ঢাকা শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

অনুশীলনে দুর্ঘটনা

নিহত দুই সেনা সদস্যকে সামরিক মর্যাদায় দাফন

নিহত দুই সেনা সদস্যকে সামরিক মর্যাদায় দাফন

ছোটবেলা থেকেই শান্ত স্বভাবের পিয়াস ছিলেন সবার প্রিয়; চার বোনের একমাত্র ভাইটির এমন করুণ মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না নোয়াখালীর সুন্দলপুর গ্রামের মানুষ। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে গ্রামের বাড়ির প্রাঙ্গণে জানাজা শেষে সেনাসদস্য আবু বকর সিদ্দিক পিয়াসের লাশ রাষ্ট্রীয় ও সামরিক মর্যাদায় সমাহিত করা হয়। এদিন সকালে চট্টগ্রাম থেকে সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারে করে পিয়াসের লাশ নোয়াখালী শহীদ ভুলু স্টেডিয়ামে এসে পৌঁছায়। সেখান থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে লাশ নেওয়া হয় কবিরহাট উপজেলার সুন্দলপুর ইউনিয়নের মালিপাড়া গ্রামের বাড়িতে। লাশ বাড়িতে পৌঁছানোর পর স্ত্রী, শিশুসন্তান, মা ও বোনদের শেষবারের মতো দেখানো হয়। তখন পুরো এলাকায় এক হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। পরে মুন্সি সর্দার বাড়ির সামনে জানাজা শেষে সেনাবাহিনীকে তাকে রাষ্ট্রীয় সালাম ও 'গার্ড অব অনার' জানানো হয়।

স্বজনরা জানায়, পিয়াস ছিলেন চার বোনের একমাত্র ভাই। তিনি স্ত্রী, বাবা-মা ছাড়াও ১৮ মাস বয়সী কন্যাসন্তান ফাতেমাকে রেখে গেছে। সেও বাবার লাশ দেখেছে। কিন্তু সে বুঝতে পারছে না, তার বাবা আর কোনোদিন ফিরে আসবে না। বাবা আর তাকে কোলে তুলে নেবে না। আইএসপিআরের ভেরিফায়েড ফেইসবুক পাতায় গত বুধবার দুপুরে বলা হয়, ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের সময় এই 'আকস্মিক দুর্ঘটনা' ঘটে। এতে বলা হয়, দুর্ঘটনায় আহত কর্মকর্তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারযোগে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে। দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

মায়ের কবরের পাশে চিরশায়িত সেনাসদস্য রিফাত : রাজশাহীর পবায় মায়ের কবরের পাশে সমাহিত হলেন চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ফায়ারিং অনুশীলনকালে দুর্ঘটনায় নিহত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্য (গানার) তাসনিম রিফাত। গতকাল বৃহস্পতিবার বাদ জোহর নিজ গ্রামে জানাজা শেষে সামরিক মর্যাদায় পারিবারিক কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়।

সকালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ হেলিকপ্টারে করে তাসনিম রিফাতের লাশ চট্টগ্রাম থেকে প্রথমে রাজশাহী সেনানিবাসে আনা হয়। পরে সেখান থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে তার লাশ নেওয়া হয় জন্মস্থান পবা উপজেলার দামকুড়া ইউনিয়নের বিন্দারামপুর গ্রামের বাড়িতে।

লাশ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে স্বজন ও গ্রামবাসীর মধ্যে নেমে আসে শোকের ছায়া। শেষবারের মতো প্রিয়জনকে দেখতে বাড়িতে ভিড় করেন আশপাশের এলাকার মানুষ। স্বজনদের কান্না ও আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। পরে সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এবং পরিবারের সদস্য, আত্মীয়-স্বজন ও হাজারো গ্রামবাসীর অংশগ্রহণে তাসনিম রিফাতের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে তাকে সামরিক মর্যাদায় গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। সামরিক আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে মায়ের কবরের পাশে তাকে সমাহিত করা হয়।

তাসনিম রিফাত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আর্মড কোরের ১৫ স্বতন্ত্র সাঁজোয়া স্কোয়াড্রনের সদস্য ছিলেন। গত বুধবার দুপুর ১২টার দিকে চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে ট্যাংক ফায়ারিং অনুশীলনের সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে। অনুশীলনের সময় ট্যাংকের ভেতরে একটি গোলা বিস্ফোরিত হলে তাসনিম রিফাতসহ দুই সেনাসদস্য ঘটনাস্থলেই নিহত হন। মাত্র ২৮ বছর বয়সে তাসনিম রিফাতের এই মৃত্যুতে শোকে স্তব্ধ তার পরিবার ও স্বজনরা। গত বছর আগে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে তার মা মারা যান। ছেলেকে হারিয়ে নির্বাক হয়ে পড়েছেন বাবা আসাদুল ইসলাম। রিফাত স্ত্রী ও এক শিশু কন্যা সন্তান রেখে গেছেন। স্বামীকে হারিয়ে স্ত্রী এবং বাবাকে হারিয়ে ছোট্ট মেয়েটির ভবিষ্যৎ নিয়েও শোকাহত স্বজনরা।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত