ঢাকা শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

ইউনিয়ন পরিষদে 'দলীয়' প্রশাসক নিয়ে জামায়াতের উদ্বেগ

ইউনিয়ন পরিষদে 'দলীয়' প্রশাসক নিয়ে জামায়াতের উদ্বেগ

সরকার ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ অব্যাহত রাখায় 'তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ' জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিলম্বিত করার 'হীন উদ্দেশ্যে' সরকার প্রশাসক নিয়োগ অব্যাহত রেখেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে তিনি এই প্রশাসকদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করার দাবি জানিয়েছেন।

গোলাম পরওয়ার বলেন, চব্বিশের জুলাই বিপ্লবের পর ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ ও গণভোটের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশ গণতান্ত্রিক পথে ফিরে আসে। জনগণের আকাঙ্ক্ষা হল, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায়ও দ্রুত নির্বাচিত প্রতিনিধিরা দায়িত্ব পালন করবেন এবং জনগণের সেবা দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে। 'কিন্তু বিএনপি সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর গণভোটের গণরায়কে উপেক্ষা করার পর স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় কর্তৃত্ববাদী হয়ে ওঠার হীন আকাঙ্ক্ষা নিয়ে স্থানীয় নির্বাচনকে প্রলম্বিত করার উদ্দেশে সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদের পর ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ অব্যাহত রেখেছে, যা জাতির জন্য চরম উদ্বেগের।'

বিবৃতিতে বলা হয়, দেশে সাড়ে ৪ হাজারের বেশি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে বর্তমানে নির্বাচনযোগ্য ইউনিয়নের সংখ্যা ৩১১টি। 'অথচ সরকার নির্বাচন আয়োজনের দিকে অগ্রসর না হয়ে এখনো দলীয় প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে যাচ্ছে, যা জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ও ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করার নীলনকশা।' গত দুই মাসে সাতটি নবগঠিত ইউনিয়নসহ অন্তত ৩৮টি ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়ার তথ্য তুলে ধরে গোলাম পরওয়ার বলেন, 'আশ্চর্যজনক হল, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ ইউনিয়নে ১২ জন বিএনপি নেতা-নেত্রীকে পরিষদের সদস্য হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। এটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পথকে দীর্ঘমেয়াদে রুদ্ধ করার ষড়যন্ত্রের অংশ।' ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে সরকার 'গভীর ষড়যন্ত্র' করছে বলে অভিযোগ করেন জামায়াতের অন্যতম শীর্ষ নেতা পরওয়ার।

তার ভাষ্য, 'স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম চলতি বছরের মধ্যে দেশে স্থানীয় সরকারের পাঁচটি স্তরে নির্বাচন করার কথা জানালেও বছরের চারমাস বাকি থাকতে ইউনিয়ন পরিষদগুলোয় এখনো প্রশাসক বসানো অব্যাহত রেখেছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। এটি জাতির সাথে স্পষ্ট প্রতারণা এবং দলীয় নেতাকর্মীদের লুটপাটের সুযোগ করে দেওয়ার নামান্তর এবং আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অবৈধ সুবিধা গ্রহণের পথ তৈরির হীন কৌশল।'

স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিলম্বিত না করে সকল স্তর থেকে দলীয় প্রশাসক প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে জামায়াতে ইসলামীর বিবৃতিতে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত