
সুস্থ থাকার জন্য আমাদের প্রচেষ্টা নিরন্তর। কেউ অসুখে ভুগতে চায় না। তবু আমাদের নানা অসাবধানতার কারণে নানা অসুখ-বিসুখ দেখা দিতে পারে। এক্ষেত্রে ঘরোয়া উপায় সহায়ক হতে পারে। তবে আপনি যা-ই শুনে থাকুন না কেন বা যতই আরাম পেতে চান না কেন, যেকোনো ঘরোয়া প্রতিকার চেষ্টা করার আগে আপনার ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টের সঙ্গে কথা বলুন।
পুদিনা : পুদিনা শত শত বছর ধরে স্বাস্থ্য প্রতিকার হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। পুদিনার তেল ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোমে (IBS) সাহায্য করতে পারে। এটি একটি দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা যা পেটে ব্যথা, পেট ফাঁপা, গ্যাস, ডায়রিয়া এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণ হতে পারে। এই তেল মাথাব্যথার জন্যও ভালো হতে পারে। এটি কতটা এবং কেন সাহায্য করে তা জানতে আরও গবেষণার প্রয়োজন। মানুষ অন্যান্য রোগের জন্যও এর পাতা ব্যবহার করে, কিন্তু সেগুলোর কোনোটিতেই এটি সাহায্য করে এমন প্রমাণ খুব কমই আছে।
মধু : এ প্রাকৃতিক মিষ্টি ওষুধের মতোই কাশির জন্য সমানভাবে কাজ করে। এটি বিশেষ করে সেসব শিশুদের জন্য সহায়ক হতে পারে যারা ওষুধ খাওয়ার জন্য যথেষ্ট বড় নয়। কিন্তু এটি এক বছরের কম বয়সী কোনো শিশুকে দেবেন না। এতে এক ধরনের বিরল কিন্তু গুরুতর খাদ্য বিষক্রিয়ার সামান্য ঝুঁকি থাকে যা তাদের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। আর যদিও আপনি হয়তো শুনে থাকবেন যে মধু অ্যালার্জিতে সাহায্য করতে পারে, গবেষণায় এর কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
হলুদ : এ মসলাটি আর্থ্রাইটিস থেকে শুরু করে ফ্যাটি লিভারের মতো বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় সাহায্য করতে পারে বলে মনে করা হয়। এর সমর্থনে কিছু প্রাথমিক গবেষণাও রয়েছে। আলসার নিরাময় এবং রেডিয়েশনের পরে ত্বকের র্যাশ সারাতে সাহায্য করার মতো অন্যান্য দাবির কোনো প্রমাণ নেই। যদি আপনি এটি ব্যবহার করেন, তবে অতিরিক্ত ব্যবহার করবেন না। অতিরিক্ত হলুদ হজমের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।
আদা : এশীয় চিকিৎসায় এটি হাজার বছর ধরে পেটব্যথা, ডায়রিয়া এবং বমি বমি ভাবের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে। গবেষণায় দেখা গেছে যে এটি বমি বমি ভাব এবং বমির ক্ষেত্রে কাজ করে। কিছু প্রমাণ রয়েছে যে এটি মাসিকের ব্যথা কমাতেও সাহায্য করতে পারে। কিন্তু এটি সবার জন্য ভালো না-ও হতে পারে। কিছু লোকের এর কারণে পেটের সমস্যা, বুকজ্বালা, ডায়রিয়া এবং গ্যাস হয় এবং এটি কিছু ওষুধের কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করে। তাই আপনার চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন এবং সতর্কতার সঙ্গে এটি ব্যবহার করুন।