ঢাকা রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

চট্টগ্রাম-কুনমিং করিডোর

খুলবে বাণিজ্যের নতুন দ্বার

খুলবে বাণিজ্যের নতুন দ্বার

দক্ষিণ-পশ্চিম চীন থেকে বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগরে পৌঁছানোর সম্ভাবনাময় বাণিজ্যপথ হতে পারে আলোচনাধীন কুনমিং-চট্টগ্রাম করিডোর। এটি বাস্তবায়িত হলে চীনের ইউনান প্রদেশের উদ্যোক্তাদের জন্য বাংলাদেশে বিনিয়োগ, শিল্প স্থাপন ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের নতুন সুযোগ তৈরি হবে। এই সম্ভাবনা সামনে রেখেই ইউনানের উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছে কুনমিংস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল। ‘কানেক্ট টু দ্য সাউথ, প্রসপার থ্রু ওপেন-কোঅপারেশন’ প্রতিপাদ্যে কুনমিংয়ের দ্য জেনারেল অ্যাসোসিয়েশন অব ইউনান এন্টারপ্রেনার্স-এ আয়োজিত ‘ওভারসিজ ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড ট্রেড এনভায়রনমেন্ট প্রোমোশন ইভেন্ট’-এ বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়। এ তথ্য জানিয়েছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. কামাল হোসেন।

অনুষ্ঠানে কুনমিংস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের প্রথম সচিব (বাণিজ্যিক) রিদওয়ানুর রহমান ‘বাংলাদেশ অ্যাজ অ্যান ইনভেস্টমেন্ট ডেস্টিনেশন’ বিষয়ে উপস্থাপনা করেন। তিনি বলেন, প্রতিযোগিতামূলক শ্রমশক্তি, শিল্পভূমি, জ্বালানি সুবিধা, শতভাগ বিদ্যুতায়ন এবং ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য হয়ে উঠেছে। দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও চীনের মধ্যে সংযোগকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি করছে। বিশেষ করে কুনমিং-চট্টগ্রাম করিডোরের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এই বাণিজ্যপথ বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের সঙ্গে বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগরের সরাসরি সংযোগ আরও কার্যকর হতে পারে। এতে ইউনানভিত্তিক শিল্প ও ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশের বন্দর, শিল্পাঞ্চল ও আঞ্চলিক বাজারের সুবিধা কাজে লাগাতে পারবে। রিদওয়ানুর রহমান আরও জানান, বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শতভাগ মালিকানার সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি বিনিয়োগকৃত মূলধন ও মুনাফা প্রত্যাবাসনের সুবিধাও দেওয়া হয়। চীনসহ ৩৪টি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ চুক্তি রয়েছে, যা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি তুলনামূলক স্থিতিশীল কাঠামো তৈরি করেছে। চট্টগ্রামের আনোয়ারায় নির্মাণাধীন চাইনিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) ওয়ান স্টপ সার্ভিস, রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল, হাই-টেক পার্ক এবং চার বিলিয়ন ডলারের বেশি সম্ভাবনাময় সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) প্রকল্পের কথাও অনুষ্ঠানে তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে তৈরি পোশাক, ওষুধ, ইলেকট্রনিকস, বৈদ্যুতিক যানবাহন, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, লজিস্টিকস এবং তথ্যপ্রযুক্তি সেবার কথা উল্লেখ করা হয়।

সৌরবিদ্যুৎ, জ্বালানি সংরক্ষণ প্রযুক্তি এবং পরিবেশবান্ধব নির্মাণ খাতেও চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগের বিশেষ সুযোগ রয়েছে বলে জানান রিদওয়ানুর রহমান। অনুষ্ঠান শেষে ইউনানের উদ্যোক্তারা বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে কনস্যুলেটের বাণিজ্যিক উইংয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। কুনমিংস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল জানিয়েছে, ইউনানের পাশাপাশি সিচুয়ান, চংচিং, গুইঝো ও গুয়াংশির সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও জোরদারে কাজ করছে তারা।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত