ঢাকা শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ভোটব্যাংক ভাবার ধারণা ভেঙে চুরমার

বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ভোটব্যাংক ভাবার ধারণা ভেঙে চুরমার

সনাতন ধর্মাবলম্বীরা একটি নির্দিষ্ট দলের 'ভোট ব্যাংক'। এটি দিয়ে একটি দল রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চেয়েছিল। কিন্তু দেশের সচেতন জনগণ সেই ভুল ধারণা ও কৃত্রিম মিথ ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। গতকাল শুক্রবার বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার পলাশী মোড় থেকে শুরু হওয়া জন্মাষ্টমী উপলক্ষে র‍্যালিতে অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি ও বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ এ আয়োজন করে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ধর্ম বা অন্য কোনো বিভাজনের ভিত্তিতে নয়, বরং দেশের প্রতিটি মানুষ নাগরিকত্বের ভিত্তিতেই সমান অধিকার ও নিরাপত্তা ভোগ করবে। বাংলাদেশে বসবাসকারী কোনো জনগোষ্ঠী বা সম্প্রদায়ের মানুষকে আর 'সংখ্যালঘু' হিসেবে পরিচিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। তিনি বলেন, আমাদের সবার প্রধান ও প্রথম পরিচিতি হওয়া উচিত 'আমরা সবাই বাংলাদেশি'।

অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, আমাদের নেতা স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন 'সবার আগে বাংলাদেশ'। যদি তাই হয়, তবে আমরা প্রত্যেকে 'সবার আগে বাংলাদেশি'। আমাদের ধর্মীয়, সামাজিক কিংবা নৃগোষ্ঠীগত পরিচয় এর পরে আসবে। রাষ্ট্র পরিচালনায় সরকারের মূল নীতিই হলো সবার জন্য বাংলাদেশ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অতীতে অনেকে মনে করত, সনাতন ধর্মাবলম্বীরা একটি নির্দিষ্ট দলের 'ভোট ব্যাংক'। এটি দিয়ে তারা রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চেয়েছিল। কিন্তু দেশের সচেতন জনগণ সেই ভুল ধারণা ও কৃত্রিম মিথ ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর গত ছয় মাসে দেশের সকল ধর্মের মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং আচার সুনিশ্চিত করা হয়েছে। সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, জনগণই বিচারক। তারা এরইমধ্যে রায় দিয়েছেন এবং আগামীতেও গণতন্ত্রকে সুদৃঢ় রাখতে এবং সব ধরনের অসুর শক্তি ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকবেন। সংবিধান ও ধর্মীয় অধিকারের গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্র প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে বাধ্য। সংবিধানের চেতনা অনুযায়ী ধর্মের ভিত্তিতে কোনো প্রকার বৈষম্য করা যাবে না।

তিনি বলেন, সকল ধর্মীয় উপাসনালয় এবং সেখানে দায়িত্বপ্রাপ্তদের পূর্ণ নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। সরকার এসব কথা কেবল সংবিধানে সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না, বাস্তবেও সাম্য ও সম্প্রীতি নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। ভাষার ব্যবহারে পরিবর্তন আনার আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা সচরাচর 'সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি' শব্দটি ব্যবহার করি। কিন্তু আমি মনে করি 'সাম্প্রদায়িক' শব্দটির আর প্রয়োজন নেই। এখন থেকে বলতে হবে আমরা ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি, সহাবস্থান এবং শান্তি বজায় রাখব। এই ইতিবাচক চর্চাই সমাজকে আরও সুন্দর করবে।

মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি গোপাল চন্দ্র দেবনাথের সভাপতিত্বে সমাবেশ ও মিছিলে উদ্বোধক হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম।

সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বিষয়ক বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার এবং ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান। অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা দেন হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান তপন চন্দ্র মজুমদার, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) জয়ন্ত কুমার কুণ্ডু, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর ও সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শুভাশীষ কুমার বিশ্বাস (সাধন)। অনুষ্ঠানের শুরুতে মঙ্গল প্রদীপ জ্বালিয়ে মিছিলের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম। জন্মাষ্টমীর মিছিলটি পলাশী মোড় (ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মেলাঙ্গন) থেকে শুরু হয়ে বাহাদুর পার্কে গিয়ে শেষ হয়।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত