার অন্যতম নীরব লক্ষণ। প্রাথমিক লক্ষণগুলো বোঝা জরুরি : হার্ভার্ড হেলথ পাবলিশিংয়ের ২০২৩ সালের পর্যালোচনা অনুযায়ী পায়ে ফোলা ভাব, অস্বাভাবিক ক্লান্তি এবং শ্বাসকষ্ট হলো হার্ট ফেলিয়রের মূল প্রাথমিক উপসর্গ। মানুষ প্রায়ই এসব লক্ষণকে বার্ধক্যের লক্ষণ ভেবে এড়িয়ে যান। সময়মতো এসব সঙ্কেত খেয়াল রেখে সঠিক লাইফস্টাইল পরিবর্তন ও চিকিৎসা শুরু করলে বড় ধরনের বিপদ এড়ানো সম্ভব।